অরবিন্দ-বধে এককাট্টা সব, লোকপাল পাশ রাজ্যসভায়
তাঁর রাজনীতির ধরনটা মোটেই সুবিধের মনে করছে না দেশের প্রধান দুই দল ও তাদের সহযোগীরা। দিল্লিতে বড় ধাক্কা খেয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে রাজনৈতিক ভাবে নিকেশ করাটাই তাই আশু কর্তব্য হয়ে উঠেছে দেশীয় রাজনীতির মূল স্রোতের কাছে। আর সে কারণেই সচরাচর দেখা যায় না, এমনই বিরল এক রাজনৈতিক সর্বসম্মতিতে আজ রাজ্যসভায় পাশ হয়ে গেল লোকপাল বিল। কাল লোকসভাতেও তা মসৃণ ভাবে পাশ হবে বলেই মনে করছে কংগ্রেস, বিজেপি ও অন্য দলগুলি।
ছয় দশকের টানাপোড়েনের পর এটুকু অন্তত আজ বলা যাচ্ছে যে, দেশে লোকপাল গঠনের সম্ভাবনা এখন ষোল আনা। এবং সেটা সম্ভব হল লোকপাল নিয়ে রাজনীতি একেবারেই নতুন মোড় নেওয়ায়। যেখানে কংগ্রেস-বিজেপি উভয় দলই অরবিন্দ-কাঁটা তুলতে কাঁটা হিসেবে ব্যবহার করছে তাঁরই দীক্ষাগুরু অণ্ণা হজারেকে। ফলে অরবিন্দ যখন কেন্দ্রের বিলটিকে ‘জোকপাল’ বলে ভর্ৎসনা করছেন, দেখা গেল অণ্ণা তখন কংগ্রেস ও বিজেপি-র পাশে দাঁড়িয়ে। লোকপাল বিল পাশ করাতে উদ্যোগী হওয়ার জন্য প্রশংসা করে যিনি চিঠি পাঠিয়েছেন দুই দলেরই নেতার কাছে।
রাহুল গাঁধীর প্রশংসায় চিঠিতে অণ্ণা লিখেছেন, “সংসদে লোকপাল বিল পাশ করানোর জন্য আপনার উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি।” একই রকম চিঠি পেয়েছেন রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি অন্যতম শীর্ষ নেতা অরুণ জেটলিও। অণ্ণার ওই চিঠির জবাব দিতে দেরী করেননি রাহুল। অণ্ণাকে লিখেছেন, “আপনার চিঠি আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছে। দেশে যথাসম্ভব মজবুত লোকপাল গঠনের জন্য আমরা দায়বদ্ধ। এ ব্যাপারে আপনার ভূমিকা ও সমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
সংসদ ভবন চত্বরে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী জয়রাম রমেশের সঙ্গে
বিজেপি মুখপাত্র মুখতার আব্বাস নকভি। ছবি: পিটিআই।
এই পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রশস্তির রাজনীতির মধ্যে অরবিন্দ ঠিক কোথায়? গত কিছু দিন ধরেই অণ্ণার সঙ্গে সমঝোতা করে তাঁকে অপ্রাসঙ্গিক করে দিতে তৎপর হয়ে উঠেছে কংগ্রেস-বিজেপি। রাজ্যসভায় উভয় পক্ষের সমর্থনে লোকপাল বিলটি পাশ করিয়ে নেওয়া যেমন তার অঙ্গ। তেমনই অণ্ণাকে কাছে টানাও তার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। অণ্ণা লোকপাল প্রশ্নে এই নিয়ে চতুর্থ বার অনশন করছেন। তাঁর নামের সঙ্গে লোকপাল প্রায় সমার্থক হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় অরবিন্দরা কেন্দ্রীয় সরকারের আনা লোকপাল বিল নিয়ে যতই অনাস্থা জানান, তা বিশ্বাসযোগ্য হবে না বলেই মনে করছেন কংগ্রেস-বিজেপি নেতারা।
কংগ্রেস ও বিজেপি সূত্রে বলা হচ্ছে, অণ্ণাকে পাশে পাওয়ার জন্য উভয়ের তরফেই দৌত্য হয়েছে। তাঁদের মতে, অণ্ণা এটা বুঝতে পেরেছেন, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে লোকপালকে যত দূর শক্তিশালী করা সম্ভব, ততটা করা হয়েছে। তা ছাড়া এ ব্যাপারে রাজনৈতিক সর্বসম্মতিও হয়েছে। কিন্তু কেজরিওয়ালদের অবস্থান হল, নিজের পথ বা রাজপথ। হয় তাঁদের কথা শুনতে হবে নইলে তাঁরা বিক্ষোভে বসে পড়বেন। চিরাচরিত পথে চলা রাজনৈতিক দলগুলির মতে, গণতান্ত্রিক পরিবেশে এই নীতি অচল। অণ্ণাকে সেই পথ থেকে সরিয়ে আনা গিয়েছে। পরের নিশানা আম আদমি পার্টি। এই ধরনের রাজনৈতিক শক্তিকে উভয়েই ভয় পাচ্ছে। রাজনীতির এই নয়া ধারাকে যত দ্রুত সম্ভব অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়ার স্বার্থ রয়েছে উভয়েরই।
এ দিকে লোকপাল বিল পাশ হওয়ার সম্ভবনা উজ্জ্বল হতেই রাহুল গাঁধীকে এর কৃতিত্ব দেওয়ার কৌশলে নেমে পড়েছেন কংগ্রেস নেতারা। এই উদ্দেশ্যে গত শনিবার রাহুল এক প্রস্ত সাংবাদিক বৈঠক করেছেন। আজও কংগ্রেস সূত্রে বারবার জানানো হয়, রাজ্যসভায় বিলটি যাতে সুষ্ঠু ভাবে পাশ হয় সে জন্য রাহুল কতটা উদ্গ্রীব ছিলেন। কী ভাবে দফায় দফায় আজ কমলনাথ, কপিল সিব্বল, নারায়ণ স্বামীর মতো মন্ত্রিসভার শীর্ষ সারির সদস্যদের সঙ্গে রাহুল বৈঠক করেছেন তা-ও সংবাদমাধ্যমে যথাসম্ভব সবিস্তার তুলে ধরেন কংগ্রেস নেতারা। লোকসভা ভোটেও বিষয়টি নিয়ে এ ভাবেই প্রচার করবে কংগ্রেস। আজ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহও বলেন, রাজ্যসভায় লোকপাল বিলটি পাশ হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
পরে বিজেপি নেতা অরুণ জেটলিও বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বৈকি। দেশের মানুষ তিন বছর ধরে লোকপাল গঠনের দাবি জানাচ্ছেন। চার রাজ্যের ভোটে হেরে এখন ঠ্যালায় পড়ে জনতার কথা শুনল সরকার।”

পুরনো খবর:


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.