অপেক্ষা করবেন না শিল্পপতিরা
জমি নীতির বিরোধিতায় অনড় সৌগত
মুখ্যমন্ত্রীর ধমক খেয়েও নিজের অবস্থানে অনড় সৌগত রায়!
শনিবার বণিকসভা সিআইআই-এর অনুষ্ঠানে তিনি বললেন, “জমির জন্য কোনও শিল্পপতি অপেক্ষা করবেন না। শিল্পায়নের খাতিরে সরকারকেই চটজলদি জমি সমস্যার সমাধান করতে হবে।” সম্প্রতি একাধিক বণিকসভার অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের জমি নীতিকে কার্যত প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন সৌগতবাবু। বলেছেন, জমি নীতির কারণেই এ রাজ্যে বড় শিল্প গড়া সম্ভব নয়। এই মন্তব্যের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোষের মুখে পড়েন তিনি। ফোন করে তাঁর ব্যাখ্যা তলব করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মৌখিক ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সৌগতবাবু জানিয়ে দেন, এই পরিস্থিতিতে তাঁর পক্ষে রাজ্য সরকারের শিল্প উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে না। সৌগতবাবু এখনও শিল্প উপদেষ্টা আছেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় অবশ্য কাটেনি। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে যে চিঠি দিয়েছেন, সেটা আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র নয়। আবার মমতাও তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেননি। সৌগতবাবুর নিজের মন্তব্য, “কে বলেছে আমি ছেড়েছি? আমি কিছু বলিনি।” সিআইআই-এর আমন্ত্রণপত্রে যে তাঁকে শুধু সাংসদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কারণ সম্ভবত এই ধোঁয়াশা।
পদ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও নিজের অবস্থানে কোনও রকম দোলাচল রাখেননি শাসক দলের বর্ষীয়ান এই সাংসদ। এ দিন তিনি ফের বলেছেন, “বড় শিল্প গড়তে চেয়ে শিল্পপতিরা বসে থাকবেন না। তাঁদের দ্রুত জমি দিতে হবে। কিন্তু রাজ্যের অর্থনীতি ও শিল্প নীতির অভিমুখ যে দিকে, তাতে বড় শিল্প সম্ভব নয়। কারণ কৃষকদের থেকে জমি নিয়ে শিল্প তৈরি করা হবে না। ফলে ছোট ও মাঝারি শিল্প ছাড়া উপায় নেই।”
এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, “উনি ঠিকই বলেছেন। জমির জন্য শিল্পপতি বসে থাকবেন না। আমাদের কাছে প্রস্তাব দিলেই জমি নিয়ে আলোচনা করা হবে।”
কিন্তু প্রশ্ন হল, জমি কোথায়? রাজ্য যে জমি অধিগ্রহণ করবে না, সে কথা শুক্রবার ফের জানিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, অধিগ্রহণের পথে না-হেঁটে নকশা পাল্টে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের সমস্যা মেটাতে হবে। কাটোয়ায় এনটিপিসি-র তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর অবস্থান একই।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বারবার ল্যান্ড ব্যাঙ্কের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সৌগতবাবুরই প্রশ্নের উত্তরে ভূমি ও ভূমি সংস্কার সচিব আর ডি মীনা চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, রাজ্যে সে অর্থে কোনও ল্যান্ড ব্যাঙ্ক নেই। পার্থবাবুর অবশ্য দাবি, “আমি দু’শো শতাংশ নিশ্চিত জমি নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। প্রস্তাব দিলে জমির ব্যবস্থা করা হবে। রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগমের ওয়েবসাইটে কোথায় কতটা জমি আছে, তা বলে দেওয়া হয়েছে।”
ওই ওয়েবসাইটে বারোটি শিল্পতালুকে কোথায় কত জমি আছে, তা উল্লেখ করা হয়েছে। অধিকাংশ শিল্পতালুকেই ১২ থেকে ২০০ একর মতো জমি আছে। খড়্গপুুরের বিদ্যাসাগর ও পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে জমি আছে যথাক্রমে ৫০০ ও ৭০০ একরের কাছাকাছি। ফলে এক লপ্তে বড় জমি কোনও শিল্পতালুকেই পাওয়া যাবে না। যদিও পার্থবাবুর দাবি, প্রস্তাব এলে এক লপ্তে জমি পাওয়াও সমস্যা হবে না। সিআইআই-এর অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পসচিব চঞ্চলমল বাচাওয়াতও বলেন, ৯০ শতাংশ প্রকল্পের জমি সমস্যা মিটে গিয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলির কাগজপত্র শীঘ্রই ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের কাছে পাঠানো হবে।
পার্থবাবু তৎক্ষণাৎ জমি সমস্যার সমাধানের কথা বললেও ঘটনা হল, রাজ্যে শিল্প স্থাপনের সমস্যা নিয়ে গত ছ’মাসে মুখ্যমন্ত্রীকে ১৮টি চিঠি লিখে একটিরও জবাব পাননি সৌগতবাবু। শিল্প মহলের প্রশ্ন, যাঁকে শিল্প উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে তাঁর চিঠির জবাব দেওয়াতে যদি এই অনীহা হয়, তা হলে অন্যদের কী হবে!
মমতাকে লেখা চিঠিতে কলকাতা শহরতলিতে বন্ধ কলকারখানার জমিতে আবাসন গড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সৌগতবাবু। বলেছিলেন, ব্যারাকপুর, মধ্যমগ্রাম, বারাসত-সহ বিভিন্ন এলাকায় বহু বন্ধ কারখানার জমিতে আবাসন হচ্ছে। পুরসভা যদি নির্দেশ দেয় যে ওই জমিতে শুধু কারখানাই গড়া যাবে তা হলে শিল্পপতিরা বাড়তি উৎসাহ পাবেন। মমতা জবাব না-দিলেও এই প্রশ্নেও তিনি যে নিজের অবস্থান থেকে নড়েননি, সেটা এ দিন ফের বুঝিয়ে দিয়েছেন সৌগতবাবু। তিনি বলেন, “বন্ধ কারখানার জমিতে শিল্পই হওয়া উচিত, আবাসন নয়। এ কথা আমি আগেও বলেছি। আবার বলছি।”



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.