আপনার কলমে


সৌন্দর্য সোহাগী সিঙ্গাপুর
ক দিন অসময়ে বেজে উঠল মোবাইল। চমকে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখি, অফিস থেকে কর্তাবাবুর ফোন! আমাকে অবাক করে তিনি জানালেন, সিঙ্গাপুরের সেন্টোসা আইল্যান্ডে ক’দিনের কনফারেন্স— আমরা যদি যেতে চাই, তা হলে তাড়াতাড়ি জানাতে হবে।

আমার ‘হ্যাঁ’ শোনার পর একে একে বুকিং হল বিমানের টিকিট, হোটেল।

প্রথম দিন
পেনাং থেকে উড়ানে সোজা সেন্টোসা দ্বীপ। বিমানবন্দরের সমস্ত রকম নিয়ম শেষে বাইরে থেকে ট্যাক্সি ধরে চললাম রিসর্টস ওয়ার্ল্ডের হোটেল ফেস্টিভ-এর উদ্দেশে। যাওয়ার পথ খুবই সুন্দর— ঝকঝকে, দু’ধারে একই মাপের বড় বড় গাছ ছাতার মতো ছায়া দিয়ে রেখেছে নীচের বাহারি ফুল গাছের সারিগুলিকে। বড়গাছগুলো আমার অচেনা। চা গাছের শিকড় উল্টো করলে যেমন হয়, দেখতে ঠিক তেমনই। ট্যাক্সিচালককে জিজ্ঞাসা করে জানলাম এগুলি ‘রেন ট্রি’।

সিঙ্গাপুর আসলে মানুষের তৈরি কংক্রিটের এক দ্বীপ। খুব আশ্চর্যের বিষয়, প্রকৃতি এদের গড়েনি, উল্টে এরাই গড়ে তুলেছে প্রকৃতিকে— গাছপালা, ঝরনা, বৃষ্টি অরণ্য দিয়ে সাজিয়েছে গোটা দ্বীপটিকে। চলতে চলতে দেখলাম স্থাপত্য শিল্পের অত্যাধুনিক নমুনা— মেরিনা বে স্যান্ডস হোটেল, যেখানে ২০১২ সালের শুরুতে উড়ে এসেছিল গোটা ‘বলিউড’, এক বিশেষ অনুষ্ঠানে।

সেন্টোসাতে ঢোকার মুখে এক চেকপোস্টে গাড়ি থামল। পর্যটক হলে এখানে হোটেল বুকিং-এর কাগজ দেখানোটা অত্যন্ত জরুরি। আর ট্যুরিস্ট হোক বা নাগরিক, পরিচয়পত্র থাকা বা না থাকার উপর নির্ভর করে শাস্তি। প্রথম বার ধরা পড়লে ১ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা, এবং দ্বিতীয় বার সোজা আদালতে। সবাই নিয়ম মেনেই চলে এখানে। নিজেদের দেশ নিয়ে এরা গর্বিতও বটে। ইংরেজিকে প্রায় মাতৃভাষা করে তুলেছে। পরিষ্কার রাস্তাঘাট, ঝাঁ চকচকে ‘পাবলিক প্লেস’-এ কেউ ধূমপান করে না।

‘দ্য থিঙ্কার’-এর প্রতিমূর্তি

এলিফ্যান্ট

আদম-ইভের মূর্তি
রিসর্টস ওয়ার্ল্ডের পাঁচতারা বিলাসবহুল হোটেলে পা দিতেই হোটেল কর্মীরা আমাদের ব্যাগপত্র পৌঁছে দিয়ে এলেন ঘরে। আর আমরা ‘হোটেল ডেস্ক’ থেকে একটি মানচিত্র চেয়ে নিলাম। ঘোরার জন্য সেন্টোসাকে তিন ভাগ করলাম— মারলায়ন, ইমাবিয়া লকআউট ও আন্ডার ওয়াটার ওয়ার্ল্ড। রিসর্টস ওয়ার্ল্ডে আছে চারটে পাঁচতারা হোটেল— হার্ডরক হোটেল, ফেস্টিড হোটেল, হোটেল সাইকেলে এবং ক্রকফোর্ডস টাওয়ার। হোটেলগুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত একটি লম্বা বারান্দার মাধ্যমে, যার পোশাকি নাম ‘ফেস্টিভ ওয়াক’। শীতাতপ এই পথের দু’পাশে আছে নামীদামি ব্র্যান্ডের সুসজ্জিত দোকান, সিলিং জুড়ে নানান বর্ণের অপূর্ব সব ঝাড়বাতি। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ ঝলসে ঝলসে উঠছিল ভিনদেশি পর্যটকদের। সময় নষ্ট না করে বেরিয়ে পড়লাম সেন্টোসা দেখতে। হাঁটতে হাঁটতে যে জায়গায় এসে পৌঁছলাম, সেখানে রাখা আছে স্যালভাদোর দালির ভাস্কর্য— এলিফ্যান্ট ও আদম-ইভের মূর্তি, আর ঠিক বাইরে রদ্যাঁর ‘দ্য থিঙ্কার’-এর প্রতিমূর্তি। এর পাশ দিয়ে এস্কালেটরে উপরে উঠেই মারলায়ন— সিংহ ও মাছের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে ঢুকলাম মারলায়নের পেটের ভিতর। অন্ধকার গুহার এক পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে জলের ধারা। অন্য পাশে, উপর থেকে ঝোলানো আছে ড্রাগন ও মত্স্যকন্যাদের মূর্তি। ঘুটঘুটে অন্ধকারে আলোর কারসাজিতে একটা ড্রাগনের লাল চোখ শুধু দেখা যাচ্ছে! এ বারে লিফটে করে পৌঁছলাম সোজা মারলায়নের মুখের মধ্যে— সিংহের মুখে মানুষ! মাটি থেকে অনেকটা উপরে উঠে গিয়েছি— নীচের মানুষগুলোকে ঠিক পিঁপড়ের মতো লাগছিল! দূরে নীল সমুদ্র। এক সময় নেমে এলাম। খুব খিদে পেয়েছে। এ বার না খেলেই নয়। মারলায়ন প্লাজায় গেলাম পেটপুজোর জন্য।

দিনের দ্বিতীয় দফার ঘোরাঘুরি সারলাম মনোরেল চড়ে! এক সময় ইমবিয়া স্টেশনে নেমে পায়ে হেঁটে পৌঁছলাম ইমবিয়া লুকআউট-এ। সেখান থেকে একে একে মিউজিয়াম, বাটারফ্লাই পার্ক, নেচার ওয়াক, টাইগার স্কাই টাওয়ার ও সিঙ্গাপুর কেবলকার। টাইগার স্কাই টাওয়ারের কাচে ঢাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ডেকের ভিতর ইংরেজি ধারাভাষ্য ও দূরের দৃশ্যপটে মোহময় হয়ে ওঠে পরিবেশ। ঘুরন্ত এই ডেক নিয়ে যায় একেবারে টাওয়ারের মাথায়। সেখান থেকে নেমে চড়ে বসলাম কেবলকারে। সমুদ্রের উপর দিয়ে চলমান এই কেবল থেকে দেখা যায় দিগন্তের সৌন্দর্য। সন্ধে হয়ে আসছিল। চার পাশের শহরে তখন একে একে জ্বলে উঠছে আলো। রাতের আলোয় মারলায়নও নিয়েছে অন্য এক রূপ। কেবল থেকে নেমে এসে অনেকটা পথ চলতে হবে হোটেলের জন্য, কিন্তু পা যেন আর চলতে চায় না!

দ্বিতীয় দিন
সকাল সকাল স্নান, জলখাবার সেরে গেলাম ইউনিভার্সাল স্টুডিওয়। সেখানে লম্বা লাইন দেখে ফিরে যাব ভেবেছিলাম। ভাগ্যিস যাইনি! নিউ ইয়র্ক, দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড, ফার ফার অ্যাওয়ে, মাদাগাস্কার, অ্যানসিয়েন্ট ইজিপ্ট, হলিউড আর সাই-ফাই সিটি— মোট ৭টি স্টুডিও। আক্ষরিক অর্থে এটি সিনেমার জগত্। সঙ্গে অসংখ্য ‘রাইড’— রিভার র‌্যাফটিং, রোলার কোস্টার আরও কত কী! সারা দিন কেটে গেল ভিতরে। খিদে ও ক্লান্তি কাটাতে আছে একাধিক রেস্তোরাঁ ও ঠান্ডা পানীয়ের দোকান। ফলের রসে মাঝেমাঝে গলা ভিজিয়ে নিতে বেশ লাগছিল। ক্লান্ত শরীরে হোটেলের ঘরে ফিরে খানিক বিশ্রাম নিয়ে রাতে গেলাম ওয়াটার ফ্রন্টের ‘ক্রেন ড্যান্স’ দেখতে। এই ‘অ্যানিমেট্রনিক্স’ শো দর্শনে কোনও দক্ষিণা লাগে না, তাই আগে ভাগে না পৌঁছলে জায়গা পাওয়া খুবই কঠিন। দু’টো বড় বড় যান্ত্রিক সারস পাখির নীচে, দশতলা উঁচু জলের ফোয়ারা— অ্যানিমেশন ও লেজারের সুদক্ষ ব্যবহারে দশ মিনিটের এক অপূর্ব অনুষ্ঠান। প্রতি দিন রাত ন’টায় এই শো শুরু হয়, মঙ্গলবার ছাড়া। ওখান থেকে এসে বসলাম রিসর্টস ওয়ার্ল্ডের লেক অফ ড্রিমসের পাশে। রিসর্টস ওয়ার্ল্ডের ক্যাফেতে রাতের খাওয়া সেরে শেষ হল সান্টোসার দ্বিতীয় দিন।

তৃতীয় দিন
খুব সকালে পৌঁছলাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর— আমার স্বামীর এক প্রাক্তন চৈনিক ছাত্রী ফং লি-র আমন্ত্রণে। খুব উত্সাহ নিয়ে সে ইউনিভার্সিটি ঘুরিয়ে দেখাল আমাদের। সারা দিনের জন্য তিন জনের ‘প্যাকেজ টিকিট’ কেটে ঘোরা হল চিড়িয়াখানা, নাইট সাফারি এবং বার্ড পার্ক। যথা সম্ভব প্রাকৃতিক পরিবেশে রাখা হয়েছে এখানকার জীবজন্তুদের। দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে এক একে দেখলাম ‘আয়ন অরচার্ড’, লিটল্ ইন্ডিয়া, মুস্তাফা, আরব স্ট্রিট, চায়না টাউন, সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার এবং মারিনা বে স্যান্ডস-এর ৩ নম্বর টাওয়ারের ৫৬ তলার স্কাই পার্ক, ফ্লায়ার (আই অফ লন্ডনের অনুকরণে বানানো)। রাত ৮টার সময় সপরিবারে সিলোসো বিচে গেলাম ‘সঙ্গস অব দ্য সি’ দেখতে— লেজার, আতসবাজি, জল, শব্দ ও আলোর এক অত্যাধুনিক পরিবেশনা। অসম্ভব প্রাণবন্ত ও সুন্দর। বিশাল গ্যালারি পরিপূর্ণ দর্শকে আর মুহুর্মুহু করতালিতে কখন যে কেটে গেল ২৫ মিনিট, বোঝাই গেল না!

চতুর্থ দিন
সমুদ্র জগতের সঙ্গে পরিচিত হতে আজকের গন্তব্য আন্ডার ওয়াটার ওয়ার্ল্ড। এখানকার ‘ডলফিন শো’ সত্যিই মনে রাখার মতো। ওখান থেকে বেরিয়ে কিছু ক্ষণ সিলোসো বিচে কাটিয়ে গেলাম জুরং বার্ড পার্ক। এই পাখিরালয়টি ঠিক সেন্টোসায় নয়, মূল ভূখণ্ডে। তিনটে স্টেশন জুড়ে একটা মনোরেল চলে এই পার্কে। ঘন সবুজ অরণ্যের মাঝে আছে হাজার হাজার রংবেরঙের পাখি। পাখিদের জন্য মধুমিশ্রিত তরল খাদ্য পাওয়া যায় মাত্র তিন ডলারে। এক সময় ঝাঁকেঝাঁকে পাখি ঘিরে ধরল আমাদের, খাবারের লোভে। পাখির কলতানে মুখর এই সবুজের মধ্যে রয়েছে এক ঝুলন্ত ব্রিজ— লোরি লফট্। প্রায় দশ তলা উঁচু এই সেতুর উপর হেঁটে বেড়ানো যে কী রোমাঞ্চ জাগিয়েছিল মনে, তা বলে বোঝানো যায় না!

‘নাইট সাফারি’তে গিয়ে মনে হল যেন আফ্রিকার কোনও জঙ্গলে এসেছি। চারিদিকে মশাল জ্বলছে, সঙ্গে আদিবাসীদের নাচ-গান। ‘অ্যানিমাল শো’ দেখার জন্য আছে ট্রাম। প্রায় ৪৫ মিনিট আলো আঁধারিতে এক চক্করে দেখে নেওয়া যায় নানা জীবজন্তু। সব শেষে ‘ইন্ডিয়ান তন্দুর’ রেস্তোরাঁতে রাতের খাওয়া সেরে রাত প্রায় একটার সময় ফিরে এলাম ওয়ার্ল্ড রিসর্টস সেন্টোসার ক্যাসিনোর সামনে। রাত-দিন চলে এই জুয়ার সাম্রাজ্য। দেখলাম ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ ছুটছে ক্যাসিনোর দিকে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে কিছু ক্ষণ দাঁড়ালাম এই রঙিন দুনিয়ার সামনে। দেখলাম কেউ টলতে টলতে বেরোচ্ছে, কেউ বিমর্ষ মুখে, আবার কেউ হাসিমুখে। আলাপ হল এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিঙ্গাপুর নাগরিকের সঙ্গে। ওই যুবকটির কাছেই জানতে পারলাম যারা বিদেশি এবং রিসর্টস ওয়ার্ল্ডের ভিতরে থাকছে তাদের কোনও প্রবেশমূল্য লাগে না। সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের প্রবেশমূল্য ১০০ ডলার! তিনি আরও জানালেন, ক্যাসিনো তৈরির আগে সাধারণ মানুষ ও বিদ্বজ্জনেরা এর প্রবল বিরোধীতা করায় সরকার নাগরিকদের কথা ভেবে, পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতেই এই নিয়ম বানায়।

লোরি লফটে পাখির মেলা

‘নাইট সাফারি’র প্রবেশ পথ

রাতের আঁধারে ‘অ্যানিমাল শো’

চিড়িয়াখানার প্রবেশ দ্বার


শেষ দিন
প্রায় ঘুম থেকে উঠেই যেন চড়ে বসেছিলাম স্কাই ট্রেনে। দু’টো স্টেশন পরেই ‘বিচ স্টেশন’। প্রসঙ্গত বলে রাখি সেন্টোসা দ্বীপে ট্রেন-বাস-ট্রাম সব চড়া যায় বিনামূল্যে। এবং প্রতি স্টেশনে উর্দি পরা কর্মীরা থাকেন সকলের সাহায্যার্থে। এই স্টেশনের এক দিকে সুলোসো আর অন্য দিকে তানজং ও পালওয়ান বিচ। অসম্ভব সুন্দর এই তানজং বিচ। চকচকে সাদা বালি, মাঝে ছোট ছোট দ্বীপ। ছোট্ট ছোট্ট ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে সাদা বালুকার বুকে। অনেকে সূর্যস্নান করার জন্যে সকাল সকাল পৌঁছে গেছেন সমুদ্রতটে।

‘দ্য সাদার্ন-মোস্ট পয়েন্ট অব কন্টিনেন্টাল এশিয়া’— কৌতূহল জাগানো এই ভৌগোলিক বিজ্ঞপ্তি দেখে গেলাম সেই জায়গায়। সমুদ্রের উপর দিয়ে দড়ির সেতু। ও পারে গিয়ে যা বুঝলাম, তা সামান্য জট পাকানো! তবে সৌন্দর্য দেখে
মনে হল— ‘যদি নির্বাসন দাও’ তবে এই বালুকাবেলাতেই দিও!
জলের দিকে তাকিয়ে আপন মনেই বললাম, “স্ফটিক স্বচ্ছ।” মেয়ে শব্দটির অর্থ ঠিক বুঝতে না পারায় বলে বসল, “কোথায় কোথায়? আমি তো দেখতে পাচ্ছি না। কত বড় ওটা?” সামুদ্রিক কোনও জন্তুর নাম ভেবেই এই প্রশ্ন করেছিল। বুঝিয়ে বললাম, শব্দের মানে। বাংলা শেখার অদম্য ইচ্ছায় আনন্দবাজার ডট কম, দাদুর পাঠানো আনন্দমেলা ও কমিকস নিয়ে লড়ে যাওয়া মেয়ে একটু হতাশ হল বলে মনে হল। যাই হোক, বালির উপর হেঁটে, বালির ঘর বানিয়ে সময় কেটে গেল বেশ কিছু ক্ষণ। এ বার ফেরার পালা। দুপুর বারোটার মধ্যে পৌঁছতে হবে চ্যাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ফেরার পথে দেখলাম এক দল কচিকাঁচাকে নিয়ে বেরিয়েছেন কোনও এক স্কুলের শিক্ষিকারা। এখানে এসে প্রতি দিনই দেখেছি ছোট বড় স্কুলপড়ুয়াদের এ ভাবে বেড়াতে। শুনলাম এটা পাঠক্রমের অংশ— প্রকৃতিকে চেনো। ওরা হাত নেড়ে আমাদের বিদায় জানালো, সঙ্গে হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া মিষ্টি চুম্বন।

উদাস হয়ে গিয়েছিল মন। পিছন দিকে সাগরের নীল হাতছানি আর সামনে সবুজের সমারোহ। ফিরে যেতে চাইছিল মন। হঠাত্ আঙুলের আলতো চাপে সম্বিত্ ফিরে এল, “চল নামতে হবে।”

এক কথায়: পিছন দিকে সাগরের নীল হাতছানি আর সামনে সবুজের সমারোহ— ফিরে যেতে চাইছিল মন।
পশ্চিমবঙ্গের মেয়ে। আবৃত্তিই প্রথম প্রেম। নিয়মিত তার উপস্থাপন চলে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে। পেশায় ডাক্তার। ভীষণ ব্যস্ততার সঙ্গে চলে জীবন। বিবাহ সূত্রে প্রথম আমেরিকায় যাওয়া। সেই থেকেই ঘুরতে ঘুরতে এখন মালয়েশিয়ার বাসিন্দা। তবে, মন বাঁধা আছে— বাবা, মা, বাংলার নদী, মাঠ, ভাঁটফুল আরও অনেক কিছুর কাছে!
ছবি: লেখক
লেখকের আরও ভ্রমণকথা
ক্যানসার জয়ীদের ‘ফেস্টিভ্যাল’
• পর্তুগিজ পত্তনের পাঁচশো বছরে ‘মিলন’
• আবার আসিব... এই লঙ্কাভির তীরে

রোজের আনন্দবাজারএ বারের সংখ্যাসংবাদের হাওয়াবদল • আপনার রান্নাঘরস্বাদবদল চিঠিপুরনো সংস্করণ