নজরে রাজ্যের ৭৩ সংস্থা
দেশ জুড়ে তদন্তে দিল্লির টাস্ক ফোর্স
শ্চিমবঙ্গে সারদা কেলেঙ্কারির পরে এ বার গোটা দেশ জুড়ে সমস্ত ভুঁইফোঁড় অর্থলগ্নি সংস্থার (সাধারণ ভাবে যারা চিটফান্ড বলে পরিচিত) বিরুদ্ধে মাঠে নামছে কেন্দ্র। কর্পোরেট বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সচিন পায়লট আজ জানিয়েছেন, বড় মাপের তছরুপের তদন্তের দায়িত্বে যে এসএফআইও (সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস) থাকে, তারাই এই সংস্থাগুলির কার্যকলাপ খতিয়ে দেখবে। এ কাজে তাদের অধীনে একটি স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স তৈরি হবে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, দেশের অন্য সব ভুঁইফোঁড় সংস্থার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেরও বহু সংস্থার কাজকর্ম খতিয়ে দেখবে এই বিশেষ টাস্ক ফোর্স। তৃণমূল সাংসদ সোমেন মিত্র যখন লোকসভায় এই নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন, তখন একটি তালিকা দিয়েছিল কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক। সেই তালিকায় সারদা ছাড়াও রোজভ্যালী, এমপিএস, টাওয়ার, চক্র, প্রয়াগ, আইকোর, সানশাইন-সহ মোট ৭৩টি সংস্থার নাম ছিল। এ দিন টাস্ক ফোর্স নিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছে মন্ত্রক, তাতে কোনও সংস্থার নাম নেই। তবে মন্ত্রক সূত্রের খবর, টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে ওই সব ক’টি সংস্থার বিরুদ্ধেই দ্রুত তদন্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।
কেন্দ্র ভাল ভাবেই বুঝতে পারছে, একা সারদা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বা সুদীপ্ত সেনকে জেলে পুরে লাভ হবে না। রাজ্যে ভুঁইফোঁড় টাকা তোলার সংস্থার অভাব নেই। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে তাই আজ সকালে পায়লট তাঁর মন্ত্রকের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। অর্থ মন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা দফতরের কর্তাদের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়। তার পরেই মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে টাস্ক ফোর্স গঠন এবং তদন্তের কথা জানানো হয়। ঠিক হয়েছে, তদন্তের ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশ, আয়কর দফতর, সেবি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের মতো সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে এসএফআইও।
কর্পোরেট মন্ত্রক বরাবর বলে আসছে, ১৯৮২ সালের চিট ফান্ড আইন অনুযায়ী ভুঁইফোঁড় লগ্নিকারী সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণের রাখার দায়িত্ব রাজ্যের। আজ হঠাৎ কেন টাস্ক ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিল তারা?
মন্ত্রকের এক শীর্ষকর্তা বলেন, “আমরা এখনও বলছি, চিটফান্ডগুলিকে লাগাম পরানোর দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। তবে এর সঙ্গে বৃহত্তর জনস্বার্থ জড়িত। এই সংস্থাগুলি বেআইনি উপায়ে জমা করা অর্থের অপব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। মালিকরা এই সংস্থাগুলি বন্ধ করে দিতে পারে।” তবে টাস্ক ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেও কর্পোরেট মন্ত্রকের কর্তাদের চিন্তা শেষ হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, আসল সমস্যা হল আইনি জটিলতা। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকেরও একই বক্তব্য। দুই মন্ত্রকই বলছে, ব্যাঙ্কের বাইরে কিছু অর্থলগ্নি সংস্থা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আওতায় পড়ে। আবার কিছু সংস্থা পড়ে সেবি-র অধীনে। কিন্তু আইনের ফাঁক গলে এমন বহু সংস্থাই কাজ করে চলেছে, যারা কারও অধীনেই আসে না। বেআইনি ভুঁইফোঁড় সংস্থাগুলির বেশির ভাগই এই তালিকাভুক্ত। অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা মানছেন, এমতাবস্থায় ভুঁইফোঁড়দের ওপরে রাশ টানতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও সেবি-র পরিধি আরও বাড়ানো দরকার। তাতে যদি কোনও ক্ষেত্রে পারস্পরিক ঠোকাঠুকিও হয়, তাতেও ক্ষতি নেই। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা বেসরকারি ব্যাঙ্কের কথা তুলেছেন। সেই ব্যাঙ্কগুলি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আওতায় পড়ে। আবার তাদের শেয়ার গ্রাহকদের স্বার্থরক্ষার দিক দেখে সেবি। একই ভাবে ভুঁইফোঁড় সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলেও যদি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও সেবি-র মধ্যে কিছুটা এক্তিয়ার নিয়ে সমস্যা হয়, তা হোক।
এখন ভুঁইফোঁড় সংস্থাগুলি কোম্পানি নিবন্ধকের কাছে নাম নথিভুক্ত করে। ফলে তারা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা সেবি-র অনুমতি না নিয়েই আমানতকারীদের থেকে টাকা তুলতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে সারদা গোষ্ঠীও এই আইনের ফাঁকেই কাজ করেছে। এখন সেটাই আটকাতে চাইছে সরকার। প্রশাসনের কর্তারাই জানাচ্ছেন, শেষ পর্যন্ত তারা কতটা কাজ করতে পারবে, সেটা বড় চ্যালেঞ্জ।
সমস্যা রয়েছে কেন্দ্র-রাজ্য এক্তিয়ার নিয়েও। ১৯৮২ সালের কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী নিজেরা তদন্ত শুরু করলেও কর্পোরেট মন্ত্রকের কর্তারা বলছেন, রাজ্য সরকারেরই আরও আগে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মতো অসমেও শ’খানেক সংস্থা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমতি ছাড়াই টাকা তুলছে। সারদা গোষ্ঠীর সম্পর্কে তিন বছর আগেই পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারকে সতর্ক করেছিল সেবি। সারদা রিয়েলটি ছাড়া ওই গোষ্ঠীর আরও ১০টি সংস্থার কাজকর্মের তদন্ত করছে সেবি। কিন্তু ব্যবস্থা কিছুই নেওয়া হয়নি। ফলে আজ সর্বস্বান্ত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। অন্য দিকে রাজ্যের বক্তব্য, তারা ভারতীয় দণ্ডবিধি বা ফৌজদারি কার্যবিধি মতে ব্যবস্থা নিতে পারে। আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত আইনটি কেন্দ্রের। তাই তাদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্য সব কিছুর সঙ্গে এই জটিলতাও মেটাতে হবে দু’পক্ষকে। না হলে হাজার চেষ্টাতেও লাগাম পরানোর কাজ সহজ হবে না।
পুরনো খবর:



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.