ঘিসিংকে পাহাড়ে চাই, জিএনএলএফের সভায় দাবি
কার্শিয়াঙের শিমুলবাড়িতে বিরাট জনসভা করে নিজেদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব প্রমাণ করল জিএনএলএফ। সকাল থেকেই ওই সভায় আসতে থাকেন জিএনএলএফের কর্মী-সমর্থকেরা। বেলা বাড়ার পরে শিমুলবাড়ির মাঠ উপছে পড়ে ভিড়ে। সেই ভিড় থেকে বারবার স্লোগান উঠতে থাকে, সুবাস ঘিসিংকে পাহাড়ে ফেরাতে হবে। জিএনএলএফ নেতারা জানান, ঘিসিংকে দ্রুতই পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
জিএনএলএফের দাবি, অন্তত ১৫ হাজার কর্মী-সমর্থকের ভিড় হয়েছে এ দিনের সভায়। তা না হলেও অন্তত ১০ হাজার মানুষের সমাগম যে হয়েছে, সে কথা আড়ালে কবুল করেছেন জিএনএলএফ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদেরও অনেকেই। পুলিশের রিপোর্টেও মাঠে উপচে পড়া ভিড়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। ভিড়ে ঠাসা সভা থেকে জিএনএলএফের কার্শিয়াঙের আহ্বায়ক নিমা লামা বলেন, “গোর্খাল্যান্ড নয়, দার্জিলিং পাহাড়ের প্রকৃত স্বশাসন আসতে পারে ষষ্ঠ তফসিল ভুক্তির মাধ্যমে। যা কি না বাম আমলে রাজ্য বিধানসভায় অনুমোদন করা হয়। পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও ছাড়পত্র দেয়। কিন্তু সংসদের উভয় কক্ষে অনুমোদন লাভের আগেই প্রক্রিয়া থমকে যায়। এখন আমরা ফের সেই দাবিতে পাহাড় জুড়ে লাগাতার আন্দোলন করব।”
শিমুলবাড়িতে জিএনএলএফের সভায় ভিড়। শুক্রবার ছবি তুলেছেন বিশ্বরূপ বসাক।
ভিড় থেকে তখনই ঘিসিংয়ের নামে স্লোগান ওঠে। কর্মী-সমর্থকরা সমস্বরে ‘সুবাস ঘিসিংকে পাহাড়ে ফেরাতে হবে’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি সামলাতে জিএনএলফ নেতারা মাইকে ঘোষণা করেন, “শীঘ্রই আমাদের নেতা ঘিসিং পাহাড়ে আসবেন। আমরা তাঁকে মহা সমারোহে পাহাড়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আপনারা পাহাড়ের আনাচে-কানাচে লাগাতার প্রচারে নেমে পড়ুন।”
বিমল গুরুঙ্গের হাত ধরে মোর্চার উত্থানের প্রায় ৫ বছর পাহাড়ে জিএনএলএফের কোনও অস্তিত্ব প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। কিন্তু মোর্চার ডাকা সাম্প্রতিক লাগাতার বন্ধের জেরে পাহাড়ের আমজনতার অনেকেই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই জিএনএলএফ ফের মাথা তুলেছে বলে স্বীকার করছেন পাহাড়ের অন্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের একাংশ। এমনকী, মোর্চা নেতাদের একাংশও তা একান্তে কবুল করেছেন। তবে প্রকাশ্যে মোর্চা নেতারা জিএনএলএফকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাইছেন না।
মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বলেন, ““ষষ্ঠ তফশিল হিমঘরে চলে গিয়েছে। তা নিয়ে মিটিং করে কোনও লাভ নেই। কিছু লোকজনকে জিএনএলএফ ভুল বোঝাচ্ছে। তাতেও লাভ হবে না। কারণ, প্রায় আড়াই দশক সুবাস ঘিসিংয়ের হাতে থাকা দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য পরিষদ কী ভাবে টাকা নয়ছয় করেছে সেই অভিযোগ পাহাড়ের সর্বত্র কান পাতলেই শোনা যায়।” রোশনের দাবি, “জনতা আমাদের সঙ্গে আছে। পাহাড়ের মানুষ জিএনএলএফকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। তারা চেষ্টা করলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।”
জিএনএলএফ নেতারা জানান, তাঁরা পাহাড়ের নানা জায়গায় সাড়া পাচ্ছেন। তরাই এলাকার আহ্বায়ক মহেন্দ্র ছেত্রী, দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিলের প্রাক্তন কাউন্সিলর ইন্দ্রনারায়ণ প্রধান, হিমালয়ান প্ল্যান্টেশন ওয়ার্র্কার্স ইউনিয়নের সম্পাদক বালকৃষ্ণ শর্মার মতো নেতারা জানান, জিটিএ গঠনের পর থেকে পাহাড়ে যে কী হচ্ছে, সেটা গোটা রাজ্যবাসী দেখছেন। ফলে, পাহাড়বাসী ফের ষষ্ঠ তফসিলের দাবিতে সামিল হচ্ছেন বলে তাঁদের দাবি।
তবে সিপিআরএম, গোর্খা লিগের মতো দলগুলি কিন্তু জিএনএলএফ-এর ষষ্ঠ তফসিলের দাবি অযৌক্তিক বলে মনে করছে। সিপিআরএমের মুখপাত্র গোবিন্দ ছেত্রী বলেন, ‘‘গোর্খাল্যান্ডই পাহাড়ের মানুষের চাহিদা। তা থেকে সরে আসা উচিত নয় জিএনএলএফের। তা হলে মানুষ তাঁদের ক্ষমা করবে না।” গোর্খা লিগের পক্ষ থেকে প্রতাপ খাতিও জানিয়েছেন, ষষ্ঠ তফসিলের মাধ্যমে কোনও স্বশাসন আসতে পারে না। তাঁর যুক্তি, “সংবিধান সংশোধন না করলে পাহাড়কে ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনা কোনওদিন সম্ভব নয়। সেটা করানো মুশকিল।”
পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে তৃণমূলও। তৃণমূলের দার্জিলিং পাহাড় শাখার মুখপাত্র বিন্নি শর্মা বলেন, “ষষ্ঠ তফসিল একটি বন্ধ অধ্যায়। জিএনএলএফ লোককে বোকা বানাতে এবং ঘিসিংকে প্রাসঙ্গিক করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা যা চাইছে তা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।”

পুরনো খবর:





First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.