মন্দারমণি, তাজপুরেও এ বার প্রশিক্ষিত নুলিয়া
বশেষে টনক নড়েছে প্রশাসনের। সমুদ্র স্নানে নেমে পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনা রুখতে দিঘার পাশাপাশি মন্দারমণি, শঙ্করপুর, তাজপুরের সৈকতেও বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে। কলকাতা থেকে নিয়মিতই এই সৈকতগুলিতে পাড়ি দেন পর্যটকেরা। ছুটির মরসুমে তো বটেই, একঘেয়ে ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি কাটাতে সপ্তাহশেষে সমুদ্রমুখী ভিড়টাও নেহাত কম নয়।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পারভেজ আহমেদ সিদ্দিকি জানান, জলে স্পিডবোট আর সৈকতে মোটরবাইক নিয়ে টহল চলবে নুলিয়া ও পুলিশ বাহিনীর। ইতিমধ্যেই এর জন্য ২০ জন নুলিয়াকে বাছাই করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নিয়ে আসা হয়েছে ৫টি স্পিডবোট, ৪টি মোটর বাইক ও ৩টি কোয়াড্রা বাইক।
দিঘা ও তার পাশের মন্দারমণি, শঙ্করপুর, তাজপুরকে নিয়ে গড়ে উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুরের সৈকত পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু পর্যটকদের নিরাপত্তায় এখনও সে ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিঘার সমুদ্রে নেমে পর্যটকদের তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও লেগেই থাকে। সম্প্রতি সেই তালিকায় নাম জুড়েছে মন্দারমণি, তাজপুরের সৈকতেরও।
আগে অবশ্য নুলিয়া বা নজরদারির কোনও ব্যবস্থাই ছিল না সৈকতে। পরপর বেশ কয়েকটি সমুদ্রস্নানে মৃত্যুর ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে বিরূপ মনোভাব তৈরি হওয়ায় ২০০৩ সালে দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন দায়িত্ব নিয়ে দিঘার সৈকতে নুলিয়া নিয়োগ করে। বেতন দিত তারাই। ২০০৬ সালে হোটেল মালিকদের এই সংগঠন নুলিয়াদের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। তাদের বক্তব্য ছিল, পর্ষদকে তারা কর দেয়।
ফলে নুলিয়াদের বেতন দিতে হবে পর্ষদকেই। এর পরে বেশ কয়েক বছর নুলিয়া-বিহীন ছিল দিঘার সৈকত। ২০০৯ সালে দিঘা-শঙ্করপুর পর্ষদ ও হোটেল মালিক সংগঠন যৌথ ভাবে ৬ জন নুলিয়াকে নিয়োগ করে। নুলিয়াদের দু’হাজার টাকা বেতন দু’তরফের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। তিন জন নতুন দিঘায়, তিন জন পুরনো দিঘায়ছয় নুলিয়ার সম্বল ছিল শুধু লাইফ জ্যাকেট। ‘ঢাল-তলোয়ারহীন’ নুলিয়ারা চেষ্টা করেও সব দুর্ঘটনা আটকাতে পারতেন না। ২০১২ সালে হোটেল মালিকেরা ফের নুলিয়াদের বেতন দিতে বেঁকে বসলে পর্ষদ একাই তা দেবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। অন্য দিকে, শঙ্করপুর, মন্দারমণি ও তাজপুরে নুলিয়া তো দূরের কথা, ন্যূনতম নজরদারিও নেই পুলিশ-প্রশাসনের। সপ্তাহখানেক আগেই মন্দারমণি ও তাজপুরের সৈকতে নেমে মৃত্যু হয়েছে চার পর্যটকের।
জেলাশাসক পারভেজ আহমেদ সিদ্দিকি জানান, এ বার থেকে সমুদ্রতীরের কাছে জলে স্পিডবোট নিয়ে পাহারায় থাকবেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নুলিয়ারা। ৫টি স্পিডবোটে নুলিয়া থাকবেন ২০ জন। আগের ৬ জন ছাড়া নতুন ১৪ জনকে আশপাশের গ্রাম থেকে বাছাই করা হয়েছে ইতিমধ্যে। তার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটিও গড়া হয়েছিল। ওই কমিটির অন্যতম সদস্য, দিঘা-শঙ্করপুর পর্ষদের নির্বাহী আধিকারিক সৌমেন পাল জানান, এই নুলিয়াদের চার হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হবে। বাছাই করা নুলিয়াদের দু’দিনের প্রশিক্ষণ দিয়েছে হলদিয়ার উপকূল রক্ষীবাহিনী। তবে, সমুদ্রে নেমে প্রশিক্ষণ এখনও বাকি। নজরদারি চলবে সৈকতেও। সেখানে থাকবে দিঘা ও রামনগর থানার পুলিশ। চার চাকার কোয়াড্রা বাইক ও মোটরবাইক চড়ে পাহারা দেবে তারা।



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.