উত্তর কলকাতা
বড়বাজার
অগ্নিশুদ্ধির অপেক্ষায়
জায়গার অভাবে আপাতত আটকে গেল বড়বাজার এলাকায় দমকলকেন্দ্র তৈরির কাজ। তবে আগুন লাগলে সহজে জলের জোগান পাওয়ার ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হয়েছে দমকল দফতর। রাজ্যের দমকলমন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খান বলেন, “জমি না পাওয়ায় বড়বাজারে দমকলকেন্দ্র আপাতত তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। এখানে আগুন লাগার প্রবণতা বেশি। তাই জলের জোগান ঠিক করার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছি।”বড়বাজার এলাকায় অগ্নিনির্বাপণে সমস্যা কোথায়?
দমকল দফতরের অধিকর্তা (ফায়ার প্রিভেনশন) তপন ঘোষ বলেন, “এই অঞ্চলে বেশি আগুন লাগে। গুদাম ও দোকানে প্রচুর দাহ্য বস্তু মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বার বার জানানো সত্ত্বেও ব্যবসায়ীদের একাংশ এখনও আমাদের নির্দেশিকা মানেননি। যাঁরা মানছেন না তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়াও এই অঞ্চলে একটি দমকলকেন্দ্র প্রয়োজন।”
নন্দরাম মার্কেটে আগুন।—ফাইল চিত্র
জাভেদ খান জানান, কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মোট ২৫টি দমকলকেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। কলকাতায় ন’টি দমকলকেন্দ্র তৈরি হবে। বড়বাজার তার মধ্যে অন্যতম। স্থানীয় বিধায়ক স্মিতা বক্সীর কথায়: “বড়বাজার এলাকায় দমকলকেন্দ্র দরকার। কিন্তু কেন্দ্র তৈরির জন্য যে পরিমাণ জমি দরকার তা নেই। জমি খোঁজা হচ্ছে। জমি পেলে দমকল দফতরকে জানানো হবে।” তপনবাবু জানান, বড়বাজারে দমকলকেন্দ্র তৈরির জন্য কমপক্ষে আট থেকে দশ কাঠা জমির প্রয়োজন। কেন্দ্রে দু’টি ইঞ্জিন এবং কর্মীদের থাকার জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জলের জোগান।
তাই দমকল কর্তৃপক্ষ বড়বাজার এলাকার স্ট্র্যান্ড রোডে গঙ্গার ধারে দমকলকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু এখনও কোনও জমি পাওয়া যায়নি বলে তপনবাবু জানান।
স্টিফেন কোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পরে দমকল, কলকাতা পুরসভা, সিইএসসি এবং পুলিশের প্রতিনিধিরা মিলে আগুন প্রতিরোধের জন্য নির্দেশিকা দিয়েছিলেন। দমকল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বড়বাজারের ব্যবসায়ীদের একাংশ তা মানছেন না। দমকল সূত্রের খবর, গত এক বছরে বড়বাজার অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে অগ্নিবিধি না মানার জন্য দমকল প্রায় ৩০টিরও বেশি বাড়িতে নোটিস দিয়েছে। এর পরেও কাজ না হলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দমকলের দাবি।

১৯৫০ খ্যাংড়াপট্টিতে।
১৯৮২ গণেশ কাটরা ও লক্ষী কাটরার ২০০ দোকানে।
১৯৮৭ ক্যানিং স্ট্রিটের ভগবানদাস কাটরায়।
১৯৮৯ ক্যানিং স্ট্রিটের বহুতলে।
১৯৯২ লক্ষী কাটরা ভস্মীভূত।
১৯৯৫ মনোহরদাস কাটরা পুড়ে ছাই।
২০০০ ক্যানিং স্ট্রিটে টুড়ি মার্কেটে আগুন।
২০০২ মহাত্মা গাঁধী রোডে পুরনো বাড়িতে।
২০০৩ সত্যনারায়ণ পার্কে ভূগর্ভস্থ বাজারে।
২০০৮ নন্দরাম মার্কেটে।
২০১০ স্ট্র্যান্ড রোডের গুদামে।
২০১৩ স্ট্র্যান্ড রোডের আরও একটি গুদামে।

ব্যবসায়ীদের একাংশ কেন এই নির্দেশিকা মানছেন না?
‘ফেডারেশন অফ ট্রেড অর্গানাইজেশন’-এর বড়বাজার শাখার সম্পাদক তথা ‘রাজাকাটরা ব্যবসায়ী সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক তাপস মুখোপাধ্যায় বলেন, “বড়বাজার এলাকার দোকান-বাজারগুলি মূলত পুরনো বাড়িতেই অবস্থিত। এই বাড়িগুলিতে জলাধার করার নির্দেশিকা থাকলেও তা করা যাচ্ছে না। যে কোনও সময়েই বাড়ি ভেঙে পড়তে পারে। বিকল্প হিসেবে কাছাকাছি কোথায় জলাধার করা যায় সে ব্যাপারে আমরা ভাবছি।
তবে, অধিকাংশ বাড়ির পুরনো বৈদ্যুতিক তার পাল্টানো হয়েছে। গঙ্গার জলের পুরনো সংযোগ ছাড়াও যাতে নতুন সংযোগ তৈরি করা যায় সেই ব্যাপারেও ভাবনাচিন্তা করা হয়েছে।”দমকল সূত্রের খবর, এই অঞ্চলে গঙ্গার জলের যে পুরনো সংযোগগুলি ছিল তা পলি পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এগুলি পরিষ্কার না করলে প্রয়োজনে জল পাওয়া সম্ভব নয়। এগুলি পরিষ্কার করা ছাড়াও নতুন আরও কিছু জলের জোগানের ব্যবস্থা করা যায় কি না সে ব্যাপারে সম্প্রতি পুরসভা, দমকল এবং বড়বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেছেন।

ছবি: স্বাতী চক্রবর্তী




অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.