সুগার বেড়েছে, ওজনও
শরীর সাধতে আফতাবকে স্কিপিং-দড়ি, উঠছে প্রশ্ন
সে প্রাণদণ্ডের আসামি। আপাতত রয়েছে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের কনডেম্ড সেলে। শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়ামের জন্য সেখানেই সে চায় স্কিপিংয়ের দড়ি ও পুশ-আপ বার। শীর্ষ কারা-কর্তৃপক্ষ আর্জি মঞ্জুরও করেছেন। কিন্তু তা ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে কারা দফতরেরই অন্দরে।
বন্দির নাম আফতাব আনসারি।
কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে হামলা ও খাদিম-কর্তা অপহরণ-মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে আফতাবের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। শরীরটা ইদানীং ভাল যাচ্ছে না। মনও ঠিকঠাক নেই। জেল সূত্রের খবর, আফতাব দীর্ঘ দিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছে। তাই তাকে ‘সুগার ফ্রি ডায়েট’ দেওয়া হয়। কিন্তু ইদানীং তার ব্লাড সুগার বেড়েছে, সঙ্গে ওজনও ঊর্ধ্বগামী। ‘ফিট’ থাকতে সে এখন শরীরচর্চা করতে চায়। এই মর্মে ইচ্ছে প্রকাশ করে গত ১ এপ্রিল জেল-সুপারকে আফতাব লিখেছিল, “জেলের ডাক্তার আমাকে ওজন কমাতে বলেছেন। আমাকে স্কিপিংয়ের জন্য দড়ি আর ডন-বৈঠকের জন্য পুশ-আপ বার দেওয়া হোক।”
আফতাবের আর্জিতে সদ্য অনুমোদন দিয়েছেন রাজ্য কারা দফতরের আইজি রণবীর কুমার। যা নিয়ে কারা-কর্তাদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের মতে, এতে অহেতুক বিপদের পথ খুলে রাখা হচ্ছে। কী রকম?
কারা-মহলের এই অংশের বক্তব্য: এমনিতেই বন্দিদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে জেলে কড়া নজরদারি চালানো বাধ্যতামূলক। আফতাবের মতো বন্দিদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হয়। এমনকী কয়েদিদের মশারি পর্যন্ত দেওয়া হয় না, যাতে কেউ তা গলায় পেঁচিয়ে আত্মঘাতী হতে না-পারে। উপরন্তু অতি সম্প্রতি দিল্লি গণধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি রাম সিংহ তিহাড় জেলে আত্মহত্যা করেছে। সেই দৃষ্টান্ত দেখিয়ে রাজ্যের কারা-কর্তাদের একাংশের দাবি, আফতাবের মতো ফাঁসির আসামিকে স্কিপিং দড়ি দেওয়ায় ঝুঁকি রয়েছে যথেষ্ট।
আইজি অবশ্য তা মানেন না। “কেউ চাইলে বিছানার চাদর দিয়েও আত্মহত্যা করতে পারে। তা ছাড়া ফাঁসির আসামিকে সাধারণত কিছু বাড়তি জিনিস দেওয়া হয়। তাদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও রয়েছে।” বলেন রণবীর কুমার।
২০০২-এর ২৩ জানুয়ারি কলকাতায় আমেরিকান সেন্টারে জঙ্গি হানার পর দিন দুবাইয়ে ধরা পড়েছিল অন্যতম চক্রী আফতাব। সেই ইস্তক জেলই তার ঠিকানা। এখন আফতাব রয়েছে আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের এক নম্বর সেলে। মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে শুরু করে কারারক্ষীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বিবিধ নালিশ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকী, আফতাব জেলে বসে করাচিবাসী স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলছে, এমন অভিযোগ পর্যন্ত উঠেছে মাস কয়েক আগে। জেলে বসে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগও বাদ যায়নি।
এর পরেই জেলের মধ্যে আফতাবের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এখন তার সেলের সামনে দু’ঘণ্টা অন্তর রক্ষী বদল হচ্ছে। সেলের ভিতরে খানা-তল্লাশি চলছে নিয়মিত। পাশাপাশি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র-সচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি গুজরাত-উত্তরপ্রদেশ-নয়াদিল্লি-বিহারের স্বরাষ্ট্র-সচিবদের চিঠি লিখে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও মামলায় হাজিরা দিতে আফতাবকে আর ভিন রাজ্যে পাঠানো সম্ভব নয়। আফতাবের সেলেই ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। মামলার প্রয়োজনে তার মারফত আফতাব নিজের বক্তব্য পেশ করতে পারবে। জেল-সূত্রের খবর, আফতাব এখন জেলের ফোন-বুথ থেকে হামেশা বারাণসীতে পরিজনদের সঙ্গে কথা বলে। বুথ থেকে যাতে আইএসডি কল করা যায়, সেই আর্জিও সে জানিয়ে রেখেছে।
তবে ফাঁসির আসামি হওয়ার সুবাদে ‘বিশেষ সুবিধা’ হিসেবে আফতাবের সেলে একটি টেলিভিশন সেট দেওয়া হয়েছে। এবং তাতে আফজল গুরুর ফাঁসি সংক্রান্ত খবর শোনার পর থেকেই সে মুষড়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন এক কারা-কর্তা। তাঁর অনুমান, হতাশা ও টেনশনেই আফতাবের ব্লাড সুগার ইদানীং বাড়তির দিকে। যা ঠেকাতে সে কনডেম্ড সেলের মধ্যেই সে শরীর সাধতে চায়।
নিরাপত্তার খাতিরে যে জেলের ব্যায়ামাগারেও যেতে দেওয়া হয় না আফতাব আনসারিকে!

পুরনো খবর:
 
 
 


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.