১৫ ভাদ্র ১৪১৮ বৃহস্পতিবার ১ সেপ্টেম্বর ২০১১


কলকাতা
কলুটোলার রায়বাড়ির দুর্গাপুজো
কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ ছড়িয়ে রয়েছে অনেক বনেদিবাড়ির পুজো। প্রাধান্য লক্ষ করা যায় উত্তরেই। এমনই উল্লেখযোগ্য কলুটোলার রায় বাড়ির দুর্গাপুজো। বর্তমানে স্বর্গীয় বদনচাঁদ রায় ট্রাস্টের নামে পুজো হয়। পঞ্চম প্রজন্ম এখন পুজোর হাল ধরেছে। মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা বলে প্রতিবেশী বহু মুসলমান এই পুজোতে অংশ নেয়। ধর্ম বাধ মানে না এই ক’টা দিন। এমনই অনেক জানা-অজানা তথ্য দিলেন বর্তমান ট্রাস্ট-সদস্য ডঃ সাগরলাল রায়।
পুজোর শুরু
দেড়শো বছরের পুরনো এই পুজো শুরু হয় ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে। স্বর্গীয় বদনচাঁদ রায় ছিলেন এই পুজোর মূল উদ্যোক্তা। কলুটোলার বাড়িতেই পুজোর শুভারম্ভ করেন তিনি। প্রথাগত নিয়ম মেনেই পুজো হয়ে আসছে। ব্যতিক্রম ছিল ১৯৪৬ সাল। জাতিগত দাঙ্গার কারণ সে বছর জোড়াসাঁকো নিবাসি স্বর্গীয় অনন্ত রায়ের বাসভবনে পুজো করতে বাধ্য হয় রায় পরিবার।

পুজোর বৈশিষ্ট্য
প্রতি বছর উল্টোরথের দিন গরান কাঠের খুঁটি পুজো দিয়ে শুরু হয় মূর্তি গড়া। প্রতিষ্ঠিত বেদির উপরেই তৈরি হয় একচালা দুর্গা মূর্তি। পাঁচ খিলান বিশিষ্ট দেবদালানেই তৈরি হয় এ বাড়ির প্রতিমা।

বোধন শুরু হয় মহালয়ার পরের দিন থেকে। আর ষষ্ঠীর সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় দেবীর আরাধনা। সপ্তমীর দিন মহাভোজের আয়োজন করা হয়। অষ্টমীর সকালে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ায় ছোট বড় সকলের উৎসাহের অন্ত থাকে না। সন্ধ্যারতির আগে ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। এর পর সন্ধি পুজোর প্রস্তুতি শুরু। বলির রেওয়াজ আছে ঠিকই, তবে প্রাণী নয়, হয় ফল বলি।

অষ্টমী ও সন্ধি পুজোতে নৈবেদ্য স্বরূপ ২ মণ আতপ চাল, ১ মণ চিনি ও ১০৮ টি ডাব দেওয়া হয়। প্রথম দিকে এই চাল পুরোহিতেরা নিয়ে যেতেন। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে কিছুটা তাঁদের দেওয়ার পর বাকি চাল কোনও অনাথ আশ্রমে দান করা হয়।

এ দিন পরিবারের বিবাহিত মহিলারা একটি বিশেষ আচার পালন করেন সকলের মঙ্গল কামনার্থে। প্রত্যেকে নথ পরে অংশ নেন ‘ধুনো পোড়ানো’ অনুষ্ঠানে। দু’হাতে দু’টি ও মাথায় একটি ধুনুচি নিয়ে দেবদেউলের সামনের প্রাঙ্গনে তারা মায়ের আরতি করেন।

দশমীর দিন বাচ্চাদের আনন্দ দিতে বাতাসা, টফি ছড়ানো হয়। আগে খুচরো পয়সা ছড়ানো হত। পুজোর দিনগুলিতে আগে ফানুসও ছাড়া হত। দেবীর বিসর্জন নিয়ম মেনে দশমীর দিনই হয়ে থাকে। সেই দিন মহিলারা মেতে ওঠেন চিরাচরিত সিঁদুর খেলায়।

ভোগ বিশেষত্ব
সপ্তমী থেকে নবমী প্রতিদিনই ভোগ হয় কচুরি। এছাড়াও সপ্তমীতে বোঁদে ও অষ্টমীতে গজা ভোগ হিসাবে দেওয়া হয়। চালের তৈরি কোনও জিনিস ভোগে দেওয়া যাবে না বলে বোঁদের পরিবর্তে গজা দেওয়া হয়।

সপ্তমী-অষ্টমীতে চিরাচরিত নিরামিষ ভোগের আয়োজন হলেও নবমী ও দশমীর দিন রায়বাড়িতে মাছ খাওয়ার রীতি আছে। নুন ছাড়া ‘আলোনা’ ভোগ রান্না করেন বাড়ির ঠাকুর।

তথ্য: রানা দত্তগুপ্ত
ছবি: শেলী মিত্র
 
হাওয়াবদল
উত্তর ২৪ পরগনা
• শ্যামনগরের ঘটকবাড়ি
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি
উত্তর ২৪ পরগনা: বারাসত
• শিবের কোঠায় মোগল বধূর পুজো
• শিবানন্দ রোডের গুহবাড়ি
কলকাতা
• কলুটোলা রায়বাড়ি
কলকাতা: বেহালা
• হালদারবাড়ি
• মুখোপাধ্যায়বাড়ি
হুগলি: আরামবাগ
• ব্যানার্জি পাড়ার পুজো
• গড়বাড়ির রাজপরিবারের পুজো
• রাংতাখালির প্রাচীন পুজো
হাওড়া
• জগৎবল্লভপুরের রায় পরিবার
• আমতার ন্যায়রত্ন পরিবার
মেদিনীপুর
• তমলুকের ভট্টাচার্যবাড়ি
• রোহিণীগড়ের দুর্গাপুজো
বধর্মান
• কাঞ্চননগরের দাসবাড়ি
• রাধাবল্লভ জীউ মন্দিরের পুজো
বধর্মান: কাটোয়া
• চৌধুরীবাড়ি
• গঙ্গাটিকুরির বন্দ্যোপাধ্যায়বাড়ি
পুরুলিয়া
• গড় পাথর মহড়া রাজবাড়ি
• বিষ্ণুপুর রাজবাড়ি
• ছাতনার রাজবাড়ি
বীরভূম
• বসাকবাড়ি
• সরকারবাড়ি
মুর্শিদাবাদ
• বহরমপুর আদিদুর্গা পুজো
• কৃষ্ণনগরের চট্টোপাধ্যায় পরিবারের পুজো
• ডোমকল জমিদারবাড়ির পুজো
উত্তরবঙ্গ: রায়গঞ্জ
• রায়চৌধুরী পরিবারের পুজো
• দক্ষিণ বীরনগরের সাহাবাড়ি
উত্তরবঙ্গ: কোচবিহার
• রামেন্দ্র ভবনের পুজো
• দিনহাটার সাহাবাড়ি
উত্তরবঙ্গ: জলপাইগুড়ি
• ভুঁইয়াবাড়ি
• কামারপাড়ার নিয়োগীবাড়ি