প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে ময়দানে বিজেপি, পাল্টা সরব কংগ্রেসও
বিমানে সাংবাদিক বৈঠকের মধ্যেই উঠল প্রশ্নটা। কার্যত দু’লাইনের একটা জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিক ভাবে সকলের কাছেই অত্যন্ত সাদামাটা সেই জবাব কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিল। আপাতনিরীহ সেই মন্তব্য ঘিরেই আজ দিনভর ময়দানে সক্রিয় রইল যুযুধান দুই মূল প্রতিপক্ষ বিজেপি ও কংগ্রেস।
ডারবান ব্রিকস সম্মেলন সেরে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমানে সাংবাদিক বৈঠকে গত কাল মনমোহনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে জিতে সনিয়া গাঁধী যদি আপনাকে তৃতীয় বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেন, আপনি কি তা গ্রহণ করবেন? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “এ সব কাল্পনিক প্রশ্ন। যথা সময়েই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
আজ প্রধানমন্ত্রীর ওই মন্তব্য নিয়ে প্রথম মুখ খোলে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, রাজনীতিতে উদাসীনতা দেখালেও মনমোহন সিংহের ‘আসল রং’ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বিজেপির মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, “রঙের উৎসব শেষ হতে না হতেই মনমোহন সিংহের আসল রং বেরিয়ে পড়েছে! সুযোগ পেলে তিনি যে তৃতীয় বারও প্রধানমন্ত্রী হতে চান, কংগ্রেসের মধ্যে তাঁর বিরোধীদের সেই বার্তাই দিলেন মনমোহন। কংগ্রেসের মধ্যে রাহুল গাঁধীকে প্রধানমন্ত্রী করা নিয়ে যে রব উঠেছে, তাতেও প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিলেন তিনি।” শুধু বিতর্ক উস্কেই থেমে থাকেনি বিজেপি। রবিশঙ্কর বলেন, “মনমোহনের নেতৃত্বেই দেশের আম-আদমি মূল্যবৃদ্ধি, আর্থিক দুরবস্থার শিকার। আর এমন কিছু দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যার তির পৌঁছেছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর দোরগোড়া পর্যন্ত। এই মনমোহন সিংহকে তৃতীয় বারের জন্য তাঁরা বাছবেন কি না, তা নিশ্চয়ই মানুষ বিচার করবেন।”
স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপির বক্তব্যের জবাব দিতে আসরে নামে কংগ্রেস। কংগ্রেস মুখপাত্র রশিদ আলভি বলেন, “এ হল বিজেপি-র রাজনৈতিক দীনতা। প্রধানমন্ত্রীর একটা সহজ ও সামান্য জবাব নিয়ে ওঁরা অসামান্য ব্যাখ্যা দিতে নেমে পড়েছেন! অথচ কংগ্রেসের মধ্যে এ ব্যাপারে দ্বন্দ্বই নেই।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব শুক্ল বা মণীশ তিওয়ারি সকলেই বলছেন, প্রধানমন্ত্রী এমন কিছুই বলেননি, যা থেকে এই ধরনের বিতর্ক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা এটাও বলছেন, দেশের যুব সমাজ আগামী নির্বাচনের পরে রাহুল গাঁধীকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়।
রাজনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, এই সব ব্যাখ্যা-পাল্টা ব্যাখ্যা থেকেই স্পষ্ট, ভোট এগিয়ে আসছে। কিন্তু যুযুধান দুই প্রধান দল, অর্থাৎ কংগ্রেস বা বিজেপি কেউই সে ভাবে প্রস্তুত নয়। সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বাছাই নিয়ে বিজেপির অন্তর্কলহ যেমন প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে, তেমনই কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মীরা রাহুল গাঁধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইলেও তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না। সেই সুযোগে পি চিদম্বরম-সহ একাধিক উচ্চাকাঙ্খী নেতা সক্রিয় হয়ে উঠছেন।
২০১৪ সালের ভোটের পরে যদি সনিয়া গাঁধী ও কংগ্রেস আপনাকে তৃতীয় বার প্রধানমন্ত্রী হতে বলে, আপনি রাজি হবেন কি?
এ সব কাল্পনিক প্রশ্ন। যথা সময়েই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রায় এক দশক ধরে আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। ৮০ বছর বয়সের পরেও অনেক সাফল্য পেয়েছেন অনেক রাষ্ট্রনেতা। আপনি কি এখনও কাজ করার উৎসাহ পান?
আমি দেশের জন্য যথাসাধ্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। সফল হয়েছি কি না তা বিচার করবেন দেশের মানুষ।
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ
(বৃহস্পতিবার ডারবান থেকে ফেরার পথে বিমানে)
একই ভাবে রাজনৈতিক সমীকরণের ছবিটাও বিভ্রান্তিকর। কংগ্রেস নীতীশ-মুলায়ম-মমতাকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু এঁরা কেউই এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের পাশে থাকার ইঙ্গিত দেননি। মুলায়ম এখনও কেন্দ্রের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার না করলেও ক্রমাগত কংগ্রেসকে আক্রমণ করে চলেছেন। আবার বিহারকে আর্থিক প্যাকেজের আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও নীতীশের দল আজ জানিয়েছে, তারা এনডিএ-তেই থাকছে। আর কেন্দ্রে সংখ্যালঘু হয়ে পড়া মনমোহন-সরকারের এখনই ইস্তফা দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বও আজ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী দিনে তাঁদের সমর্থন পেতে কংগ্রেসকে অনেক পথ হাঁটতে হবে।
বাস্তব এই পরিস্থিতির কথা স্বীকার করছেন কংগ্রেস নেতারাও। তবে দলের এক বর্ষীয়ান নেতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গত কাল যা বলেছেন, তা নিয়ে জল ঘোলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই প্রশ্নের জবাবে তিনি আর কী বলতে পারতেন?” তাঁর ব্যাখ্যা, মনমোহন যদি বলতেন, যে তিনি আর প্রধানমন্ত্রী হতে চান না, তা হলে কংগ্রেসের মধ্যে একাংশ ওই পদের দৌড়ে সক্রিয় হয়ে উঠতেন। বিশেষ করে যখন রাহুল গাঁধী স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না। তাতে লোকসভা ভোটের আগে দলের মধ্যে রেষারেষি বাড়ত বই কমত না। বরং মনমোহন উচিত কথাই বলেছেন। কেন না কে বলতে পারে, যে লোকসভা ভোটের পর রাজনৈতিক সমীকরণ এমন হবে, যাতে মনমোহনকে পূর্ণ মেয়াদ না হোক অন্তত আরও কিছু দিন সেই পদে থাকতে হবে। সেই সঙ্গে তিনি এও মনে করিয়ে দেন, কংগ্রেস ভোটে জিতলে সনিয়া গাঁধী যাঁকে চাইবেন, তিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন। বাকিরা কে, কী বলল, কিছুই আসে-যায় না।

পুরনো খবর:


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.