জঙ্গলে জঙ্গলে অভিযান
মাওবাদী রুখতে শুরু জলের উৎস সন্ধান
জীবনধারণের জন্য পানীয় জল চাই-ই। মাওবাদীদেরও চাই।
এখন সেই জল-সূত্রেই মাওবাদী ঘাঁটির হদিস পেতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। জঙ্গলে জঙ্গলে চলছে জলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎসের সুলুক-সন্ধান। পুলিশ-কর্তাদের বক্তব্য: গভীর অরণ্যে ডেরা বাঁধা মাওবাদী গেরিলাদের কাছে হাতিয়ার যতই মজুত থাক, খাওয়ার জলের জন্য ভরসা সেই নদী-ঝর্না-পুকুর। সেগুলির উপরে নজর রাখলে মাওবাদী শিবিরের খোঁজ পাওয়া অসম্ভব নয়।
তাই জলের কোন উৎস কোথায় আছে, এ বছরের গোড়ায় জঙ্গলমহলে তা চিহ্নিত করার কাজে নেমেছিল রাজ্য পুলিশের কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্স (সিআইএফ)। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের দুমকায় মাওবাদী হামলায় পাকুড়ের এসপি-সহ ৭ পুলিশকর্মীর মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে এ বার ঝাড়খণ্ড লাগোয়া বীরভূমের জঙ্গলেও তারা সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আপাতত মুরারই, নলহাটি, রামপুরহাট, মহম্মদবাজার, রাজনগর, দুবরাজপুর, খয়রাশোল ও কাঁকরতলা এই আটটি থানার জঙ্গল এলাকায় খাল-বিল-পুকুর-ডোবা-ক্যানাল ইত্যাদির খোঁজ নিচ্ছে সিআইএফ।
পুলিশ-সূত্রের খবর: জঙ্গি দমনে বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত বাহিনীটির দু’টি অ্যাসল্ট গ্রুপ, অর্থাৎ জনা পঞ্চাশেক জওয়ান বীরভূমে আগে থেকে মোতায়েন ছিল। জল-সন্ধান অভিযানের তাগিদে ঝাড়গ্রাম-জিতুশোল-দহিজুড়ি থেকে আরও জওয়ান আনা হচ্ছে। রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, “আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, জঙ্গলে পুকুর-খাল-ডোবা-নদী কিংবা ঝর্নার মোটামুটি পাঁচশো মিটারের মধ্যে ক্যাম্প করে মাওবাদীরা। যাতে খাওয়ার জল পেতে অসুবিধে না হয়। আমরা তাই জলের উৎসগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি, যাতে মাওবাদীরা নতুন করে জঙ্গিপনা শুরু করলে আন্দাজ করা যায়, কোথায় ওরা ক্যাম্প করেছে।”
শিবিরে বয়ে নিয়ে যাওয়া নদী-ঝর্নার জল মাওবাদীরা কী ভাবে শোধন করে, গোয়েন্দাদের কাছে তারও খবর আছে। এটা হয় তিন ধাপে। প্রথমে বড় বড় পাত্রে বেশ কিছুক্ষণ ধরে রেখে জলের কাদা-ময়লা-বালি থিতিয়ে ফেলা হয়। তার পরে পরিষ্কার গামছা বা কাপড়ে ছেঁকে ভরা হয় রিকেনে। আর পানের আগে তাতে মেশানো হয় পরিশোধক রাসায়নিক। “বোতলবন্দি জল কিনে ক্যাম্প চালানোর বিলাসিতা করা মাওবাদীদের পক্ষে সম্ভব নয়। তার খরচ আছে। সবচেয়ে বড় কথা, দুর্গম জঙ্গলে সেই জল নিয়মিত বয়ে নিয়ে যাওয়াটা কার্যত অসম্ভব।” মন্তব্য এক গোয়েন্দা-কর্তার।
রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে লড়ার মতো অবস্থায় মাওবাদীরা নেই। তা বলে তারা এ রাজ্য থেকে মুছে গিয়েছে, এমনটাও ভাবা ভুল। বরং রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের কাছে খবর, কিছু জায়গায় মাওবাদীরা নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। রাজ্য আইবি’র এক অফিসার বলেন, “ক্যাম্পের মোটামুটি এক কিলোমিটারের মধ্যে জনবসতি থাকলে ওদের পানীয় জল পেতে অসুবিধে হয় না। সে ক্ষেত্রে অবশ্য বাসিন্দাদের সমর্থন থাকাটা আবশ্যিক।
জঙ্গলমহলে যেমন দেখা গিয়েছে, ২০১১-র শেষাশেষি গণ-সমর্থনে ধস নামায় বহু গ্রামের লোক ওদের রান্না করা খাবার দিতে চাইত না।” আবার সর্বত্র শিবিরের কাছাকাছি গ্রাম থাকবে, এমনও নিশ্চয়তা নেই।
কাজেই বিশেষত পানীয় জলের জন্য জঙ্গলের প্রাকৃতিক উৎসগুলোর উপরেই মাওবাদীদের এখন বেশি নির্ভর করতে হবে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। যার ভিত্তিতে সিআইএফ আচমকা গেরিলা কার্যকলাপ মোকাবিলার প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে জলের উৎস চিহ্নিত করতে নেমেছে। তবে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের হাতে জঙ্গলমহলের যে সব উপগ্রহ-চিত্র রয়েছে, তাতে জল-উৎস সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই। স্বরাষ্ট্র-সূত্রের খবর: গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) পদ্ধতিতে সেগুলোও চিহ্নিত করে জঙ্গলমহলের মানচিত্রে তুলবে সিআইএফ।
ইতিমধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া মিলিয়ে জঙ্গলমহলের ৪০% এলাকায় সিআইএফ কাজটা সেরে ফেলেছে বলে কর্তাদের দাবি।



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.