কমিটির বাধায় ফের বন্ধ ওয়াটার করিডরের কাজ
পুরোদস্তুর মাঠে নেমেও শেষরক্ষা করতে পারল না তৃণমূল। অনিচ্ছুক জমি-মালিকদের একাংশের বাধায় পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ায় ফের বন্ধ হয়ে গেল ডিভিসি-র তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ‘ওয়াটার করিডর’-এর কাজ।
অথচ, খোদ পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সৃষ্টিধর মাহাতোর আশ্বাসেই বৃহস্পতিবার সকালে রায়বাঁধ গ্রামের অদূরে ডিভিসি-র হাতে থাকা জমিতেই জলের পাইপলাইন বসানোর জন্য মাটি কাটার কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু, রায়বাঁধ ও গুনিয়াড়া অঞ্চলের বিক্ষুব্ধ জমি-মালিকদের নিয়ে গঠিত ‘জমিরক্ষা সংগ্রাম কমিটি’-র জনা চল্লিশেক সদস্য ধামসা-মাদল বাজিয়ে মাঠের অন্য প্রান্তে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করতেই পরেই যন্ত্রপাতি গুটিয়ে নেয় ঠিকাদার সংস্থা।
সেই সময়ে ঘটনাস্থল থেকে দুশো মিটারেরও কম দূরত্বে উপস্থিত ছিলেন সভাধিপতি ও রঘুনাথপুরের বিধায়ক পূর্ণচন্দ্র বাউরি। পরে, বিধায়ককে নিয়ে কমিটির নেতাদের সঙ্গে রায়বাঁধ পঞ্চায়েত অফিসে আলোচনায় বসেন সৃষ্টিধরবাবু। বৈঠক চলাকালীনই ফোনে শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন পূর্ণচন্দ্রবাবু। ফোনে পার্থবাবু ডিভিসি-র সঙ্গে তাঁর আলোচনার সিদ্ধান্তগুলি বিশদে জানান। দু’ঘণ্টার বেশি সময় আলোচনা চললেও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। বৈঠক শেষে সৃষ্টিধরবাবুর বক্তব্য, “কিছু ভূলবোঝাবুঝি হয়েছে। কাজ শুরু হলে সমস্যা হবে না বলে আগে কমিটির নেতারা আমাকে জানিয়েছিলেন।
তাই কাজ শুরুর জন্য ডিভিসি-কে বলা হয়েছিল।”
ধামসা-মাদল নিয়ে রায়বাঁধ ও গুনিয়াড়ার কিছু বাসিন্দা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করতেই কাজ বন্ধ।
যদিও তাঁর সামনেই কমিটির নেতৃত্ব দাবি করেন, তাঁরা কখনওই কাজ শুরু করায় সম্মতি দেননি। তাঁদের বক্তব্য “আমরা স্থায়ী চাকরির দাবি থেকে সরে অস্থায়ী কাজ চাইছি। কিন্তু, ষাট বছর পর্যন্ত চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে। তা ছাড়া, জমির বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করতে হবে সরকারকে।”
শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এ দিন বলেন, “কিছু জমি-মালিক ক্ষতিপূরণের চেক পেয়েছেন। কিছু পাননি। অনেকে মারাও গিয়েছেন। তাঁদের চেক কারা পাবেন, সে নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে, কাজ ওখানে হবেই। প্রয়োজনে আমি ওখানে গিয়ে ডিভিসি-র সঙ্গে আলোচনা করে গ্রামবাসীর স্বার্থ যাতে অক্ষুন্ন থাকে, তা নিশ্চিত করব।” গোটা বিষয়টি তিনি জেলাশাসককে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সভাধিপতি। যদিও সমাধানসূত্র বেরোয়নি।
ঘটনা হল, ‘ওয়াটার করিডর’-এর কাজ শুরু করানোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে দু’টি শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়েছে জেলা তৃণমূল। তড়িঘড়ি সৃষ্টিধরবাবুর কাজ শুরু করানোর আশ্বাসকে ভাল চোখে দেখছেন না শাসকদলের একাংশ। পূর্ণচন্দ্রবাবুর বক্তব্য, “এলাকায় শিল্প উন্নয়ন কমিটি গড়ে আমরা অনিচ্ছুক জমি-মালিকদের বোঝানো শুরু করেছি। তাতে সাড়া দিয়ে জমিরক্ষা কমিটির এক নেতার পরিবার বুধবার চেক নিয়েছেন। কিন্তু, চেক বিলি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কাজ শুরু করানোর সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল না।” দলের জেলা কার্যকরী সভাপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “শিল্পমন্ত্রী ও ডিভিসি চেয়ারম্যানের বৈঠকে জমিহারাদের জন্য যে-সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলি এলাকায় প্রচার করে কাজ শুরু হলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না।” আর জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “স্থানীয়রা চাইছেন চেক বিলি শেষ করে পরিস্থিতি দেখে কাজ শুরু করাতে। সভাধিপতির কাছে এই বার্তাটা হয়তো পৌঁছয়নি।”
তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই ওই চার নেতাকে বসে সমস্যা মেটানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবারই রঘুনাথপুরে ফের জমিরক্ষা কমিটির সঙ্গে বসবেন সভাধিপতি ও বিধায়ক। ডিভিসি-র চিফ ইঞ্জিনিয়ার দেবাশিস মিত্র অবশ্য বলছেন, “আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা মেটানো যাবে বলে আমরা আশাবাদী।”

—নিজস্ব চিত্র।

পুরনো খবর:



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.