ভাসছে দমদম পার্ক-ও
মেয়রকে ডোবাল তাঁরই বেহালা
কালেই থেমে গিয়েছে বৃষ্টি, তবু বুধবার দিনভর জলবন্দি হয়ে রইলেন দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা। টানা ৪৮ ঘণ্টা বৃষ্টির জেরে পুর-প্রশাসন পুরনো কলকাতার জল-ছবির চেহারা কিছুটা বদলে দিতে পেরেছে ঠিকই, তবে শহরের সংযোজিত এলাকার মানুষকে দুর্ভোগ থেকে রেহাই দিতে পারেনি। যা কার্যত পুর-প্রশাসনের দায়িত্বকেই চ্যালেঞ্জ জানায়। তার আভাস মিলেছে খোদ মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কথায়। তিনি বলেন, “বৃষ্টি থেমে গেলেও বেহালায় আমার এলাকার বেশ কয়েকটি পল্লি এখনও জলমগ্ন।” পুরসভার সেচ দফতরের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, “ভাগ্যিস বৃষ্টি ধরেছে। না হলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হত। সামাল দেওয়া মুশকিল ছিল।”
পুরসভা সূত্রের খবর, ১০১ ও ১০৯ ওয়ার্ডের কিছু এলাকা এতটাই জলমগ্ন যে, সেখানে নৌকো চালাতে হয়েছে। ত্রাণও পাঠাতে হয়েছে। তবু ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা। তাঁদের কথায়, “আমরা টালার জল পাই না। নিকাশি দুর্বল। এর পরে বৃষ্টিতেও জলে ডুবে থাকছে এই এলাকা। অথচ মূল কলকাতাবাসীর মতো আমরাও পুরকর দিই।” মেয়র জানান, জলমগ্ন এলাকার পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রয়েছে পুরসভার। বাইপাস লাগোয়া মুকুন্দপুর, হালতু, নন্দীবাগান, মার্টিনপাড়া, ভগৎ সিংহ পার্ক-সহ বেহালার ক্ষুদিরাম পল্লি, জাগরণী, আনন্দনগর, গ্রিন পার্ক, সবুজ পার্ক, গোপালনগর এবং জোকার ২২ বিঘে এলাকা জলমগ্ন।
শহরে কয়েক ঘণ্টায় জল নেমে গেলেও সংযোজিত এলাকায় ভোগান্তি কেন? পুর-নিকাশি দফতরের এক ইঞ্জিনিয়ার জানান, সংযোজিত এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা খালের উপরে নির্ভরশীল। বৃষ্টির জল রাস্তার পাশে নালার মধ্যে দিয়ে মণিখালি, চৌবাগা, চড়িয়াল খালে পড়ে চলে যায় কুলটি ও গঙ্গা নদীতে। গত দু’দিনে নদীর জল বেশি থাকায় খালের জল খালেই থেকে গিয়েছে। তাই বৃষ্টির জল নালা বেয়ে খালে যেতে পারেনি। ফলে ওই সব এলাকা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে।
সমাধানের পথ কী? শোভনবাবুর কথায়, “নদী বা খালের জলস্তর বেড়ে গেলে অপেক্ষা ছাড়া তেমন কিছু করার নেই। বৃষ্টি হলেই সমস্যা বাড়ে।” তিনি অবশ্য জানান, কোনও কোনও ক্ষেত্রে পাম্প দিয়ে জল বার করা হয়। কিন্তু এ বার তা করা যায়নি। কারণ পাম্পের জল যেখানে ফেলা হয়েছে, সেই এলাকা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। যার প্রতিবাদ করেছেন এলাকাবাসীরা।
ট্যাংরার কিছু এলাকায় জল জমে থাকায় বাসিন্দারা এ দিন থানায় বিক্ষোভ দেখান। শহরের কোন থানা অঞ্চল জলমগ্ন হয়ে থাকায় জনসাধারণ অসুবিধায় পড়ছেন, তা দেখতে শহর পরিদর্শনে বেরোন কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ করপুরকায়স্থ।
এ দিকে, শহরে বেশ কিছু এলাকায় জল জমা নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে পুরসভার বাম কাউন্সিলরেরা মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কাছে স্মারকলিপি দেন। বিরোধী দলনেত্রী, সিপিএমের রূপা বাগচী বলেন, “শহরের নিকাশি ব্যবস্থা চাঙ্গা করতে আরও পাম্পিং স্টেশন ও পাম্প দরকার। বাড়াতে হবে লোকবলও। মেয়রের কাছে সে সব দাবি জানাই।”
পুরসভা সূত্রের খবর, অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতর দু’টি স্পিডবোট নামিয়ে ভগৎ সিংহ পার্ক এলাকার কিছু মানুষকে অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় পৌঁছে দেয়। দেওয়া হয় বিস্কুট ও পানীয় জল। বাসিন্দাদের অভিযোগ, মান্ধাতা আমলের নিকাশি ও অপরিকল্পিত ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণের ফলে জমা জল বেরোতে পারছে না।
একই অবস্থা দমদম পার্ক, কালিন্দী চাষিপাড়া এলাকায়। চাষিপাড়ার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ঘরে শুধু নোংরা জলই নয়, নানা ধরনের পোকামাকড়, এমনকী সাপও ঢুকে পড়ছে। প্রতিবাদে এলাকাবাসীরা এ দিন দুপুরে ভিআইপি রোড অবরোধ করেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই এমন হয়। পুরসভাকে জানিয়েও লাভ হচ্ছে না।

পুরনো খবর:
 
 
 


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.