এখনও জলবন্দি উত্তর শহরতলি
কটানা বৃষ্টিতে এ বারও জলবন্দি উত্তর শহরতলি। বুধবার বিকেলের পরে বৃষ্টি কমলেও বিটি রোডের কামারহাটি এলাকা বৃহস্পতিবারও জলমগ্ন। বিটি রোডের ধারে নতুন নিকাশি পথ দু’দিনের বৃষ্টিতেই জলের তলায়। এর মধ্যেই উৎসাহী কিছু মানুষ জাল নিয়ে নেমে পড়েছেন মাছ ধরতে।
প্রতি বর্ষায় উত্তর শহরতলির কিছু অঞ্চল জলমগ্ন হয়। পানিহাটি, কামারহাটি ও বরাহনগরের নিকাশির সমস্যা নিয়ে পুরসভা, পূর্ত, সেচ দফতর ও মহকুমা প্রশাসনের ফি বছর বৈঠক হয়। সাময়িক ব্যবস্থা হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। পুরসভা সূত্রে খবর, যে ওয়ার্ডগুলিতে জল জমে, সেগুলির অবস্থান বাটির মতো। এলাকার নিকাশিও বেহাল।
কামারহাটির ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রায় ২০টি ওয়ার্ড জলমগ্ন। বুধবার পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বিধায়ক তথা পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্র পুর চেয়ারম্যান-সহ পুর প্রতিনিধিদের বলেন, “এত মানুষ জলবন্দি থাকেন প্রতি বছর। আপনারা শুধু ‘দেখছি, দেখব’ করে কাটান! বর্ষার আগেই কেন ব্যবস্থা হয়নি?” এর পরেই তিনি সেচ, পূর্ত দফতর ও কেএমডিএ-র সঙ্গে আলোচনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, “সকলের সঙ্গে কথা বলেছি। সেচমন্ত্রীকেও বলেছি, এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে।” সেচ দফতর সূত্রে খবর, বর্ষার আগেই কামারহাটির দাঁতিয়া খাল সংস্কার শুরু হয়েছে। তা দেখভালের দায়িত্ব পুরসভার। সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “স্থানীয় বিধায়ক আমাকে বিষয়টি জানান। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারও পরিস্থিতি দেখেছেন। আমারা যতটা করা সম্ভব, করব।”
জলে ডুবে কামারহাটির রাস্তা। বৃহস্পতিবার। —নিজস্ব চিত্র
জেলা প্রশাসনের রিপোর্ট বলছে, দু’দিনের বৃষ্টিতে বরাহনগরে ৫টি ওয়ার্ডের প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দা জলবন্দি। বরাহনগরের পুর-প্রতিনিধি অঞ্জন পাল বলেন, “১, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেশির ভাগ এলাকাই জলে ডুবে। পুরসভা থেকে ৩টে পাম্প চালানো হয়েছে।” তিনি জানান, ওই অঞ্চলগুলি এমনিতেই নিচু। গত দু’দিন অন্য বারের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। বরাহনগর পুরসভার চেয়ারপার্সন তৃণমূলের অপর্ণা মৌলিক বলেন, “সরকারি স্তরে বা অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে কথা বলছি, যাতে আরও পাম্পের ব্যবস্থা হয়।” বরাহনগর থানা ও পুরসভার যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় বিধায়ক তৃণমূলের তাপস রায়ের উপস্থিতিতে সতীন সেন নগর, নিউ ন’পাড়া কলোনি, ফরোয়ার্ড কলোনি, কালীমাতা কলোনি, মৎস্যজীবী কলোনি, শীতলামাতা লেন, মাতা মনমোহিনী নগর এলাকায় পানীয় জলের পাউচ, চিঁড়ে, গুড়, হ্যালোজেন ট্যাবলেট ও পলিথিন শিট দেওয়া হয়েছে। একই অবস্থা পানিহাটিতে। এইচ বি টাউন, মহাজাতি নগর, আনন্দ নগর, তীর্থ ভারতী, গৌরাঙ্গ নগর, শ্যামাশ্রী পল্লিতে প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা জলবন্দি। সেখানে ৬টি পাম্প চালানো হয়েছে।

পুরনো খবর:



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.