কোমায় হাসপাতাল/৪
মেডিক্যাল কলেজ, অথচ চালু হয়নি আইসিইউ
দু’বছর আগেই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তকমা পেয়েছে কল্যাণী জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতাল। কিন্তু তা শুধু ঘোষণাতেই। পরিষেবা বা পরিকাঠামো কোনওটাতেই এখনও মেডিক্যাল কলেজের মাত্রা ছুঁতে পারেনি সাড়ে পাঁচশ শয্যার এই হাসপাতাল।
মেডিক্যাল কলেজ হওয়ার পরে রোগীরা শুশ্রূষার যে প্রত্যাশা নিয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন, সেটা যে পূরণ হয়নি তা বলাই বাহুল্য। তিনতলা বিশাল এই হাসপাতালে চিকিৎসার সরঞ্জাম আছে। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। নেই যথেষ্ট চিকিৎসাকর্মীও। আর এই কারণেই বছরের পর বছর বন্ধ হয়ে পড়ে আছে বিভিন্ন বিভাগ। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতালের বহির্বিভাগেও সকাল থেকে কয়েক’শ রোগীর লম্বা লাইন পড়ে। চিকিৎসকদেরও রোগীর সমস্যার ফিরিস্তি শোনার সময় নেই। কারণ, বহির্বিভাগ সামলেই তাঁদের ছুটতে হয় অপারেশন করতে বা নিজেদের বিভাগের রোগীদের দেখতে।
জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল হাসপাতাল এমনিতে রেফারেল হাসপাতাল। নদিয়া-সহ আশপাশের ছ’টি জেলার সরকারি হাসপাতাল থেকে আশঙ্কাজনক বা জটিল চিকিৎসার রোগীদের এই হাসপাতালে স্থানান্তরিত করানো হয়। প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে তিন হাজার রোগী ভর্তি হন। রেফারেল হাসপাতাল থেকেও রোগীদের কলকাতায় রেফার করানোর ঘটনা ঘটে। কারণ সেই চিকিৎসকের অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলি বন্ধ থাকা।
নিজস্ব চিত্র।
একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যে যে বিভাগগুলি থাকা বাধ্যতামূলক সেগুলিই এখানে বন্ধ। নিউরোলজির ঘর তালা বন্ধ। গ্যাস্ট্রোঅ্যান্ট্রোলজিরও একই অবস্থা। প্লাস্টিক সার্জারি বন্ধ। ডায়ালিসিস হয় না। অঙ্কোলজির জন্য রেডিও থেরাপিস্ট নেই। প্রশিক্ষিত নার্স নেই। নেফ্রোলজি, পিআইসিইউ, এনআইসিউ, আইসিইউ, আইসিসিইউ কোনওটাই চালু হয়নি। অথচ মেডিক্যাল কলেজ হওয়ার অনেক আগে মহকুমা হাসপাতাল থাকাকালীন এর মধ্যে বেশ কিছু বিভাগ নিয়মিত খোলা থাকত।
হাসপাতালের সুপার নিরুপম বিশ্বাস বলেন, “শিলিগুড়ি থেকে শিয়ালদহের মধ্যে এই একটি মাত্র মেডিক্যাল কলেজ। কিন্তু সবটাই নামে। স্বাস্থ্য দফতরে মেডিক্যাল কলেজের জন্য টাকা চাইতে গেলে বলা হয় ওটা তো মহকুমা হাসপাতাল। মেডিক্যাল কলেজের স্টেটাস এখনও পায়নি। বছরে ৩/৪ কোটি টাকার বেশি আমরা পাই না। অথচ অন্য মেডিক্যাল কলেজগুলো বছরে ৩০/৪০ কোটি টাকা পায়। আমরা ওই টাকা পেলে অন্য যে কোনও মেডিক্যাল কলেজকে পরিষেবার দিক থেকে চ্যালেঞ্জ করতে পারতাম। এখন তো মাইনে দিতেই টাকা ফুরিয়ে যায়।”
মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও বলেন, “কি ভাবে যে মেডিক্যাল কলেজ চলছে সেটাই রহস্য। আমাদের চিকিৎসক ও শিক্ষকেরা সামাল দিচ্ছেন তাই এখনও মুখ থুবড়ে পড়েনি। কিন্তু এভাবে কতদিন?”



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.