এক মাসের ব্যবধানে তিনটি বাড়িতে লুঠ। লুঠের ধরনও এক। সব ক্ষেত্রেই তদন্তে নেমে কার্যত অন্ধকারে পুলিশ। লালবাজার সূত্রের খবর, সংযোজিত এলাকায় পরপর চুরি-ডাকাতির কিনারায় নাকাল হচ্ছেন তদন্তকারীরা। এর পিছনে পুলিশের ‘সোর্স নেটওয়ার্কে’র অভাবকেই দায়ী করছেন পুলিশের একাংশ।
২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে দক্ষিণ শহরতলিকে কলকাতা পুলিশের আওতায় আনতে উদ্যোগী হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে বছর সেপ্টেম্বরে ওই এলাকাগুলির দায়িত্ব নেয় কলকাতা পুলিশ। দু’বছরেও কেন ‘নেটওয়ার্ক’ গড়ে উঠল না, সে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ জানায়, রবিবার সন্ধ্যায় পূর্ব পুঁটিয়ারির এক বহুতলে মালবী বিশ্বাস নামে এক বৃদ্ধার ফ্ল্যাটে ঢুকে তাঁকে বেঁধে সোনার গয়না লুঠ করে পালায় দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবক। রাতে ওই বৃদ্ধা পুলিশে লুঠের অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। একই কায়দায় শুক্রবার কসবার জোহরাবাগান লেনে অরুণ মজুমদারের বাড়িতে হানা দেয় এক যুবক। অরুণবাবুর স্ত্রী বেলাদেবী জানান, ওই যুবক পুরনো শিশি-বোতল কিনতে আগেও তাঁদের বাড়ি এসেছিল। বৃদ্ধ দম্পতিকে বেঁধে লুঠপাট সেরে তাঁদের শৌচাগারে আটকে পালায় সে। তারও আগে, গত ৪ ডিসেম্বর শাড়ি বিক্রির অছিলায় ঘরে ঢুকে কসবার বাসিন্দা বৃদ্ধা রত্না মুখোপাধ্যায়কে বেঁধে লুঠ করে পালায় দুষ্কৃতীরা।
শেষ দু’টি ক্ষেত্রে অভিযুক্তের স্কেচ আঁকিয়েও দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা যায়নি। তদন্তকারীরা বলছেন, দক্ষিণ কলকাতার সংযোজিত এলাকা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অপরাধীদের মধ্যে পুলিশের সোর্স তেমন না থাকায় তড়িঘড়ি কিনারা হচ্ছে না। তাঁদের দাবি, বহু ক্ষেত্রে দুষ্কৃতীরা জেলা থেকে এসে কাজ সেরে পালাচ্ছে। ওই এলাকায় কারা কাজ করে, তা জানতে নির্ভর করতে হচ্ছে জেলা পুলিশের উপরেও।
পুলিশ সূত্রের খবর, নতুন এলাকার দায়িত্ব নেওয়ার সময়েই পুলিশকর্মীর অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। শেষমেশ কম পুলিশ নিয়েই থানাগুলি তৈরি হয়। ফলে নতুন এলাকায় তেমন নজর রাখা যাচ্ছে না। লালবাজার সূত্রের খবর, যাদবপুর ডিভিশনে থানা ও ডিসি অফিস মিলিয়ে শ’পাঁচেক কর্মী-অফিসার। যা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট কম। অভিযোগ অস্বীকার করে গোয়েন্দাপ্রধান পল্লবকান্তি ঘোষ বলেন, “কসবার সাম্প্রতিক দু’টি ঘটনার তদন্ত চলছে। অপরাধীরা ধরা পড়বে।” পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্তের স্কেচ বিভিন্ন থানা ও জেলা পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। কসবার ওই এলাকা এবং তার লাগোয়া এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুরনো শিশি-বোতল কেনে, এমন ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। |