ক্ষুব্ধ কৃষ্ণেন্দু-সাবিত্রী, উদ্বেগ ছড়াচ্ছে সহকর্মীদের মধ্যে
জেলাশাসককে গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষোভ আড়াল করছেন না মালদহের দুই মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী এবং সাবিত্রী মিত্র। ক্ষোভের রেশ ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলেও।
মালদহের জেলাশাসক গোদালা কিরণ কুমারকে ‘নিষ্ঠা’ এবং ‘দায়িত্ব’ নিয়েই বরাবর কাজ করতে দেখেছেন ইংরেজবাজারের বিধায়ক তথা রাজ্যের পযর্টনমন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। আর, মানিকচকের বিধায়ক ও রাজ্যের নারী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র সরাসরিই বলছেন, “শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট জেলাশাসককে গ্রেফতার করে বীরত্ব না দেখালেই পারত।”
শাসক দলের নেতা-নেত্রীর মতো সরাসরি না হলেও জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আবু হাসেম খান চৌধুরীর আফশোস, “আমার খুব খারাপ লাগছে জানেন। তবে, কেউ যদি অন্যায় করেন তবে শাস্তি তো পেতেই হবে।” উত্তর মালদহের কংগ্রেস সাংসদ মৌসম বেনজির নূর অবশ্য বলেন, “আইন আইনের পথে চলবে।” আর মালদহ জেলা সিপিএম সম্পাদক অম্বর মিত্র বলেন, “আমরা চাই তদন্তে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক।”
তাঁর সহকর্মীদের মতোই কিরণকুমার যে কোনও ‘অন্যায়’ করতে পারেন, ভাবতেই পারছেন না কৃষ্ণেন্দু। শনিবার নিজের কার্যালয়ে বসে তিনি বলেন, “অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতেন ওই জেলাশাসক। আমি তো কখনও তাঁর কাজের কোনও খুঁত দেখিনি। বরাবর সুনামের সঙ্গেই কাজ করেছেন। তিনি যদি অন্যরকম হতেন তাহলে অনেক আগেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতাম।” আর, সাবিত্রীর মন্তব্য, “জেলাশাসক হিসেবে গোদালা কিরণ কুমার খুব ভাল কাজ করছিলেন। তদন্ত যেমন চলছিল তেমনই চলতে পারত। জেলাশাসক তো জেলা থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন না। তাঁকে এ ভাবে কেউ গ্রেফতার করে!”
শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের একাধিক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে শনিবার বিকেলে শিলিগুড়িতে গ্রেফতার হন মালদহের জেলাশাসক। সে খবর জেলা প্রশাসনিক মহলে ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর সহকর্মীদের অনেককেই উত্তেজিত হয়ে পড়তে দেখা যায়। কাজ ফেলে কেউ বেরিয়ে আসেন অফিসের বাইরে। কেউ বা ব্যস্ত হয়ে পড়েন ফোনে, বিস্তারিক জানতে। বিকাল পাঁচটা নাগাদ মালদহ জেলাশাসকের বাংলোয় গিয়ে দেখা গিয়েছে কর্মীরা সবাই অফিস ঘরের বাইরে নীচু স্বরে কথা বলছেন। বক্তব্য একটাই, জেলাশাসক ‘দুর্নীতির’ সঙ্গে যুক্ত এটা তাঁরা ‘বিশ্বাস’ই করতে পারছেন না। শনিবার ছুটির দিনে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত জেলা কালেকটরেটের দফতরের একাংশ খোলা। সেখানে টিভির সামনে চাক বাঁধা ভিড়। উদ্বিগ্ন মুখে কর্মীরা খবর দেখছেন। সবার মুখে একটাই কথা, “এ বার কী হবে!” জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অমলকান্তি রায় (জেলা পরিষদ) অবশ্য বলেন, “খুবই দুঃখজনক। এটা উচিত হয়নি। প্রশাসনে এ রকম ভাল মানুষ খুব কম দেখেছি।” অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) নীলকমল বিশ্বাস বলেন, “এক জন জেলাশাসককে এ ভাবে গ্রেফতার করাটা খুবই দুঃখজনক। আমাদের মনোবলই ভেঙে দিয়েছে।” মালদহের মহকুমাশাসক (সদর) নন্দিনী সরস্বতীও বলছেন, “ওঁর সঙ্গে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা খুব ভাল। কী করে যে এমন হল।” মালদহ জেলার প্রাক্তন জেলাশাসক, বর্তমানে হোম (পারসোনেল) সচিব অজিতরঞ্জন বর্ধনও স্পষ্টই বলেন, “জেলাশাসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে। তিনি তো পালিয়ে যাচ্ছেন না। তদন্তে কিছু প্রমাণ না হতেই সরকারকে না জানিয়ে এ ভাবে কেউ জেলাশাসককে গ্রেফতার করে!”





First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.