শনিবারের নিবন্ধ ২...
রবীন্দ্রসঙ্গীতের চে গুয়েভারা
বীন্দ্রনাথের সার্ধশতবর্ষের উদ্যাপনে বাঙালি কেমন করেই জানি ভুলে রইল যে, এই বছরটায় ১৫০তম জন্মদিন বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়েরও। এই বাইশে শ্রাবণে কবির সপ্ততিতম মৃত্যুদিবসও স্মরণ করল বাঙালি; কিন্তু এখনও কী রকম সে ভুলে থাকছে ৬ ভাদ্র তারিখটা (ব্রাহ্ম সমাজের পত্তনের তারিখও এটা), যে দিন এ বছর শতবর্ষে পা দিচ্ছেন কবির গানের সেই যুগন্ধর শিল্পীটিদেবব্রত বিশ্বাস। জীবনে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়ে ১৯৮০-র এক শ্রাবণ দিনে (১৮ অগস্ট) যে দিন তিনি তাঁর ১৭৪ ই রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের বাসা খালি করে চলে গেলেন চিরদিনের মতো, সে দিন থেকেই তিনি আস্তানা গাড়লেন এ পার বাংলা-ও পার বাংলার কোটি মানুষের বক্ষস্থলে। মানুষের বুকের যে অঞ্চলে অমর মানুষের বসবাস। মনে আছে সে দিন রাতে বাড়িতে বেজেছিল ওঁর কণ্ঠে চিরস্থায়ী করা কবির সেই গান যা এক বার শোনানোর অনুরোধ করায় হেসে বলেছিলেন, ‘বেশ তো হাসতাছি, আমারে কান্না করাইয়া কী মজা পান, কন তো?’-‘মম দুঃখের সাধন যবে করিনু নিবেদন তব চরণতলে/ শুভলগন গেল চলে’।
তাঁর শতবার্ষিকীতে বাঙালির হেলদোল নেই দেখে সব চেয়ে বেশি খুশি হয়তো হতেন জর্জদাই, কোনও রকম আনুষ্ঠানিকতার প্রতীকী বিরোধ ছিল মানুষটার! জীবনের শেষবেলায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের অনুরোধ ফেলতে না পেরে মঞ্চে সংবর্ধনা নিতে বসেছিলেন। ১৯৭১-এ গান রেকর্ড করা বন্ধ করার পর থেকে গোটা দশক জুড়ে নিজের ছোট্ট বসার ঘর কাম গানের ঘর কাম আপিস ঘরটাকেই এক মঞ্চ করে সাজিয়ে বসেছিলেন জর্জদা। সেখানে বসেই আড্ডা, চিঠি লেখালেখি-পড়াপড়ি, তাস, চা, পান, গান, অভিমান, স্মৃতি রোমন্থন সব চলছে। যাকে ভাল বুঝছেন বাজিয়ে দেখছেন মানুষ ওঁকে ভালবাসে কী বাসে না। বাসলে কতটুকু বা ক-তখানি। একদিন ওঁর লেখা দশটা চিঠির পাঠ শোনার পর একটা গানের অনুরোধ করায় কী অভিমান!‘আপনে তো ফ্রিতে গান শোনতে আসেন, আমার জন্য আসেন না!’ গিয়ে গিয়ে ক্রমশ বুঝছিলাম যে এত বড় এক জন শিল্পী যাঁর গানের টিকিটের জন্য লাইন পড়ে, তিনি গানকে কী ভাবে মঞ্চ থেকে বার করে নিজের খোলামেলা দৈনন্দিন জীবনের ভাষা ও ভাষ্য করেছেন, বলতে গেলে এক নিত্যব্যবহার্য শিল্প করেছেন। ফতুয়া আর লুঙ্গি পরে পান চিবোতে চিবোতে হারমোনিয়ামের রিড-এ খেলা করছেন, আড় চোখে দেখলেন বাইরে মেঘ হচ্ছে, বললেন, ‘ভাবতাছেন আমি বর্ষার গান গামু? না গামু না।’ বলেই ধরলেন ‘নয়ন ছেড়ে গেলে চলে, এলে সকল-মাঝে--/তোমায় আমি হারাই যদি/ তুমি হারাও না যে...’ আমি শুনছি আর ভাবছি, এ কী মানুষ রে ভাই! কী প্রেম! কী ঔদ্ধত্য!
গান শেষ করে বললেন, “মনটা একটু ভাল হইল, অ শ্রীকান্ত, আমাগরে চা দ্যাও।”
জিজ্ঞেস করতেই হল, মন ভাল হল কেন?
বললেন, “বোঝলাম আপনে আমার শত্তুর নন।”
বললাম, তাই? কী ভাবে বুঝলেন?
বললেন, “এই বাদলার দিনে একখান পূজার গান এই হাঁইপ্পো গলায় শুইন্যা ফালালেন।”
বলেই হাঁপানির স্প্রে বার করে মুখে পাম্প করতে লাগলেন।
১৪১৮-র ৬ ভাদ্রর পাশে এসে এই মানুষটাকেই আজ সব চেয়ে বেশি রাবীন্দ্রিক বলে ঠাওর হচ্ছে। বব ডিলানের মতো উনি গানকে লাইফস্টাইলে বেঁধেছিলেন, অ্যাকসেসরি বা অনুষঙ্গ করে নয়, হাতের হাঁপানির স্প্রের মতো জীবনদায়ী শ্বাস হিসেবে। কোনও আদিখ্যেতা ছাড়াই, অনুরোধ-উপরোধ ছাড়াই, একটু গলা সাধার প্রয়োজন ছাড়াই, অদ্ভুত অদ্ভুত সব গান গেয়ে ফেলছেন শুধু, ওঁর ভাষায়, ‘একটু খুলে দেখার জন্য।’ অর্থাৎ গানটাকে একটু কাছ থেকে দেখা!

***

একটা প্রশ্ন অনেকের মনেই উঠেছিল রবীন্দ্রনাথের কপিরাইট এবং ওঁর গানের বোর্ড যখন উঠে গেল। প্রশ্নটা হল: এই মুহূর্তে দেবব্রত বিশ্বাস বেঁচে থাকলে নতুন কী করতেন যা আগে করা সম্ভব ছিল না। তাতে ঘুরেফিরে একটিই উত্তর আসছিল: যা তিনি করেছেন ষাট এবং সত্তর দশকে অবিকল তাই। প্রাণ দিয়ে স্বরলিপির মধ্যে গান প্রতিষ্ঠা করা। স্বরলিপি ভাঙার কথা তিনি কদাচ ভেবেছেন, স্বরলিপির মধ্যে গান খুঁজেছেন, গান গেয়ে গেয়ে তাদের একটু ‘খুলে দেখেছেন’। একদিন প্রবল উত্তেজনার মুখে ওঁর মুখে কঠিনতম কথাটা শুনে ফেলেছিলাম; বলেছিলেন, “নিছক স্বরলিপিচর্চা (পড়ুন নিষ্প্রাণ স্বরলিপি পরিবেশন) পরের বাড়ির বাসন মাজার মতোন।” যার অর্থ নিজের ইচ্ছে ও সুবিধে মতো স্বর লাগানো নয়, স্বরকে নিজের মতো করে বোঝা, আত্মস্থ করা, তাকে নিজের কণ্ঠ ও মেধা দিয়ে রূপদান করা। রবীন্দ্রসঙ্গীতে প্রায় স্বশিক্ষিত দেবব্রত বিশ্বাসের প্রবল আকর্ষণ ছিল স্বরলিপির প্রতি, স্বরলিপির বই দেখে গান তুলেছেন গলায়। কিন্তু গান শিখেছেন ইন্দিরা দেবী চৌধুরানীর কাছে, যিনি রবীন্দ্রনাথের কিছু গান পিয়ানো বাজিয়ে গাইতেন, কোনওটি বা হার্মোনাইজ করে নিতেন। নিজের অনুষ্ঠানে দেবব্রতকে দিয়ে গানও গাইয়েছেন ইন্দিরা দেবী। ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে যে কয়েকটি উপায়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতে প্রাণ সঞ্চার করা যায় তার একটি দেবব্রত শিখেছিলেন ইন্দিরা দেবীর কাছে।
পণ্ডিতি করার জন্য নয়, একেবারেই কার্যকারণ হেতুতে চিত্রপরিচালক জ্যঁ লুক গোদার-এর একটা উক্তির স্মরণ নিচ্ছি। যখন বলেছিলেন নিজের সময় ও মানুষের পরিচয় দিতে, ‘উই আর দ্য চিল্ড্রেন অফ মার্ক্স অ্যান্ড কোকা কোলা’। আজকের প্রজন্মের রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীরা হয়তো জানেন, হয়তো জানেন না যে, তাঁদেরও এক সার্থক, সম্যক পরিচিতি এই যে, তাঁরা রবিঠাকুর আর জর্জদার সন্তান। কবির গান আর জর্জদার গায়নই তো তাঁদের ঘোর আচ্ছন্ন করে আছে। খোলা গলা, উদাত্ত স্বরক্ষেপ, মার্জিত দরদ, প্রসন্ন মেজাজ, আনন্দ ও বিরহের প্রতি সমান আনুকূল্য, এবং গভীর প্রেম জর্জ বিশ্বাসের এই যে এক প্যাকেজ ওঁর গানকে ষাট ও সত্তর দশকে টপ অফ দ্য চার্ট করে রেখেছিল (আশির দশকের গোড়ায়ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আমাকে বলেছিলেন, রবীন্দ্রসঙ্গীতের সেল রিপোর্ট যা দেখেছি তাতে আমাদের সবার চেয়ে জর্জের বিক্রিই বেশি) এবং আজও প্রায় অম্লান রেখেছে তা দশকে-দশকে নতুন নতুন ভক্ত-বাহিনী গড়ে নিয়েছে। শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীতের উঠতি শ্রোতাদের মধ্যে নয়, আধুনিক, ফিল্মি গান, বিলিতি পপ, দেশি উচ্চাঙ্গ, লোকগান কী ব্যান্ড গীতির ভক্তসমাজ থেকেও আজকের রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীদের সত্যি যদি কোনও ভগীরথ থেকে থাকেন তবে তা ওই এক ও অদ্বিতীয় জর্জদা।
গোটা রবীন্দ্রসঙ্গীতকেই ‘প্রান্তরের এ গান আমার’ বলে ঘোষণা করে দিতে পারতেন জর্জদা। কারণ গানকে চার দেওয়ালের বাইরে নয়তো হৃদয়ের গভীরদেশে নিয়ে যাওয়ার একটা পূর্ণতা ছিল জর্জদার। মেস থেকে মেসে, এখান থেকে ওখানে শেষে ১৭৪ ই রাসবিহারীতে দীর্ঘকাল এক শহুরে বাউলের জীবন কাটিয়ে গেছেন জর্জদা। এক সময়ে একটা হিলম্যান গাড়িও কিনে ফেলেছিলেন, সেটা কিছু দিন চড়ে কাকে একটা দানও করে দিলেন। যত দিন না পড়ে পা ভেঙেছেন তত দিন দিব্যি হু-হু করে চালিয়ে বেড়িয়েছেন একটা মোটর সাইকেল। নিজের মধ্যে থুম হয়ে বসে থাকা জর্জদা বহিরঙ্গে এ ভাবে গতি আনার চেষ্টা করেছেন। আজকে যখন কোনও নবীন যুবাকে পিলিয়নে বান্ধবীকে বসিয়ে মোটরবাইকে ছুটতে দেখি আমার প্রশ্ন জাগে, ও কানের হেডফোনে কী শুনছে? ও কী জর্জদার ‘আমি চঞ্চল হে আমি সুদূরেরও পিয়াসী’ শুনছে? হয়তো এ গানের অস্তিত্বের কথা ও জানেই না, কিন্তু এই মুহূর্তে এই দৃশ্যে আমার ওকে জর্জদার এক নবীন সংস্করণ বলে মনে হচ্ছে। এমনই ভাবে আজকের যুবশ্রেণির মধ্যে জর্জদা ভর করেছেন। বুক ভরা প্রেম নিয়ে নবীনদের ওপর কী ভাবে ভর করতেন ভদ্রলোক তার একটা উদাহরণ দিই?
তখন বাজারে ব্রয়লার চিকেনের রব উঠেছে, উনি তাই রেঁধে খাওয়ানোর নেমন্তন্ন করলেন। কাগজের শিফটের ডিউটির দরুন গিয়ে উঠতে পারিনি, দু’দিন পর অফ ডে-তে গিয়ে দেখি কী অভিমান ভদ্রলোকের! ‘‘আপনারা টাকার মর্ম কবে বুঝব্যান কন দিকি? আমি ব্রয়লার চিকেন আইন্যা রাঁইধলাম সারা সকাল ধইর্যা আর আপনাগোর পাত্তা নাই। আর সামনে আইয়া তো ‘জর্জদা’, ‘জর্জদা’ কইর্যা হ্যাদাইয়া যান। আমি সব বুঝতাছি।”
যেন কিছুই ঘটেনি এমন ভাব করে বললাম, “আচ্ছা জর্জদা, ইদানীং ভীষণ দুঃখের গান শোনার নেশা হয়েছে আমার। এটা কি কোনও ডিপ্রেশনের লক্ষণ?” এ কথার সঙ্গে সঙ্গে জর্জদার সারা মুখে ‘আহা বেচারি!’ ভাব একটা ছড়িয়ে পড়ল, উনি অনেক ক্ষণ একদৃষ্টে আমার দিকে তাকিয়ে শেষে বললেন, “আপনে কি প্র্যামে পড়তাছেন নাহি?” আমি কিছু উত্তর করলাম না। উনি তখন হারমোনিয়াম বাগিয়ে গান ধরলেন, ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে।’ এক ফাঁকে জানলার বাইরে চোখ চালিয়ে দেখে নিলেন আকাশ জুড়ে কী রকম ঘন কালো মেঘ এবং তুমুল বৃষ্টির সম্ভাবনা। আমার কল্পিত দুঃখ এবং ওঁর ধূর্ত চিকিৎসা মিলেমিশে এক হয়ে এক অসাধারণ দ্বিপ্রহর সৃষ্টি হল। আমার বয়েস তখন ২৬, ওঁর ঠিক তার উল্টো, ৬২। যে বয়সে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর মধ্যে ওঁর বিজয়াকে খুঁজে পাচ্ছেন।
জর্জদাকে তাঁর শেষ বছরগুলোয় দেখে একটা কথা বারবার মনে হয়েছে যে, রবীন্দ্রসঙ্গীত শুধু গাওয়ার গান নয়, গুরুমন্ত্রের মতো ধারণ করার গান। জর্জদাকে দেখেছি বোর্ডের ওপর একশো অভিমান বর্ষণ করে অনুতাপে আক্রান্ত মন নিয়ে যেন রবীন্দ্রনাথের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছেন। কী ভাবে? না খাতা খুলে কিছু ক্ষণ শব্দগুলোর ওপর ধ্যান করে দরদে ও কান্নায় সিক্ত কণ্ঠে গেয়ে ওঠা,
‘যতবার আলো জ্বালাতে চাই, নিবে যায় বারে বারে।
আমার জীবনে তোমার আসন গভীর অন্ধকারে।’


যখন শুনছি খেই হারিয়ে ফেলছি, জর্জদাকে শুনছি, না স্বয়ং রবীন্দ্রনাথকে।
প্রতিবাদই বলুন, আন্দোলনই বলুন, স্বাধীনতা বলুন, চাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আজকের প্রজন্মের রবীন্দ্রসঙ্গীতকারদের চে গুয়েভারা হলেন জর্জ বিশ্বাস। গান দিয়ে জীবন এবং জীবন দিয়ে গানকে ব্যাখ্যা করেছেন। নতুন নতুন সুর যোগ করলে কী তান বিস্তার করলে, তাল বদলালে কী বর্জন করলে, বিলিতি যন্ত্র বা স্ট্রোব লাইট জুড়লে, আলাপ লাগালে বা গানকে গজল বানালে তা হবে না, কারণ এর কোনও কিছুরই সুযোগ ও পরিসর রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে রাখেননি। একটু মনোযোগ দিয়ে শুনলে দেখা যাবে প্রচলিত স্বরলিপি থেকে দেবব্রত বিশ্বাস তেমন ভাবে কোথাও কিন্তু বিচ্যুত হননি, বরঞ্চ অনেক গায়ক-গায়িকার চেয়ে স্বরলিপি অনুগ ছিলেন। ‘এসেছিলে তবু আস নাই’ গানের অন্তরাতে ‘চঞ্চল’ কথাটায় সুর ‘ভুল’ হয়েছে বলে মিউজিক বোর্ডের অভিযোগের উত্তরে তিনি শান্তিদেব ঘোষের কাছ থেকে মধ্যমযুক্ত স্বরলিপির লিখিত সমর্থন উল্লেখ করেছেন সন, তারিখ, স্বাক্ষর সমেত। এই সব পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটার কোনও কারণ নেই আজ আর। নতুন সহস্রাব্দে, পুরাতন চেহারাতেই এক নতুন আন্দোলন বয়ে আনছেন যখন জর্জদা।
আজ তাঁর শতবর্ষ লগ্নে জর্জদাকে নিয়ে ভাবতে বসে বারবার যে মূর্তিটি চোখের সামনে ভেসে উঠছে সেটি রবীন্দ্রনাথের। মৃত্যুর কিছু কাল আগে যে রবীন্দ্রনাথ রাণী মহলানবিশকে বলছেন, “... আমি প্রতিদিন শেষরাত্রে উঠে চুপ করে বসে নিজের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করি। এক-একদিন পারিনে, শক্ত হয়। কিন্তু আবার কোনও কোনও দিন দেখি ফস্ করে বাঁধন আলগা হয়ে গেছে। যেন স্পষ্ট দেখতে পাই আমার ছোটো-আমিটা ঐ দূরে আলগা হয়ে বসে রয়েছে, যাকে তোমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলো সেই মানুষটা। সেই লোকটা অতি তুচ্ছ। তার রাগ আছে, ক্ষোভ আছে, আরো কত ক্ষুদ্রতা...; তার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই, আমি তার চেয়ে অনেক বড়ো।” এই শেষবেলাকার রবীন্দ্রনাথে আক্রান্ত ছিলেন জর্জদা। কবির গান গেয়ে গেয়ে অবিরত আত্মশুদ্ধির এক প্রক্রিয়ায় মাতোয়ারা এক অত্যাধুনিক মানুষ।
ভারতীয় জীবনে এখন ঘণ্টায় চারটে করে আইকন ঝরে পড়ছে। পরপর দু’টো ছবি লাগলে, দু’টো সেঞ্চুরি হলে, একটা গানের অ্যালবাম হিট করলেই আইকন। এদের পক্ষে জর্জদার শতবার্ষিকী ভুলে যাওয়া আশ্চর্যের নয়। হয়তো এ-ও সত্যি যে, যাঁর গান আমাদের ঘিরে আছে না-দেখা ছায়ার মতো তিনি যে আছেন বা একশোয় পড়লেন তা না-ই বা এল মনে। তিনি যদিও রেকর্ড করে যাননি তাঁর প্রিয় হেমন্তের মতো, তবু আজকের কাউকে সামনে পেলে গেয়ে উঠতেই পারতেন:
‘মনে রবে কি না রবে আমারে সে আমার মনে নাই।
ক্ষণে ক্ষণে আসি তব দুয়ারে, অকারণে গান গাই॥


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.