দক্ষিণ কলকাতা
লেক গার্ডেন্স
অবাধ দখলদারি
হরে নিষিদ্ধ হলেও লেক গার্ডেন্স উড়ালপুলের নীচে আজও রমরমিয়ে চলছে খাটাল। শুধু খাটাল নয়। লেক গার্ডেন্স উড়ালপুলের নীচের ফাঁকা অংশটি কার্যত দখলদারদের কবলে চলে গিয়েছে। এই জায়গায় দখল করে গজিয়ে উঠেছে হরেক দোকান। এমনকী, বেআইনি ভাবে রাখা হয় বেশ কিছু গাড়িও। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, লেক গার্ডেন্স উড়ালপুলের নীচের এই ফাঁকা অংশটি রাজ্য পূর্ত দফতরের আওতায়। তা সত্ত্বেও পুরসভা অনেক বার দখলদার হটানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু বার বারই দখলদারির গ্রাসে চলে গিয়েছে এই ফাঁকা জায়গা।
চারুচন্দ্র প্লেস, ইন্দিরা স্মৃতি উদ্যান এবং লেক ডিপো সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষায় এই খাটালের জন্য এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে ওঠে। বাসিন্দা অলোক রায়চৌধুরী বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই এলাকায় দুর্গন্ধে বসবাস করা দায় হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া মশা, মাছি এবং পোকামাকড়ের উপদ্রব লেগেই থাকে।”
শহরের বুকে এই ভাবে খাটাল থাকা আইনসঙ্গত নয়। দশ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান তৃণমূলের তপন দাশগুপ্ত বলেন, “বিষয়টি সর্ম্পকে সবিস্তার খোঁজ নিয়ে দ্রুত ওই জমি থেকে যাতে দখলদারি সরানো যায় তার ব্যবস্থা করব।” তবে ৮৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৃণমূলের মমতা মজুমদার জানিয়েছেন, লেক গার্ডেন্স উড়ালপুলের নীচের জমিটি ফাঁকা পড়ে থাকার জন্য দখলদারির সমস্যা থেকে কিছুতেই মুক্ত করা যাচ্ছে না। পুলিশি সহায়তায় এখানে বেশ কয়েক বার দখল মুক্ত করা হলেও আবার তা দখল হয়ে গিয়েছে। যদিও খাটাল মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ওই খাটালে উপস্থিত কর্মচারীরাও কোনও কথা বলতে চাননি।
কী ভাবে খাস কলকাতায় এ ভাবে খাটাল থাকতে পারছে? মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কলকাতা শহরে খাটাল থাকতে পারে না। যদি থাকে তা অন্যায় ভাবে রয়েছে। আমরা এ ধরনের খবর পেলে পুলিশের সহায়তায় তুলে দিই। লেক গার্ডেন্সের ক্ষেত্রে কী হচ্ছে তা খোঁজ নিয়ে দেখব।” কলকাতা পুলিশের ডিসি (রিজার্ভ ফোর্স) অশোককুমার বিশ্বাসের বক্তব্য: “কলকাতার কোথাও খাটাল রয়েছে জানতে পারলে যাঁদের খাটাল তাঁদের প্রথমে তা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়। তার পরেও না সরালে তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিই।”
এই ফাঁকা জায়াগাটিকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার জন্য রাজ্য পূর্ত দফতরের কাছে দীর্ঘ দিন ধরে আবেদন জানানো হয়েছে বলে স্থানীয় কাউন্সিলর দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘বামফ্রন্ট সরকারের পূর্ত দফতর এই বিষয় নিয়ে কোনও আগ্রহ দেখায়নি। পূর্ত দফতরের কাছে এই জমির একটা ব্যবস্থা করার জন্য আবার আবেদন করেছি। এ বার কিছু হবে বলে আশা করছি।”
লেক গার্ডেন্স উড়ালপুলের নীচের এই ফাঁকা জমি পূর্ত দফতরের কাছ থেকে পাওয়া গেলে সেখানে একটি বাগান ও ছোটদের জন্য একটি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে মমতাদেবী জানান। তিনি বলেন, “এত বছরেও আমি আমার ওয়ার্ডে একটি অফিস করতে পারিনি। তাই বাগান এবং পার্কের পাশাপাশি ওই জমিতে একটি ওয়ার্ড অফিসও গড়ার ইচ্ছে আমার রয়েছে। কিন্তু সবটাই নির্ভর করছে জমিটি পাওয়ার উপরে।”
তবে পূর্ত দফতরের কাছ থেকে লেক গার্ডেন্স উড়ালপুলের নীচের ফাঁকা জমি পুরসভার আওতায় আসবে কি না তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি রাজ্য পূর্ত দফতরের যাদবপুর রেলওয়ে উড়ালপুল ডিভিশনের সহকারী বাস্তুকার চন্দন সামন্ত। তিনি বলেন, “লেক গার্ডেন্স উড়ালপুলের নীচের জমিকে ঘিরে যে সব সমস্যা রয়েছে, সকলের সহযোগিতা নিয়ে আমরা তার সমাধান করতে চাই।”

ছবি: পিন্টু মণ্ডল




অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.