পাহাড়ে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী
জিটিএ-র প্রধান বিমল গুরুঙ্গের আমন্ত্রণে এ বার দার্জিলিং সফরে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে শৈলশহরে।
সরকারি সূত্রের খবর, ১৩ মে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের দাজির্লিংয়ে গিয়ে জিটিএ-র সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে, তার পরের দিন ১৪ মে দুপুরের বিমানে বাগডোগরা পৌঁছে রাতেই দার্জিলিঙে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানানোর কথা জিটিএ চিফ তথা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি গুরুঙ্গের। পরের দিন জিটিএ-এর পদাধিকারীদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনায় বসার কথা। জিটিএ আয়োজিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সফরের তৃতীয় দিন মমতা দার্জিলিং থেকে কালিম্পঙে যেতে পারেন। ১৭ মে সকালে শিলিগুড়িতে তৃণমূল সরকারের দু’বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি সভাতেও তাঁর থাকার কথা।
রাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র জানান, ১৪ মে বিকেল থেকে ১৭ মে দুপুর পর্যন্ত দার্জিলিঙ পাহাড় ও লাগোয়া সমতলে নানা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর থাকার কথা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সফর সূচি শীঘ্রই মহাকরণ থেকে ঘোষণা করা হবে।
এ বছর ২৯ জানুয়ারি দার্জিলিঙের ম্যালে অনুষ্ঠান মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে স্লোগান ওঠে। তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ বলে স্লোগান থামিয়ে দিতে বাধ্য করান।
তা নিয়ে মোর্চা টানা আন্দোলনের হুমকি দিলেও রাজ্য সরকার অবস্থান বদল করেনি। উপরন্তু পাহাড়ে পরিস্থিতি ঠিক রাখতে সিআরপি মোতায়েন করা হয়। মার্চে মুখ্যমন্ত্রী দার্জিলিঙের মংপংয়ে থাকলেও গুরুঙ্গ তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। শেষ পর্যন্ত মোর্চা সুর নরম করে আন্দোলন তুলে নেয়। দু’পক্ষের সম্পর্কের বরফ গলাতে উদ্যোগী হন খোদ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। সিকিম সফরের সময়ে তিনি গুরুঙ্গদের রাজ্যের সঙ্গে বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তারপরে মোর্চার প্রতিনিধিরা মহাকরণে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারও সুর নরম করে। মোর্চার দাবি মেনে জিটিএ-এর প্রধান সচিব পদ থেকে দার্জিলিঙের জেলাশাসক সৌমিত্র মোহনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে রাজ্যের পাঠানো তালিকা থেকে মোর্চার বেছে নেওয়া অফিসারকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। জিটিএ-র নানা সমস্যা মেটাতেও যে রাজ্য উদ্যোগী সে কথা তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়।
মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বলেন, “মহাকরণে বৈঠকের সময়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আমরা দার্জিলিঙে আমন্ত্র জানাই। বিমল গুরুঙ্গের তরফে পাঠানো আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই মুখ্যমন্ত্রী আসবেন বলে কথা দেন। আমরা ওই সফরের দিকে তাকিয়ে রয়েছি।”
এ দিন মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা দার্জিলিঙে মুখ্যমন্ত্রীর আসন্ন সফরে কী করণীয় তা নিয়ে আলোচনাতেও বসেন। মোর্চা সূত্রের খবর, সেখানে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু করা, স্কুল সার্ভিস কমিশনের জন্য পাহাড়ে আলাদা বোর্ড গঠন করা, লেপচা উন্নয়ন পর্ষদকে জিটিএর আওতায় এনে তাকে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া, শিলিগুড়ি মহকুমার ১৮টি মৌজাকে জিটিএ-র অন্তর্ভুক্ত করা, জিএলপি সদস্যদের আধা সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ করা সহ আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে এদিন বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সেই সঙ্গে মোর্চা কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা ৫০০০ টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার নিয়েও দাবি তোলা হবে বলে মোর্চা সূত্রে জানা গিয়েছে।



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.