দক্ষিণ কলকাতা: গড়িয়া, সোনারপুর
বারুইপুর
উড়ালপুলে গতি
গামী জানুয়ারির মধ্যেই বারুইপুর উড়ালপুল নির্মাণের সিংহভাগ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য পূর্ত দফতর। সব কিছু ঠিকঠাক চললে এই উড়ালপুল মার্চের মধ্যেই ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া যাবে বলে পূর্ত দফতরের আশা।
বারুইপুর শহরের মাঝখান দিয়ে চলে গিয়েছে রেললাইন। ফলে রেলগেটের যানজটে এলাকাবাসীর চরম ভোগান্তি নিত্যদিনের ঘটনা। বাসিন্দাদের এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই দিতে বাম আমলে ২০০৫ নাগাদ এই উড়ালপুল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ কোটি টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেই বছরই শুরু হয় কাজ। এর পরে জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় প্রকল্পের কাজের গতি ক্রমশ কমতে থাকে।
পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই উড়ালপুল তৈরির কাজ চলছিল ঢিমেতালে। পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, শেষমেশ বছরখানেক আগে ২০১১ সালে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় কাজ। সমস্যা সমাধানে আগের পরিকল্পনার কিছুটা বদলে দু’মাস আগে ফের কাজ শুরু হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী এখন কাজ শেষ করার সময়সীমা থাকছে ২০১৩-র জুন পর্যন্ত। তবে আগামী জানুয়ারির মধ্যেই উড়ালপুলের কাজের সিংহভাগ মিটিয়ে ফেলতে চায় দফতর। পুরোটাই নির্ভর করছে সময়মতো দফতরের হাতে বরাদ্দ টাকা এসে পৌঁছনোর উপরে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তাবিত উড়ালপুলের কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন দফতরের আধিকারিকেরা।
বারুইপুর পুরসভার চেয়ারম্যান, তৃণমূলের শক্তি রায়চৌধুরী বলেন, “বাম আমলে যে উড়ালপুল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাতে অনেক গলদ ছিল। সেই কারণেই কাজে এই দেরি। সেই সব গলদ ঠিক করে বর্তমান সরকার আবার উড়ালপুলটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।”
পূর্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর উড়ালপুলের যে অংশটি রেলের তৈরি করার কথা ছিল, তার কাজ হয়ে গিয়েছে। কলকাতার দিকের কাজও হয়েছে প্রায় পঁচাত্তর শতাংশ। কুলপির দিকের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। প্রথম দিকে পরিকল্পনা যা ছিল, তার অনেকটাই বদল করতে হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় ২০ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা। এই টাকার সিংহভাগই খরচ করছে রাজ্য সরকার।
এখন বারুইপুর উড়ালপুল নির্মাণকাজের তদারকি করছে রাজ্য পূর্ত দফতরের জাতীয় সড়ক বিভাগ। বিভাগের মুখ্য কার্যনির্বাহী বাস্তুকার বিনয় মজুমদার বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরে বারুইপুর উড়ালপুলের কাজ দ্রুত গতিতে হয়নি। ধীর গতিতে কাজ চলার পিছনে অনেক সমস্যা ছিল। সব সমস্যা মিটে গিয়ে এখন কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করাই আমাদের লক্ষ্য।’’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর পশ্চিমের বিধায়ক এবং রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতি রবিবার উড়ালপুলের কাজ কতটা এগলো, তা তদারকি করতে আসেন। বিমানবাবু বলেন, “বারুইপুরের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল একটি উড়ালপুলের। পূর্ত দফতরের কাছে উড়ালপুলের কাজ দ্রুত গতিতে করার আবেদন জানিয়েছিলাম। দফতরের আধিকারিকেরা তাতে উদ্যোগী হওয়ায় আমি খুশি।”

ছবি: পিন্টু মণ্ডল




অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.