শহর থেকে বায়ুবেগে জেলায়, কাজ শুরু
মুখ্যমন্ত্রী হয়েই রাজ্যের মধ্যে ছোট ছোট রুটে উড়ান চালুর পরিকল্পনা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার সেই ভাবনারই বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে রাজ্য। প্রথম পর্যায়ে এই পরিষেবার আওতায় আসছে উত্তরবঙ্গ। ঠিক হয়েছে, কলকাতা থেকে মালদহ এবং বালুরঘাটে হেলিকপ্টার পরিষেবা দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে পরিবহণ সচিব আলাপন বন্দোপাধ্যায়ের ঘরে বৈঠক করে হেলিকপ্টার সংস্থা পবনহংস। একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি সাপেক্ষে তা চূড়ান্ত করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর। এর পাশাপাশি সুন্দরবন, দুর্গাপুর, শান্তিনিকেতন, গঙ্গাসাগরের রুটেও হেলিকপ্টার চালানোর পরিকল্পনা আছে রাজ্যের।
কেন্দ্রীয় বিমান মন্ত্রকের অধীনস্থ পবনহংসের কাছ থেকে একটি আট আসনের হেলিকপ্টার ভাড়া নিয়ে রেখেছে রাজ্য সরকার। গত অক্টোবর মাসে সংস্থার সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, যাত্রী হোক বা না হোক, মাসে তাদের ন্যূনতম ৪০ উড়ান-ঘণ্টার ভাড়া দেবে রাজ্য। প্রতি ঘন্টার ভাড়া ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। যার অর্থ, হেলিকপ্টার হোক বা না হোক, মাসে ৫০ লক্ষ টাকা করে ভাড়া গুনতে হবে সরকারকে। চুক্তির এক মাস পরে নির্দিষ্ট উড়ান ঘণ্টার বেশির ভাগটাই ব্যবহার করতে পারেনি রাজ্য সরকার। এই পরিস্থিতিতে এই চুক্তিকে কাজে লাগিয়েই রাজ্যে ছোট রুটে উড়ান চালানোর ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গ সফর চলাকালীন বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরে এক প্রশাসনিক বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা করেন তিনি। পরিবহণ সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে এ ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগী হতে নির্দেশ দেন। সেই মতো এ দিন সকালে কলকাতা পৌঁছেই বিকেলে বৈঠক ডেকেছিলেন আলাপনবাবু।
মমতার নির্দেশে ঠিক হয়েছে, ৪০ ঘণ্টার মধ্যে মোটামুটি ৩০ উড়ান-ঘণ্টা যাত্রী পরিষেবায় কাজে লাগাবে রাজ্য সরকার। সরকার এ ভাবে ভর্তুকি দেওয়ার ফলে যাত্রীরা সেই হেলি-পরিষেবা পাবেন কম টাকায়। আলাপনবাবুর কথায়, “দেখা যাচ্ছে এই হেলিকপ্টার নিজেদের জন্য আমরা প্রতি মাসে বড়জোর ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ব্যবহার করব। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঠিক হয়েছে, বাকি সময়টুকু সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য কম টাকায় ভাড়া দেওয়া হবে।”
এই হেলিকপ্টার নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী এ বারের উত্তরবঙ্গ সফরে মালদহ পর্যন্ত যান। বৃহস্পতিবার তাতে চেপেই মালদহ থেকে কলকাতায় ফিরেছেন। এক সময়ে মালদহে যে বিমানবন্দর ছিল, সেখানে এখনও একটি ছোট রানওয়ে রয়েছে। এ দিন সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে উড়ে আসে পবনহংস-এর এই হেলিকপ্টার। প্রশাসন সূত্রের খবর, মালদহে যাওয়ার দিনে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার যেমন কলেজ মাঠে নেমেছিল, এ দিনও সেখান থেকেই ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে ছোট রুটে উড়ান প্রকল্প বাস্তবায়নের বার্তা দিতেই মমতা মালদহ বিমানবন্দরের ওই পুরনো রানওয়ে থেকেই কলকাতা রওনা হতে চান। তাঁর ইচ্ছা অনুসারেই হেলিকপ্টার পুরনো বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে ওড়ে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ধরে নেওয়া যেতে পারে, এই উড়ান সাধারণ মানুষের জন্য পরিষেবার সূচনা। এ বার থেকে মালদহের এই বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত যাতে হেলিকপ্টার পরিষেবা পাওয়া যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা করছি।” মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা করবেন তিনি।
এ দিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, কলকাতা-মালদহ অথবা কলকাতা-বালুরঘাট, প্রতিটি ক্ষেত্রেই ট্রেনের বাতানুকূল প্রথম শ্রেণির ভাড়া যত টাকা হয়, হেলিকপ্টার পরিষেবার জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে তার চেয়ে সামান্য বেশি ভাড়া নেওয়া হবে । আলাপনবাবুর কথায়, “বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষ ব্যবহার করতে পারবেন এই পরিষেবা।” তিনি জানান, কলকাতার বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে এই হেলিকপ্টার ওঠা-নামা করবে। যেহেতু সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে মালপত্র থাকবে, তাই আট আসনের জায়গায় সম্ভবত সাতটি আসন ভাড়া দেওয়া হবে। তা না হলে হেলিকপ্টারের ওজন তুলনায় বেশি হয়ে যাবে।
রাজ্য সরকার যেখানে ঘণ্টায় সওয়া লক্ষ টাকা করে ভাড়া গুনবে, সেখানে সাত আসনের জন্য বাতানুকূল প্রথম শ্রেণির ভাড়া নিলে তো লোকসান হবে রাজ্য সরকারের? প্রশাসনের কর্তাদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এটা পর্যটনের স্বার্থে, তার উন্নয়নের জন্য করা হচ্ছে। তা ছাড়া, এমনিতেই হেলিকপ্টার বসিয়ে রেখে ভাড়া গুনতে হচ্ছিল।
কবে, কোথায়, কোন রুটে এই হেলিকপ্টার উড়বে, তা চূড়ান্ত হতে আরও কয়েক দিন লাগবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে, প্রতিটি রুটে ন্যূনতম সপ্তাহে একদিন করে হেলিকপ্টার চালানোর চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। বিভিন্ন রুটে ভাড়া হিসেবে যে টাকা পাওয়া যাবে, তা যাবে রাজ্য সরকারের ঘরে। আলাপনবাবু বলেন, “সেই টাকায় আরও বেশি ঘণ্টা হেলিকপ্টার ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে।” এ নিয়ে অর্থ ও পর্যটন দফতরের সঙ্গে সমন্বয়েরও চেষ্টা করছে পরিবহণ দফতর।
পবনহংসের জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) সঞ্জয় কুমার এ দিন বলেন, “ভাল প্রস্তাব। আমরা তো চাই যে আমাদের হেলিকপ্টার নিয়মিত উড়ে বেড়াক। রাজ্য সরকারের এই ৪০ ঘণ্টার বাইরেও আমরা বেশ কিছু ভাড়ার প্রস্তাব পাচ্ছি। তা যেমন কখনও ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে, কখনও আবার কোনও সংস্থা ভাড়া নিতে চাইছে।”
কলকাতা থেকে মালদহ ও বালুরঘাটে নিয়মিত উড়ান পরিষেবা চালু করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই দুই শহরে পরিষেবা চালুর জন্য অনেক বেশি পরিকাঠামো প্রয়োজন। সমন্বয় করতে হবে কেন্দ্রের বিমান মন্ত্রকের সঙ্গে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও চাইছেন, বিভিন্ন রাজ্যের ছোট ছোট বিমানবন্দরের পরিকাঠামো বাড়িয়ে সেখান থেকে ছোট ছোট উড়ান চালাতে। এ দিনও মালদহ ছাড়ার আগে পরিত্যক্ত এই বিমানবন্দর ফের চালু করা যায় কি না, সে ব্যাপারে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন মমতা।
বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “এই বিমানবন্দর চালু হওয়া দরকার। আমি কেন্দ্রের সঙ্গে মালদহ বিমানবন্দর চালু নিয়ে কথা বলব।”
তবে, আপাতত হেলিকপ্টার পরিষেবা চালুর উপরে জোর দিচ্ছে মমতার সরকার। ২৬ নভেম্বর বৃন্দাবনী ময়দানের সরকারি সভায় সে কথা ঘোষণাও করেছেন মমতা। তিনি বলেন, “মালদহে বিমান পরিষেবা চালু করা হবে। যত দিন না বিমান পরিষেবা চালু হচ্ছে, তত দিন মালদহে হেলিকপ্টার চালানো হবে।”



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.