বুধবার একটি বুনো হাতির হামালায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নাগরাকাটার ব্লক কৃষি আধিকারিকের দফতর। দফতর সূত্রের খবর, হাতিটি দফতরটিতে ভাঙচুর চালিয়েছে। দফতরের আলমারিও হাতিটির হানায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। দফতরের প্রতিটি ঘর তছনছ হয়ে যাওয়ায় দফতর খোলাই মুশকিল হয়ে পড়েছে আধিকারিকদের। উল্লেখ্য দুই মাস আগেও একটি বুনো হাতি দফতরের কৃষি খামার ও গুদামে হামলা চালায়। সেই বার খামারের ফসল খেতেই ঢুকেছিল হাতিটি। নাগরাকাটার ব্লক কৃষি আধিকারিক দিলীপ পাল বলেন, “প্রায় দুই লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দফতর চত্বরের অন্য একটি ঘরে অস্থায়ীভাবে অফিস বানানো হচ্ছে।” বন দফতর সূত্রের খবর, হাতিটি চাপড়ামারির জঙ্গল থেকে বার হয়ে জলঢাকা নদী হয়ে এলাকায় ঢোকে। জলপাইগুড়ি বন্যপ্রানী (২) বিভাগের ডিএফও সুমিতা ঘটক বলেন, “ফসলের লোভে হাতি কৃষি দফতরে গুদামে হানা দেয়। তবে দফতরের অফিস ঘর আলমারি ভাঙচুরের মতো ঘটনা সচরাচর ঘটে না।”
|
জলদাপাড়া অভয়ারণ্যকে সরকারি ভাবে জাতীয় উদ্যান বা ‘ন্যাশনাল পার্ক’ ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক। উত্তরবঙ্গের তোর্সা নদীর তীর বরাবর ২১৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই বিস্তৃত বনাঞ্চল যে দেশের জাতীয় উদ্যানের তালিকায় ঠাঁই পেতে চলেছে, মাস কয়েক আগেই বনমন্ত্রকের উপদেষ্ঠামণ্ডলীর সভায় তা সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল সরকারি শিলমোহর। বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে চিঠি দিয়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যের পঞ্চম জাতীয় উদ্যান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সমগ্র জলদাপাড়াকেই। এই খবরে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি বনমন্ত্রী হিতেন বর্মন। তিনি বলেন, “এর ফলে জলদাপাড়া সংরক্ষণে আমাদের দায়িত্ব অবশ্য বেড়ে গেল।” ১৯৪১ সালে জলপাইগুড়ি জেলার আলিপুরদুয়ার মহকুমায় নদী কেন্দ্রিক এই জঙ্গলকে অভয়ারণ্যের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। এক শৃঙ্গ গণ্ডার, হাতি, বাইসন (গাউর), চিতাবাঘ, ভালুক পাঁচ প্রজাতির হরিণ, বিভিন্ন প্রজাতির বাঁদর ছাড়াও জলদাপাড়ায় বাঘেরও সন্ধান মিলেছে সম্প্রতি। রয়েছে অন্তত ৪২ প্রজাতির পাখি। বন্যপ্রাণ আইন অনুসারে জাতীয় উদ্যানের স্বীকৃতি পাওয়ায় জলদাপাড়ার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাড়তি কেন্দ্রীয় অনুদানের পাশাপাশি, জঙ্গল সংরক্ষণের জন্য পাওয়া যাবে বাড়তি নিরাপত্তা বাবস্থাও। |