আবার অবরোধের পথে মণিপুরের নাগা ও কুকিরা
রকারের ভূমিকায় ‘ক্ষুব্ধ’ হয়ে ফের অবরোধের পথে হাঁটতে চলেছে সদর হিল পৃথক জেলা দাবি কমিটি ও ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল। গত দু’দিন ধরে সাংগঠনিক স্তরে ও সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনার পর, একে অপরের কট্টর বিরোধী, দু’টি সংগঠনই জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার ও মণিপুর সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে তারা সন্দিহান। তাই আবার অবরোধের রাস্তায় হাঁটা ছাড়া উপায় নেই আন্দোলনকারীদের।
নাগা অধ্যুষিত সেনাপতি জেলা ভেঙে, সদর হিল নামে পৃথক জেলা গড়ার দাবি নিয়ে কুকিরা গত ১ অগস্ট থেকে মণিপুরে অর্থনৈতিক অবরোধ শুরু করেছিল। পাশাপাশি, নাগা এলাকার অখণ্ডতা নষ্ট করে পৃথক জেলা গড়ার প্রতিবাদে ২১ অগস্ট থেকে অবরোধে নামে ইউএনসি। অবশেষে সরকারের সঙ্গে পৃথক জেলা গড়ার বিষয়ে চুক্তি হওয়ার পরে ৯২ দিনের অবরোধ তুলে নেয় সদর হিল দাবি কমিটি। আবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে নাগা অধিকার রক্ষার আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তোলে ইউএনসি। দু’পক্ষই হুমকি দিয়ে রাখে, সরকারের ভূমিকা সদর্থক না হলে ফের তা শুরু হবে। এত দিনের অবরোধে, রাজ্যের ৩৯, ৫৩ ও ১৫০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে ছিল। রাজ্যে ঢোকেনি পণ্য ও জ্বালানী। পেট্রোল ২০০ টাকা লিটার, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারপিছু ১৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
সামনের বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিধানসভা নির্বাচন। মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে ওক্রাম ইবোবি সিংহের শরিকরাও তাঁর সঙ্গ দিচ্ছেন না। এক দিকে কুকিদের খুশি করলে নাগারা খেপে যাচ্ছে। নাগাদের সন্তুষ্ট করতে গেলে বাকি রাজ্যে আগুন জ্বলছে। বিরোধীরা পরিস্থিতির ফায়দা তুলতে ব্যস্ত। খোদ প্রধানমন্ত্রী, কংগ্রেস সভানেত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাজ্যে এনেও পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে উল্টে ঝড় ওঠে। মনমোহন সিংহ মণিপুরের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন। একই সভায় ইবোবি মন্তব্য করেন, ‘নাগা ও কুকিরাও মণিপুরি।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিশ্বাসভঙ্গের সামিল বলে মন্তব্য করেছে ইউএনসি। নাগারা, মণিপুরে নাগাদের জন্য পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা দাবি করেছিল। ইউএনসির দাবি, আলোচনার সময় পি চিদম্বরম এই বিষয়ে তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেই আশ্বাসে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
নাগাল্যান্ডের একাধিক সংগঠনও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখা চেয়ে দিল্লিতে চিঠি পাঠিয়েছে। ইউএনসি জানায়, ১৬ ডিসেম্বর বিষয়টি নিয়ে গণশুনানি ডাকা হচ্ছে। এরপরই, জিরিবাম-টুপুল রেলপথের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। তামেংলং জেলায় তেল তোলার উপরেও জারি হবে নিষেধাজ্ঞা। তারা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের স্পষ্টীকরণ চেয়েছে এবং নাগাদের মণিপুরি বলার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ‘ক্ষমাপ্রার্থনা’ দাবি করেছে।
অন্য দিকে, সদর হিল গড়া নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে চুক্তির পরেও এখন অবধি কোনও কাজ না এগোনয় সদর হিল দাবি কমিটিও হতাশ। তারা এ নিয়ে ১৪ ডিসেম্বর গণশুনানি ডেকেছে। তাদের বক্তব্য, ‘‘সরকার আশ্বাস দিয়েছিল নভেম্বরের মধ্যে জেলা গড়ার কাজ হবে। তা হয়নি। ডিসেম্বরেও কাজ এগোবে কী না সন্দেহ। আমরা অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করতে পারব না। গণশুনানির পরেই ফের অবরোধ শুরু হবে।’’


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.