টাইন বাউনের পর ধরাশায়ী বিশ্বের তিনও
সাইনার আকাশে শুধুই সিন্ধু-গর্জন
ল ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়নের পরে বিশ্বের তিন নম্বর ব্যাডমিন্টন তারকাও সিন্ধু-সভ্যতার সামনে নতজানু!
আইবিএলে পুসারলা বেঙ্কট সিন্ধু-র মহাচমক চলছেই! আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে সিটি অব গার্ডেনে অফুরান স্ম্যাশের ফুল ফোটানোর পর সোমবার সাইবার সিটি-তে সিন্ধুর অনবদ্য কোর্ট কভারিং আর যেন কম্পিউটার-নির্দিষ্ট র‌্যালি গোটা শাটল-দুনিয়াকে জানিয়ে দিল, মেয়েদের ব্যাডমিন্টন মানে শুধু ‘সাইনা অ্যান্ড চায়না’ নয়। সেই পোস্টারে সাইনা নেহওয়ালেরই শহর হায়দরাবাদের এক অষ্টাদশীর উজ্জ্বল মুখও আঁকার রীতিমতো সময় এসে পড়েছে।
তিনি সিন্ধু প্রথমে বেঙ্গালুরুতে অল ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন টাইন বাউনকে হারানোর দু’দিনের মধ্যে হায়দরাবাদে হারিয়ে দিলেন বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ইউরোপের সেরা জুলিয়েন শেঙ্ককে। বিশ্বের তিন নম্বর জার্মান মেয়ের বিরুদ্ধে কোনও দিন একটি গেমও জিততে না পারা সিন্ধু এ দিন তাঁকে স্ট্রেট গেমে হারালেন ২১-২০, ২১-২০। দুটো গেমেই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই গেম পয়েন্টে ‘টাই’ ছিলেন। ২০-২০। সিন্ধুর কৃতিত্ব এ জন্যই আরও বেশি যে, দু’বারই তিনি অভিজ্ঞ মহাতারকার সামনে ওই চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্সের মুহূর্তেও নার্ভ না হারিয়ে শেষ পয়েন্টটা নিজের অনুকুলে বার করে নিয়েছেন!
বিজিত-বিজয়ী। ম্যাচের পরে শেঙ্কের সঙ্গে সিন্ধু। ছবি: পিটিআই
গাচ্চিবোলির ব্যাডমিন্টন হল-এ ওই সময় সিন্ধুর গোপী স্যরের দেখা না পাওয়া যাক। ম্যাচ শেষ হওয়ামাত্র দেশের আরেক ব্যাডমিন্টন কিংবদন্তি প্রকাশ পাড়ুকোন মোবাইল থেকে বলে দিলেন, “টিভিতে ম্যাচটা দেখতে দেখতে একটা কথাই মনে হচ্ছিল, সাইনা-সিন্ধুর সঙ্গেই আগামী দিনগুলোতে বাকি ব্যাডমিন্টন বিশ্বের লড়াই চলবে। এ রকম দু’-দু’টো ‘ওয়ার্ল্ড বিটার’ একমাত্র চিন ছাড়া অন্য কোনও ব্যাডমিন্টন দেশে এখন নেই। সাইনার স্কিল বেশি থাকতে পারে। কিন্তু সিন্ধুর কোর্ট কভারিং আরও ভাল।”
আটবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মধুমিতা সিংহ বিস্ত আবার মনে করেন, সিন্ধুর বাউনকে হারানোর চেয়েও বেশি কৃতিত্বের শেঙ্কের বিরুদ্ধে জয়। “টেকনিক্যালি সে দিনের চেয়েও আজ বেশি কারেক্ট ছিল সিন্ধু,” পি ভি সিন্ধুর আওয়াধি ওয়ারিয়র্স বনাম পুণে পিস্টন্সের আইবিএল লড়াইয়ের (যাতে আওয়াধি ৩-২ ম্যাচে জিতলেও দু’দলই সেমিফাইনালে উঠল) মাঝেই গাচ্চিবোলির স্টেডিয়াম থেকে মোবাইলে বলছিলেন মধুমিতা। “দেখুন, সে দিন ওর প্রতিদ্বন্দ্বী ওর থেকে প্রায় দ্বিগুণ বয়সের ছিল। সিন্ধুর খেলার যেটা প্রধান অস্ত্র সেই ঘণ্টায় প্রায় দুশো কিলোমিটার গতিতে মারা পরের পর স্ম্যাশ তুলতে পারাটা সদ্য আন্তর্জাতিক ট্যুর থেকে অবসর নেওয়া বাউনের পক্ষে একটু সমস্যাই ছিল। কিন্তু শেঙ্ক সার্কিটের রীতিমতো অ্যাকটিভ প্লেয়ার। বিশ্বের তিন নম্বর। এ বছর সাইনাকে পর্যন্ত হারিয়েছে। সিন্ধুর বিরুদ্ধেও আগের দু’বার হেলায় জিতেছে। তা ছাড়া এ দিন কোর্টের একটা দিকের পিছন থেকে হাওয়া আসছিল। প্রথম গেমে সে দিকে খেলায় হাওয়ায় শেঙ্কের অনেক রিটার্ন বাইরে চলে যাচ্ছিল। দ্বিতীয় গেমে আবার সিন্ধুকে সে দিকটায় খেলতে হল। কিন্তু ও সেই সমস্যাটাও দারুণ ভাবে সামলে নেওয়ায় শেঙ্কের মতো অত বেশি আনফোর্সড এরর করেনি। এত সুন্দর ভাবে নিজের শটের গতিকে কন্ট্রোল করেছে! সিন্ধুকে যত দেখছি ততই অবাক হয়ে যাচ্ছি। এত কম বয়সে কী প্রচণ্ড ম্যাচিওর! প্রতিদ্বন্দ্বী বুঝে, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কী সুন্দর নিজের খেলার অদলবদল ঘটাচ্ছে এই বয়সেই!”
আইবিএলের নিয়মে প্রতি গেমের ৭ আর ১৪ পয়েন্টে এক মিনিটের বিরতি থাকছে। সিন্ধু ম্যাচের তিনটে ব্রেকেই পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু তিন বারই শেঙ্ককে ধরে ফেলেন এবং দুটো গেমেই মহাপ্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আগে গেম পয়েন্টে পৌঁছন। ৩১ বছরের শেঙ্ক পাঁচ ফুট এগারো ইঞ্চির ছিপছিপে কিন্তু অবিশ্বাস্য রকমের ফিট ভারতীয় টিনএজারের বিরুদ্ধে দুটো গেমে একবার করে গেম পয়েন্ট বাঁচালেও শেষরক্ষা করতে ব্যর্থ।
ভারতের ব্যাডমিন্টন রাজধানীতে এ দিনই ইন্ডিয়ান ব্যাডমিন্টন লিগের পদার্পণ ঘটল। দিল্লি, লখনউ, মুম্বই, পুণে, বেঙ্গালুরু ঘুরে। কিন্তু অবাক করে দিয়ে হায়দরাবাদেই কিনা ব্যাডমিন্টন-রসিকের সংখ্যা কম! গ্যালারির অনেকটাই ফাঁকা দেখা যাচ্ছিল সিন্ধু-শেঙ্ক মহাম্যাচের সময়ও। কিন্তু একটা গ্যালারির দর্শকেরা নিশ্চয়ই বাড়তি মোটিভেশনের কাজ করছিল সিন্ধুর কাছে। অষ্টাদশীর কলেজের পড়ুয়ারা যে তাঁদের বিখ্যাত ক্লাসমেটের জন্য গলা ফাটাচ্ছিলেন সেই গ্যালারি থেকে। হায়দরাবাদের সেন্ট অ্যান্টনি কলেজের কয়েকশো ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে খেলা দেখতে এসেছিলেন কলেজের প্রিন্সিপ্যাল-ও। সিন্ধুর খেলার মধ্যেই যিনি টিভির সঞ্চালিকাকে বলে দিলেন, “সিন্ধু কোর্টে যত বেশি অ্যাটাকিং, কলেজে ঠিক ততটাই নম্র। মেয়েটা ক্লাসের মধ্যে কিংবা বাইরে এত বেশি সাধারণ যে বলে না দিলে কেউ ওকে দেখে বিশ্বাসই করবে না এই সিন্ধু। বিশ্ব বাডমিন্টনের নতুন তারকা।”
অর্জুন ভলিবলার বাবা (রামান্না) আর জাতীয় ভলিবলার মা-র (বিজয়া) মেয়ে পি ভি সিন্ধু আজ সত্যিই শাটল-দুনিয়ার নতুন তারকা। প্রকাশ-গোপীচন্দ-সাইনার দেশের ব্যাডমিন্টনের নতুন মুখ!

ওঁরা বললেন
শেঙ্কের মতো বড়মাপের প্লেয়ারকে হারানোর রোমাঞ্চের মতোই আমি রোমাঞ্চিত আমার কলেজের বন্ধু আর টিচারদের গ্যালারিতে দেখে। সবার আমাকে সমর্থন করাটা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে।
সিন্ধু প্রায় নিখুঁত খেলেছে। ওর কিছু ফ্লিক, স্ম্যাশ আর র‌্যালি ছিল দেখবার মতো।
সাইনা-সিন্ধুর সঙ্গেই এখন বাকি ব্যাডমিন্টন বিশ্বের লড়াই চলবে। এ রকম দু’-দু’টো ‘ওয়ার্ল্ড বিটার’ একমাত্র চিন ছাড়া অন্য কোনও দেশে এখন নেই।
টেকনিক্যালি টাইন বাউন ম্যাচের চেয়েও আজ বেশি কারেক্ট ছিল সিন্ধু। প্রতিদ্বন্দ্বী বুঝে, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কী সুন্দর খেলার অদলবদল ঘটাচ্ছে এই বয়সেই!

পুরনো খবর:

গ্যালারির টিটকিরির পাল্টা
‘ছেলেদের সবার আগে সঠিক শিক্ষা দরকার’
আইবিএলে সবার শেষে কোর্টে নামলেন তিনি। সেই দিল্লি স্ম্যাশার্স-এর আইকন তথা ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের বিতর্কিত চরিত্র জ্বালা গাট্টা আইবিএলে আবির্ভাবেই বিতর্কে! রবিবার বঙ্গা বিটসের বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে মিক্সড ডাবলস খেলতে নেমে হঠাৎই দর্শকদের টিটকিরির মুখে পড়তে হয় জ্বালাকে। ঘটনা নিয়ে আইবিএল কর্তৃপক্ষের কাছে সরকারি ভাবে কিছু না বললেও দেশের মেয়েদের সম্মান রক্ষার ব্যাপার নিয়ে মুখ খুলেছেন জ্বালা। “আমরা আজকাল এতই ব্যস্ত থাকি যে, ছেলেমেয়েদের সাধারণ শিক্ষাটুকুও দিতে পারি না। একজন মেয়ের উদ্দেশ্যে ছেলেদের এ ধরনের টিটিকিরি দেওয়া থেকেই বোঝা যায় আমাদের দেশে কেন এখন এত সব ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটছে! ছেলেদের ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার চেয়ে বেশি জরুরি হল সঠিক শিক্ষায় বড় হওয়া,” বলেন জ্বালা। এখানেই শেষ নয়। জ্বালা আরও বলেন, “ওরা আমাকে নিয়েই মন্তব্য করছিল। আমরা সবাই স্পোর্টসপার্সন। ক্রিকেটারদের সঙ্গে এ রকম কিছু ঘটলে ওরা মাঠেই প্রচণ্ড রিঅ্যাক্ট করে। আমি কোর্টে কিছু করিনি, কারণ খেলাটায় মন দিতে হত। কিন্তু পরে যা বলেছি, যে কেউ বলত।”




First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.