অভিযোগ, পরীক্ষার সময়ে প্রসূতিকে ‘চড়’
ফের প্রহৃত চিকিৎসক, এ বার কৃষ্ণনগরে
ঙ্গিপুরের পর কৃষ্ণনগর।
রোগীদের প্রহারে ফের আহত হলেন চিকিৎসক। মুখে, মাথায় আঘাত পাওয়া কৃষ্ণনগর জেলা সদর হাসপাতালের ওই স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ মানিক মনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এই নিরাপত্তাহীনতায় আর কাজ করা সম্ভব নয়।” জঙ্গিপুরের মতো পুলিশ অবশ্য এ দিন নির্বিকার ভুমিকা নেয়নি। রোগীর বাড়ির দু-জনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করে পুলিশ।
সরকারি হাসপাতালগুলিতে নিয়মিত চিকিৎসক-প্রহারের এই ঘটনা তাঁদের যে ‘আতঙ্কিত’ করে রেখেছে দুপুরে এই দাবিতে ওই হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকেরাও দেখা করেন হাসপাতালের সুপারের সঙ্গে। এবং এর ফলে শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে প্রায় তিনটে পর্যন্ত জেলা সদর হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ কার্যত চিকিৎসকহীন অবস্থায় পড়ে থাকে।
—নিজস্ব চিত্র।
জঙ্গিপুর হাসপাতালে ‘কল’ দেওয়া সত্ত্বেও সেপ্টিসেমিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুকে দেখতেই আসেননি চিকিৎসক। এমনই অভিযোগ তুলে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল এক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে। এ দিন অবশ্য চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ নয়, বরং চিকিৎসা করার সময়ে প্রসূতিকে ‘দু-ঘা’ বসিয়ে দেওয়ার অনুযোগ করেছিলেন মনোবা বিবি। আর তাতেই ক্ষেপে উঠেছিলেন তাঁর পরিজনেরা। ঘরে ঢুকে বেধড়ক মারধর করা হয় মানিকবাবুকে। কিল, চড়, ঘুষির পাশাপাশি জুতো খুলেও ওই চিকিৎসককে পেটানোর উপক্রম করেন মনোবা বিবির পরিজনেরা। এক জনকে রীতিমতো চেয়ার তুলে তেড়ে যেতেও দেখা যায়। সেই সময়ে ঘটনাস্থলে হাজির ওই হাসপাতালের সুপার কাজল মণ্ডল কোনওক্রমে তাঁকে ঠেকান। এই তাণ্ডব যখন চলছে তখন সেখানে হাজির ছিলেন রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য স্থানীয় তৃণমূল নেতা দেবপ্রসাদ দাসও। কিন্তু উত্তেজনা ছড়াতেই তাঁকে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। পরে তিনি অবশ্য বলেন,‘‘ চিকিসকের উপরে এই হামলা নিন্দাজনক। আমরা চাই এই ঘটনায় প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিক।’’ এ দিন মানিকবাবুকে মারধরের ঘটনার কথা হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়তেই জরুরি বিভাগ থেকে অন্যান্য বিভাগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চিকিৎসকেরা সুপারের ঘরে এসে বিক্ষোভ দেখাতে তাকেন। ফলে জেলা সদর হাসপাতালে সব বিভাগেই চিকিৎসা একরকম থমকে যায়। এ দিকে চিকিৎসা না পেয়ে ওই অন্যান্য রোগীর বাড়ির লোকেরাও পাল্টা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। হাসপাতাল জুড়ে স্পষ্টতই বেহাল অবস্থা তখন। এরপরেই সুপারের নেতৃত্বে চিকিসকদের একাংশ ওই হাসপাতালে বাড়তি চিকিৎসকের দাবিতে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ওই বিক্ষোভে যোগ দেন হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারীরাও। কাজলবাবু বলেন,‘‘ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে শয্যার সংখ্যা ৭৫। অথচ ভর্তি আছের ৩০০’র বেশি মহিলা। সেখানে চিকিসক মাত্র চারজন। মানিকবাবু এ দিনের ঘটনার পরে ‘অনির্দিষ্ট’কালের জন্য ছুটিতে চলে যাওয়ায় মাত্র তিনজন চিকিসক নিয়ে অত রোগী দেখা সম্ভব নয়। আরও অন্তত দু-জন চিকিসকের দাবি নিয়ে সকলে মিলে সিএমওএইচ এর কাছে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম।” বিক্ষোভকারী চিকিসক দেবব্রত দত্ত বলেন,‘‘ রোগীর তুলনায় চিকিসকের সংখ্যা খুবই কম অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমরা চিকিসা পরিষেবাটুকু টিকিয়ে রেখেছি তারপরেও কোন কারণ ছাড়াই এক জন চিকিসককে সুপারের ঘরে মারধর করা হল।’’
মারধরের কারণ হিসেবে কালীগঞ্জের হাজরাপোতার বাসিন্দা মনোবা বিবি অবশ্য স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না। তিনি জানান, পরীক্ষা করার সময় ওই চিকিৎসক তাঁকে মারধর করেছেন। মনোবা বলেন, “প্রসব যন্ত্রণা না ওঠায় ওই চিকিৎসক আমাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেন। আমাকে পরীক্ষা করার সময়ে চড়ও মারেন।” মানোবা বিবির পরিবারের লোকজন সুপারের ঘরে গিয়ে এরপরেই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সুপার মানিকবাবুকে ডেকে পাঠান। তিনি ঘরে ঢুকতেই ওই প্রসূতির বাড়ির লোক তাঁর উপরে চড়াও হন। মানিকবাবুর কথায়, ‘‘পরীক্ষার সময় অনেক মহিলাই লজ্জা পান। অস্বস্তি বোধ করেন। সেই কারণে ওঁর পায়ে একটা চাঁটি মেরে ওঁকে সচেতন করতে চেয়েঠিলাম মাত্র।’’



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.