ওডাফাদের চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি ‘দ্য বুলেট’
করিমের আজ চাকরি বাঁচানোর ম্যাচ
পনার টিমের কাছে হারলে করিম বেঞ্চারিফার চাকরি চলে যেতে পারে, জানেন?
পুণের ডাচ কোচ মাইক স্নোয়ি প্রশ্ন শুনে হাসেন! “শুনছি। আমরা তো এখানে জিততে এসেছি, এ সব নিয়ে তাই মন্তব্য করব না। শুধু এটা বলছি, আমার জন্মদিনের পার্টি হলে ওকে নিমন্ত্রণ করব না। লোকটার সব কাজ ঘিরেই কেমন যেন ধোঁয়াশা!”
শোনা যাচ্ছে আপনাদের কোচ দশ দিনের ছুটি নিয়ে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন? বাগানের এক শীর্ষকর্তাকে শুক্রবার সকালে ফোনে ধরা হলে তাঁর মন্তব্য, “কাল পুণে ম্যাচের পর প্রশ্নটা করুন। দশ দিন না ওটা দশ মাস-- তখন বলে দেব!”
যা পরিস্থিতি তাতে সরু সুতোর উপর ঝুলছে করিমের এই পর্বের কোচিং জীবন। বারাসতের আজ শনিবারের ম্যাচ তাঁর শেষ লাইফ লাইন! জানাচ্ছেন ক্লাব কর্তারা। করিম ক্লাবের এই মনোভাবের পাল্টা তোপ দাগবেন না, তা হয়? “বিশ্বের কোনও ক্লাব সব ম্যাচ জেতে না। জিততে পারে না। এই যে পুণে এফ সি, ওরাও তো ধারাবাহিক নয়, দুটো ম্যাচ হারার পর আবার জিতেছে, এটাই তো ফুটবল,” বলার সময় বাগান কোচকে কেমন যেন আনমনা দেখায়। মনে হয়, ক্লাব কর্তাদের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা দেখে তিনি প্রতিবাদী হতে চেয়েও পারছেন না, ভবিষ্যতের কথা ভেবে।

দুশ্চিন্তার প্রহর গোনা। অনুশীলনের ফাঁকে করিম-ওডাফা। শুক্রবার।
লা লিগায় লিওনেল মেসির বার্সেলোনার বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন রহমত রিগা মুস্তাফা। লেভান্তের জার্সি পরে। এখন পুণের সেরা অস্ত্র হিসাবে হাজির ইচে-কিংশুকদের সামনে। আই লিগের সেরা বিদেশি ডিফেন্ডার কেলাম অ্যাঙ্গাস থাকবেন ওডাফা-ক্রিস্টোফারদের পাহারায়। ডুহু পিয়েরের মতো পাসার মাঝমাঠে। পারবেন এ রকম একটা পেশাদার টিমের বিরুদ্ধে জিতে চাকরি বাঁচাতে? “কেলাম অ্যাঙ্গাস স্টপার থেকে মাঝে মধ্যেই মিডিও হয়ে যায়। গোলের বল বাড়ায়। ডুহু আর রিগার মধ্যে সাপ্লাই লাইন কাটতে হবে। ছেলেদের স্ট্র্যাটেজি যা বোঝানোর বুঝিয়ে দিয়েছি,” ঘণ্টাখানেক অনুশীলনের পর বলে দেন মোহন-কোচ।
গোষ্ঠ পালের মূর্তির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ে ইস্টবেঙ্গলের প্রাক শতবার্ষিকী উৎসবের বিশাল গেট। আলোকসজ্জা। তার পাশে পুলিশ মাঠে কলকাতায় আসা ফিফা বিশ্বকাপ দর্শকদের দেখানোর জন্য বিশাল ম্যারাপ বাঁধা হয়েছে। সেখানেও প্রস্তুতি কাপ-উৎসবের। কয়েকশো মিটার দূরে বাগান তাঁবুতে অবশ্য এ সবের রেশ নেই শুক্রবার সকালে। কেমন যেন শুনশান, গুমোট ভাব। হাজির শুধু ফুটবল বিভাগের জনা দুয়েক কর্তা। সবিথ থেকে রাম মালিক, ইচে থেকে ক্রিস্টোফারসবার মুখেই একটা ভয়ার্ত ভাব। “ইউনাইটেড ম্যাচ জিতলে এটা হবে, এরিয়ান ম্যাচ হলে এটা, এ রকম পরিবেশে কাম্য ছিল না আমাদের জন্য,” বলে দেন করিম।
তাঁর টিমের অন্যতম সেরা অস্ত্র মণীশ ভাগর্ব চোট পেয়ে ছয় সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে। ফেড কাপেও তাকে পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ। ফলে উইনিং কম্বিনেশন ভাঙতে হচ্ছে করিমকে। টিমে সম্ভবত ঢুকছেন পঙ্কজ মৌলা। তবে গড়িয়ার এই ছেলেটিকে মাঝমাঠে কোথায় খেলাবেন তা নিয়ে অনুশীলনে দেখা গেল দোটানায় বাগান কোচ। রাম মালিকের পরিবর্তে সাবিথ ঢুকতে পারেন টিমে। মরক্কান কোচের সবথেকে বড় সুবিধা, কিছু সিনিয়র ফুটবলার তাঁর হয়ে ‘করিম বাঁচাও’ আন্দোলনে নেমেছেন। এঁদের মধ্যে সবার আগে আছেন ওডাফা ওকোলি। অনুশীলনে অনেকক্ষণ ওডাফার সঙ্গে কথাও বলতে দেখা গেল মোহন-কোচকে। ওডাফার অনুশীলনের একটা গোল দেখে উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করতে দেখা গেল বাগান-কোচকে। কিন্তু সমস্যা হল চূড়ান্ত ব্যর্থ ওডাফাও তো এখন কর্তাদের গিলোটিনের তলায়। পান থেকে চুন খসলেই তাঁকে নিয়ে টানাটানি পড়বে।

পুণের তিন তাস। প্র্যাকটিসে জেমস মেয়র, ডুহু পিয়ের, কেলাম অ্যাঙ্গাস।
পুণের মাঠে গিয়ে মাইক স্নোয়ির টিমকে হারাতে পারেনি মোহনবাগান। বারাসতে আজ মাঠে নামার আগে অবশ্য বেশ কিছু হার্ডল টপকাতে হল পুণেকে। বাগান কর্তারা ঠিক সময়ে বাস পাঠাননি পুণের টিম হোটেলে। ফলে ট্যাক্সিতে করে মাঠে আসতে হয় ডুহু-লালমদের। নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধঘণ্টা পর অনুশীলন শুরু করতে হল পুণেকে। শুধু তাই নয়, সাইয়ের যে মাঠ অনুশীলনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল, তা ছিল জলে ভর্তি। পাশের মাঠে তাই চলে যেতে হয় রিগা-কেলামদের। আই লিগের তেরোটি দলের মধ্যে পুণেই একমাত্র ক্লাব যাঁরা এএফসি-র পেশাদার সার্টিফিকেট পেয়েছে। শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের হাল দেখে তারা এতটাই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ যে কোচ স্নোয়ি পর্যন্ত বলে দিলেন, “এটা পেশাদারিত্ব নয়। আমাদের স্টেডিয়ামে কিন্তু দু’দিন অনুশীলন করতে দেওয়া হয়েছিল ওদের।”
ডাচ বনাম মরক্কানের যুদ্ধে বড় ফ্যাক্টর অবশ্য দু’দলের শক্তিশালী রক্ষণ। লিগ টেবল জানাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত পুণে সবথেকে কম গোল খেয়েছে। এর পরই আছে করিমের টিম। বাগানের ওডাফার মতোই পুণের রিগাকেও যা ভাবাচ্ছে। ওডাফা গাড়িতে ওঠার আগে বলে গেলেন, “আমি পুরো ফিট। কাল গোল করতে চাই।” আর লা লিগায় একসময় ‘দ্য বুলেট’ নামে পরিচিত রিগার মন্তব্য, “আমি গোলটা অনেকের চেয়ে ভাল চিনি।”
রিগা গোল করলে, করিমের সর্বনাশ। আর ওডাফা গোল পেলে করিমের পৌষ মাস।
সর্বনাশ আর পৌষ মাসের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন করিম বেঞ্চারিফা। ভারতে আসার পর বহুবার ক্লাব বদলেছেন চতুর মোহন-কোচ। মনে হয় এ রকম গাড্ডায় আগে কখনও পড়েননি।

ছবি তুলেছেন শঙ্কর নাগ দাস।

শনিবারে আই লিগ

মোহনবাগান: পুণে এফ সি (বারাসত ৫-০০)
স্পোর্টিং ক্লুব: ইউনাইটেড (দুলের)
বেঙ্গালুরু: সালগাওকর (বেঙ্গালুরু)
শিলং লাজং: ডেম্পো স্পোর্টস (শিলং)।

পুরনো খবর





First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.