প্রত্যাশার চাপে সময় চাইলেন কেজরিওয়াল

২৯ ডিসেম্বর
কুয়াশা কাটিয়ে তখনও সূর্যের মুখ দেখেনি দিল্লি। কৌশাম্বির গিরনার টাওয়ারের সামনে ভিড় জমতে শুরু করল।
শহরের নানা প্রান্ত থেকে। নানা পেশার। নানা বয়সের। নানা চাহিদারও।
সেই নানা চাহিদার চাপ কতটা, ভিড়ের সঙ্গে ক’ঘণ্টা কাটিয়েই তা টের পেলেন গিরনার টাওয়ারের একটি তিন কামরার ফ্ল্যাটের বাসিন্দা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
কালই রামলীলা ময়দানে শপথ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পদে। এখনও সরকারি বাংলো নেননি। নিতে চাননি সরকারি নিরাপত্তা। জানিয়েছেন, লাল বাতি লাগানো গাড়ি চাই না তাঁর।
তাতে কী? আম আদমির তো চাহিদার শেষ নেই। এবং সেটা কতটা, তা প্রথম দিন জনতা দরবারে এসেই বুঝে গেলেন অরবিন্দ। কতকটা যেন বাধ্য হয়েই তাই প্রথম দিন দরবারে ভিড় করা জনতার কাছে সময় চেয়ে নিয়ে বললেন, “আমাকে সাত থেকে দশ দিন সময় দিন। কোনও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। আমরা সবে দায়িত্ব নিয়েছি। সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা তৈরি করতে সময় লাগবে।”
সময় যে লাগবে, সেটা বিলক্ষণ বোঝেন অরবিন্দ। তবু দ্রুত এগোতে চেয়ে প্রথম দিন থেকেই পা ফেলতে শুরু করেছেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত নিজের ‘টিম’ গড়ার কাজে হাত দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎসচিব আর কে বর্মা, দিল্লি জল পর্ষদের সিইও দেবশ্রী মুখোপাধ্যায়-সহ ন’জন আমলাকে বদলি করেছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতের সচিব এম এম কুট্টিকে সমাজকল্যাণ দফতরে পাঠিয়ে উচ্চশিক্ষা সচিব রাজেন্দ্র কুমারকে প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি নিয়োগ করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ দফতরের আমলাদের নিয়ে কৌশাম্বির ফ্ল্যাটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনাড়ম্বর ভাবে কয়েকটা বৈঠকও করেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, বর্ষশেষের উৎসব আসছে ঠিকই, কিন্তু তিনি নিজে ছুটি নেবেন না। আমলাদেরও ছুটি মিলবে না।
ছুটি মিলবে কী করে? প্রথম দিন জনতার দরবারে পা রেখেই কয়েক’শো আবেদন হাতে এসেছে তাঁর! দিল্লি পরিবহণ নিগমের আড়াইশো অস্থায়ী কর্মচারী সাতসকালেই পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে। দাবি, ঠিকা কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা বন্ধ করে পাকা চাকরি। এমনটাই প্রতিশ্রুতি ছিল আম আদমি পার্টির ইস্তাহারে। নিজেদের সমস্যা নিয়ে হাজির ছিলেন বাল্মিকী সম্প্রদায়ের মানুষ। কেজরিওয়াল শপথ নেওয়ার ঠিক আগেই বাস-অটোর জ্বালানির দাম বেড়েছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অটো চালকদের দাবি, হয় জ্বালানির দাম কমুক। না হলে ভাড়া বাড়ানো হোক। ব্যক্তিগত ও স্থানীয় সমস্যা নিয়েও হাজির হয়েছিলেন অনেকে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সব অভিযোগ নেওয়া হবে। শুধু পদক্ষেপ করার জন্য একটা ব্যবস্থা তৈরির সময় চাই। দরবারের জনতাকে তাঁর অনুরোধ, “আপনাদের সাত-দশ দিন পরে আবার আসতে হবে। ব্যবস্থা তৈরি হয়ে গেলেই সকলের আবেদন নেওয়া হবে।”
কিন্তু আম আদমির এই বিপুল প্রত্যাশা কি পূরণ করতে পারবেন অরবিন্দ? প্রথম দিনের দরবারে হাজির অটোচালক খাজান সিংহ কিন্তু আত্মবিশ্বাসী। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “কেন পারবেন না? যাঁর কাজ করার ইচ্ছা আছে, যিনি মানুষের সেবা করবেন বলে উঁচু পদের চাকরি ছেড়ে এসেছেন, তিনি না পারলে কে পারবেন?” সগর্বে দশ টাকার রসিদ বের করে দেখালেন, তিনিও আপ-এর সদস্য। দাবি করলেন, অরবিন্দকে মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসানোর পিছনে তাঁরও অবদান আছে। কী রকম? খাজান সিংহের যুক্তি, “গত তিন-চার মাসে যাঁদেরই অটোতে বসিয়েছি, আম আদমি পার্টির কথা বলেছি। বুঝিয়েছি, এই লোকটা সৎ। অনেকে বলেছে, অভিজ্ঞতা নেই। আমি বলেছি, দুর্নীতি ছাড়া আর সব কিছুর অভিজ্ঞতা আছে।” খাজানের একটাই চিন্তা। কংগ্রেস-বিজেপি এই সরকারকে কাজ করতে দেবে তো?
কংগ্রেস-বিজেপি কাজ করতে দেবে কি না, পরের প্রশ্ন। কিন্তু ছেলে যাতে কাজ করতে পারে, সব বাধা দূর করে আম আদমিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারে, সে জন্য আজই কৌশাম্বির কাছে এক মন্দিরে যজ্ঞ করেছেন অরবিন্দের বাবা গোবিন্দরাম কেজরিওয়াল। বাবার বিশ্বাস, ছেলের ভগবানে আস্থা রয়েছে। তিনিই ছেলেকে রক্ষা করবেন। ছেলে প্রতিদিন বাড়ি থেকে বেরনোর সময় তাঁর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন। মুখ্যমন্ত্রী হয়েও তা বদলায়নি। ফলে সব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে অসুবিধা হবে না।
অরবিন্দ যখন আম আদমিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনের দৌড় শুরু করছেন, তখন তাঁকে নিয়ে ঘুম ছুটেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কর্তাদের। কারণ কৌশাম্বি এলাকাটা দিল্লি লাগায়ো উত্তরপ্রদেশে। জনতার দরবারে হাজির হয়ে পুলিশ-কর্তারা অনুরোধ করেন, বাড়ির বাইরে যে ভাবে ভিড় জমছে, তা দেখে অন্তত মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তা নিতে রাজি হোন। কিন্তু অরবিন্দ তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আসা দিল্লি পুলিশের কম্যান্ডোদেরও ফিরিয়ে দিয়েছেন। ফলে মহা সমস্যায় পুলিশ-কর্তারা। আবাসনের বাইরে মেটাল ডিটেক্টর দরজা বসানো হয়েছে। কিন্তু কেজরিওয়াল যখন জনতার সঙ্গে দেখা করতে বাইরে আসছেন, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, তাঁর নিরাপত্তার দরকার নেই। পুলিশ শুধু ভিড় আর ট্রাফিক সামলাক। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাই ট্রাফিক সামলাচ্ছে আর দিল্লি পুলিশের সাদা পোশাকের অফিসাররা আবাসনের ভিতরে মোতায়েন রয়েছেন।

পুরনো খবর:


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.