দলে সমালোচনার ঝড়, পাল্টা তোপ রেজ্জাকেরও
দেড় মাস আগেই রাজ্য কমিটির বৈঠকে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, প্রকাশ্যে বেফাঁস মন্তব্য করে ভুল করেছেন। ভবিষ্যতে সংযমী হতে চান। সিপিএমের সেই রাজ্য কমিটিতে সেই আব্দুর রেজ্জাক মোল্লাই এ বার বললেন, কোনও মূল্যেই নিজের সামাজিক সত্তা ছাড়তে রাজি নন তিনি। দরকারে দল তাঁকে বার করে দিক! তা না হলেও কিছু দিন বাদে অবসর নিয়ে সামাজিক সত্তা থেকেই কাজকর্ম করবেন তিনি। দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অবিশ্বাস থেকেই যে ইদানীং তাঁর কাজকর্মে কিছু ভুল হয়ে যাচ্ছে, রাজ্য নেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে সটান বলে দিয়ে এলেন সে কথাও! দিনের শেষে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বিমান বসুকে বলতে হল, দল রেজ্জাককে আবার সুযোগ দিচ্ছে নিজেকে সংশোধন করার!
দলে সমালোচনা এবং তার জবাবে রেজ্জাকের পাল্টা তোপের মুখে আলিমুদ্দিন এ বারও বর্ষীয়ান বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারেনি। সামনে লোকসভা ভোট এবং তার আগে অনভিপ্রেত কিছু ঘটলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা মাথায় রাখতে হচ্ছে সিপিএম নেতৃত্বকে। কিন্তু দলের রাজ্য নেতৃত্বের বড় অংশেরই মত, রেজ্জাক এবং সিপিএমের ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতির অভাবিত উন্নতি না-হলে এর পরে হয়তো কঠিন সিদ্ধান্তই নিতে হতে পারে আলিমুদ্দিনকে।
আলিমুদ্দিনে রবিবার সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ, মহিলা সংগঠন থেকে সংখ্যালঘু নেতা একাধিক সদস্য মুখ খুলেছেন প্রাক্তন ভূমিমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই। লাগাতার দলের বিড়ম্বনা বাড়িয়ে তোলার তালিকায় নতুন সংযোজন হয়েছে কয়েক দিন আগেই মেয়েদের পোশাক-বিধির পরামর্শ দিয়ে রেজ্জাকের মন্তব্য। কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হয়েও প্রবীণ এই বিধায়ক ক্রমে মৌলবাদী মানসিকতার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে! মহিলা সমিতির এক নেত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর জমানায় মহিলাদের নিরাপত্তার অভাব নিয়ে তাঁরা যখন আন্দোলন গড়ে তুলতে যাচ্ছেন, সেই সময় দলেরই বর্ষীয়ান নেতার মন্তব্য গোটা দলের বিশ্বাসযোগ্যতাই ধসিয়ে দিচ্ছে না কি? রেজ্জাকের সামাজিক-রাজনৈতিক সত্তার তত্ত্বের অসাড়তা দেখিয়েও এক প্রাক্তন সাংসদ অবশ্য বলেন, স্রেফ ওই পোশাক সংক্রান্ত মন্তব্যের জন্য প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটাও বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে।
সিপিএম সূত্রের খবর, সমালোচনার এই ঝড়ের মুখেই আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে আরও চাঁছাছোলা হয়ে ওঠেন রেজ্জাক। রাজ্য নেতৃত্বের সামনেই তাঁর সাফ কথা, সামাজিক সত্তাকে তিনি জরুরি বলে মনে করেন। সামাজিক সত্তার খাতিরে তাঁর যা কাজ, তা তিনি করে যাবেন। তার জন্য দল তাঁকে তাড়িয়ে দিতে পারে! তিনি তল্পিতল্পা গুটিয়েই রেখেছেন! কারণ তিনি জানেন, তাঁর অবসরের সময় হয়ে এসেছে। রাজনৈতিক সত্তাকে তিনি তখন বিদায় জানাবেন। প্রসঙ্গত, পরের বার আর বিধানসভা ভোটে দাঁড়াবেন না বলেও আগেই জানিয়ে রেখেছেন রেজ্জাক।
শুধু এখানেই শেষ নয়। রেজ্জাকের অভিযোগ, দলে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার কথা বলা হয়। কিন্তু গণতন্ত্র বলে কিছু নেই, চলে শুধু কেন্দ্রিকতা! সকলের মতকে মর্যাদা দেওয়া হয় না। আর নিজের ভুলের দায়ও দলের নেতৃত্বের উপরেই চাপিয়েছেন রেজ্জাক। বলেছেন, তিনি যে মাঝেমধ্যে ভুল করে ফেলছেন, দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অবিশ্বাসের ফলেই সে সব হচ্ছে! তাঁর সেই দুঃখপ্রকাশের রাজ্য কমিটিতে নেতৃত্বে বদল চেয়ে রেজ্জাক যে নোট দিয়েছিলেন, এ দিন কৌশলে সে কথাই তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন বলে দলের একাংশের ব্যাখ্যা।
জবাবি ভাষণে রাজ্য সম্পাদক বিমানবাবু প্রত্যাশিত ভাবেই জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনেই দলে সিদ্ধান্ত হয়। গণতন্ত্র নেই, এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। রাজ্য কমিটির সদস্যদের মত নিয়েই রেজ্জাককে সংশোধনের আরও সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন বিমানবাবু। তার পাশাপাশিই তাঁর বার্তা, সরকার-বিরোধী আন্দোলনে গতি আনতে গেলে সংগঠনকে গুছিয়ে উঠতে হবে। সক্রিয়তা বাড়াতে হবে। সাংগঠনিক কাজকর্মের মূল্যায়নের জন্য ৩০ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর ফের রাজ্য কমিটির বৈঠক বসবে বলেও ঠিক হয়েছে।
বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রের সঙ্গে এ দিন বিকালে হাসনাবাদে দলের একটি জনসভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল রেজ্জাকের। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর তরফে তাঁকে হাসনাবাদ না-গিয়ে পুর বৈঠকে হাজির থাকতে বলা হয়। ভেবিয়া চৌমাথার ওই সভায় গিয়ে সূর্যবাবু বলেছেন, তৃণমূল জমানায় এ রাজ্যে আরএসএস কয়েকশো শাখা খুলেছে। তৃণমূল সাপের মুখেও চুমু খাচ্ছে আবার ব্যাঙের মুখেও চুমু খাচ্ছে! দলীয় কর্মীদের প্রতি সূর্যবাবুর পরামর্শ, “ওদের থেকে সাবধানে থাকুন, পাড়ায় পাড়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলুন।”

পুরনো খবর:



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.