রাজ্যের দাবি খারিজ
এনসিটিসি নিয়ে ঐকমত্যের আশা ছাড়ছেন না চিদম্বরম
ত কালই মুখ্যমন্ত্রীদের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন তিনি। জাতীয় সন্ত্রাস-দমন কেন্দ্র (এনসিটিসি) নিয়ে আসন্ন বৈঠকে যে সেই আক্রমণ আরও তীব্র হবে, তা-ও টের পেয়েছেন তিনি। কিন্তু তার পরেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম আজ ‘আত্মবিশ্বাসী’ ভঙ্গিতে জানিয়ে দিলেন, ৫ মে-র বৈঠকেই এনসিটিসি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যগুলির বিরোধ মিটে যাবে।
এমন নয় যে ৫ মে-র বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আজ অ-কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রীদের উদ্দেশে কোনও ইতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এনসিটিসি নিয়ে বেঁকে বসা মুখ্যমন্ত্রীদের নেতৃত্বে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত কাল পশ্চিমবঙ্গের তরফে দাবি তোলা হয়েছিল, মাওবাদী মোকাবিলায় রাজ্যে আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন বাবদ কেন্দ্র যে ৪২৩ কোটি টাকা চাইছে, তা মকুব করা হোক। এ বিষয়ে আজ কিন্তু কোনও প্রতিশ্রুতি দেননি চিদম্বরম। তাঁর বক্তব্য, “শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, আরও কয়েকটি রাজ্যও এই দাবি তুলেছে। কিন্তু কারওকে না কারওকে তো এই খরচ মেটাতেই হবে।” মাওবাদী অধ্যুষিত জেলাগুলির উন্নয়নে বাৎসরিক ৩০ কোটি টাকার বরাদ্দ বাড়িয়ে অন্তত ৩০০ কোটি করার দাবিও জানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ সে দাবিও খারিজ করে বলেন, জেলাপ্রতি ৩০ কোটি টাকার অঙ্কটি আদৌ কম নয়। বরাদ্দ এর চেয়ে বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় উপজাতি উন্নয়ন ও পঞ্চায়েতী রাজ মন্ত্রী ভি কিশোরচন্দ্র দেও-ও আজ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার মাওবাদী উপদ্রুত জেলাগুলির জন্য বিশেষ প্যাকেজ হিসাবে বাড়তি টাকার দাবি জানালে কেন্দ্র তা বিবেচনা করে দেখতে পারে। কিন্তু বরাদ্দ হিসাবে এর চেয়ে বেশি অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়।
দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: পিটিআই
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করার যে সব অভিযোগ গত কাল নরেন্দ্র মোদী, জয়ললিতা, নবীন পট্টনায়করা তুলেছিলেন, আজ তা-ও খারিজ করে দিয়েছেন চিদম্বরম। মোদী অভিযোগ তুলেছিলেন, দিল্লির একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের পাঁচ বার সম্মেলন হয়ে যাওয়ার পরেও এই অভিযোগ ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন চিদম্বরম। তার পরেই পাল্টা আক্রমণে গিয়ে তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার যদি সব দায়িত্ব নিতে চায়, আমরা সেখান থেকে সরে আসতে পারি। সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব নিক না রাজ্য, আমরা সরে দাঁড়াচ্ছি। রাজ্য মাওবাদী মোকাবিলার সব দায়িত্ব নিক, নিজস্ব বাহিনী তৈরি করুক। আমরাও কেন্দ্রীয় বাহিনী তুলে নিচ্ছি। কিন্তু তা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের তো এক সঙ্গে কাজ করতেই হবে।’’
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, অন্তত প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীদের আক্রমণের সামনে মাথা নোয়াতে রাজি নন চিদম্বরম। তা হলে কী ভাবে তিনি এনসিটিসি নিয়ে ঐকমত্যের আশা করছেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাখ্যা, এনসিটিসি কী ভাবে কাজ করবে, তা নির্দিষ্ট করে একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (এসওপি) তৈরি করা হবে। ৫ মে-র আগে মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে তা বিলিও করে দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা বলছেন, রাজ্য পুলিশকে এড়িয়ে এনসিটিসি যথেচ্ছ গ্রেফতার করতে পারে বা যেখানে খুশি তল্লাশি চালাতে পারে বলে মুখ্যমন্ত্রীদের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এনসিটিসি যে রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই চলবে, এসওপি-তে তা ব্যাখ্যা করা থাকবে। আজ দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহও ফের বলেছেন, “ভারতের মতো দেশে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগনোটাই একমাত্র পথ। কেন্দ্র ও রাজ্যকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। সন্ত্রাসবাদীদের মোকাবিলাও এক সঙ্গেই করতে হবে।”
রাজ্যের বিরোধিতার মুখে আজ আর একটি কাজ সুকৌশলে করার চেষ্টা করেছেন চিদম্বরম। এক দিকে নরেন্দ্র মোদী, জয়ললিতা, নবীন পট্টনায়কদের সঙ্গে অন্য মুখ্যমন্ত্রীদের আলাদা করে দেখানোর চেষ্টায় যুক্তি দিয়েছেন, “বহু মুখ্যমন্ত্রীরই কেন্দ্রের প্রতি কোনও অবিশ্বাস নেই।” অন্য দিকে বিজেপির বাকি মুখ্যমন্ত্রীদের থেকে নরেন্দ্র মোদীকে পৃথক করে দেখানোর চেষ্টায় বলেছেন, বিজেপির সব মুখ্যমন্ত্রীও কেন্দ্রের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেননি। জয়ললিতার অভিযোগ ছিল, কেন্দ্র রাজ্য সরকারগুলিকে পুরসভায় পরিণত করার চেষ্টা করছে। চিদম্বরম বলেন, কেবল এক জন মুখ্যমন্ত্রীই এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে বলা হয়েছিল, গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানের জন্য যে ‘মাল্টি-এজেন্সি সেন্টার’ বা ম্যাক তৈরি হয়েছে, সেখানে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিই ৯৭ শতাংশ তথ্য জোগান দিচ্ছে। সবগুলি রাজ্য মিলিয়ে আসছে বাকি তিন ভাগ। মোদী প্রশ্ন তুলেছিলেন, কোথা থেকে এই হিসেব মিলল, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করা হোক। এ বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশেরও দাবি তুলেছিলেন তিনি। চিদম্বরম কিন্তু নিজের যুক্তিতে অনড়। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যগুলি গোয়েন্দা তথ্য জোগাড় করছে এবং রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যেই তা বিলি করছে। ‘ম্যাক’-কে সেই তথ্যগুলি দিলে অন্য রাজ্যগুলিও তা পেতে পারে। বছরে অন্তত এক বার করে ‘ম্যাক’-এর দফতরে কাজ দেখতে যাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীদের ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন চিদম্বরম। মুখ্যমন্ত্রীরা যখন বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবি তুলেছেন, তখন রাজ্যগুলি যে কেন্দ্রের দেওয়া অর্থ পুরো খরচ করতে পারছে না, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন চিদম্বরম।


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.