নির্বাচন কমিশনের ভর্ৎসনা হজম করে ও তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিধিভঙ্গের দায় থেকে রেহাই পেল রাজ্য সরকার। বিধানসভা উপনির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারির পরে রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা)-র দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সুরজিৎ করপুরকায়স্থকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করায় নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ এনেছিল সিপিএম এবং কংগ্রেস। সেই অভিযোগ বিবেচনা করে সোমবার কমিশন জানিয়ে দিল, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে দিকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে রাজ্য সরকারকে। সরকার মেনে নিয়েছে সেই নির্দেশ। এর ফলে পুলিশ কমিশনারের পদে সুরজিৎবাবুর বদলি নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পেল।
|
সুরজিৎ করপুরকায়স্থ।
যাঁর বদলি ঘিরে
বিতর্ক। —নিজস্ব চিত্র |
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার সুনীল গুপ্ত কমিশনের ওই সিদ্ধান্তের কথা জানান। কমিশনের সিদ্ধান্তে সিপিএম সন্তুষ্ট। আইনশৃঙ্খলার কথা বলে রাজ্য সরকার এ যাত্রা পার পেলেও দিল্লিতে সিপিএমের তরফে নীলোৎপল বসু বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য সফল। তৃণমূল সরকার যে নির্বাচনী বিধি ভেঙেছে সেটা প্রমাণিত ও নথিভুক্ত হয়ে রইল।”
রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন মহাকরণে জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন পুলিশের বদলি বিষয়টি কমিশন পরে (পোস্ট ফ্যাক্ট) অনুমোদন দিয়েছে। যে দিন বদলি করা হয়, তার পরের দু ’দিন ছুটি ছিল। তাই এই ব্যাপারে কমিশনের আগাম অনুমতি নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্বরাষ্ট্রসচিব জানান, পরবর্তী কালে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে সে দিকে সতর্ক থাকতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। রেজিনগর, ইংলিশবাজার ও নলহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন কমিশনের আওতায় থাকা পুলিশকর্মীদের বদলি করার জন্য ক্ষমা চেয়ে সোমবার দুপুরে একটি চিঠি দেন স্বরাষ্ট্রসচিব। তিনি লিখেছেন, ‘ওই পুলিশকর্মীদের বদলি করার আগে কমিশনের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। আগাম অনুমতি না নেওয়ার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।’ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার জানিয়েছেন, চিঠিতে স্বরাষ্ট্রসচিব এ-ও উল্লেখ করেন যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি কলকাতা শহরের একটি স্পর্শকাতর এলাকায় একটি ঘটনা ঘটে। তাতে এক জন সাব-ইনস্পেক্টর নিহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতেই সুরজিৎ করপুরকায়স্থকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এসটাবলিস্টমেন্ট বোর্ড। শহরের যে পরিস্থিতি ছিল তাতে অন্য কিছু করার ছিল না।
আগে দল এক দফা অভিযোগ পেশ করলেও এ দিন দুপুরে দিল্লিতে সিপিএমের তরফে সীতারাম ইয়েচুরি নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা
করে লিখিত অভিযোগ করেন বিধিভঙ্গের। কমিশন ইয়েচুরিকে পাল্টা চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়, রাজ্য সরকার শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ওই কাজের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে। তাই কমিশন সরকারের পুলিশ বদলির সিদ্ধান্তকে অনুমোদন দিল।
|