‘ধ্বংসাত্মক’ বিরোধিতায় যাব না, ফের বললেন সূর্য
ক বছরেই সরকার ধৈর্য হারালেও তাঁরা ‘অধৈর্য’ হবেন না। সরবেন না ‘দায়িত্বশীল’ বিরোধীর ভূমিকা থেকেও। শিল্প-কারখানায় বাধা দিতে যাবেন না, বিধানসভায় ভাঙচুরও করবেন না! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তির মুখে এসে স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। যা আপাতত তাঁর দল সিপিএমের অবস্থান।
প্রায় এক বছরে মুখ্যমন্ত্রীকে একের পর এক চিঠি লিখে গিয়েছেন। আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়ে একটি বার্তা আসা ছাড়া কোনওটিরই জবাব আসেনি। বিরোধীদের অনেক প্রশ্ন, সমালোচনা সরকার উড়িয়েই দিয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলনেতা বলছেন, “এর পরেও চিঠি লিখব। দায়িত্বশীল বিরোধীর যে ভূমিকা পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম, তা-ই পালনের চেষ্টা করে যাব। আমাদের ধৈর্যের অভাব নেই। আমরা সরকারের মতো অধৈর্য নই!”
বস্তুত, মমতার সরকারের প্রথম ১০ মাসে মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা বিরোধী দলনেতার চিঠি এবং বিভিন্ন জায়গায় দেওয়া বামফ্রন্ট পরিষদীয় দলের স্মারকলিপির যে নির্বাচিত সংকলন শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে, তার শিরোনামই হয়েছে ‘জবাব মেলেনি’! কলকাতা প্রেস ক্লাবে পুস্তিকাটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ উপলক্ষে সূর্যবাবুর মন্তব্য, “জবাব মেলেনি। কিন্তু জবাব দিতেই হবে এক দিন। আমাদের না-হলেও রাজ্যের মানুষের কাছে জবাব দিতে হবে!” রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্য, নির্বাচিত সংস্থাগুলির উপরে জোর করে দখল কায়েম, বাম কর্মী-সমর্থকদের উপরে শাসক দলের হামলা এই রকম নানা ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো নির্বাচিত চিঠি স্থান পেয়েছে সংকলনে।
পুস্তিকার প্রকাশে সূর্যকান্ত মিশ্র। শুক্রবার। ছবি: পি টি আই
এত দিন চিঠি লিখে, মহাকরণ বা রাজভবনে দরবার করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের পথে থাকার পরে এ বার কি বিরোধীরা পথে নেমে তীব্র আন্দোলনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে? সুভাষ নস্কর, আনন্দময় মণ্ডল, প্রবোধ সিংহ, আনিসুর রহমান প্রমুখ বাম পরিষদীয় দলের নেতৃত্বকে পাশে নিয়ে বিরোধী দলনেতার জবাব, “পথে আমরা ছিলাম। নিরন্তর আন্দোলনও করেছি। কিন্তু সেই আন্দোলন করিনি এবং কখনও করব না, যা এখনকার শাসক পক্ষ বিরোধী দলে থাকার সময় করতেন! বিধানসভা ভাঙচুর, শিল্প-কারখানা বা রাস্তাঘাট হতে না-দেওয়ার আন্দোলনে আমরা যাব না। নেতিবাচক, ধ্বংসাত্মক আন্দোলন আমরা করব না। মানুষের প্রতিবাদই এক দিন প্রতিরোধ হবে।” তাঁদের চিঠিপত্রের জবাব আসেনি, নানা ঘটনাকে বিরোধীদের ‘চক্রান্ত’ বলে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, সরকারের তরফে ‘অসহিষ্ণুতা’র নজির ধরা পড়ছে বলে বিরোধীরাও পাল্টা সমালোচনা করেছে। এর পরেও কি সরকার-বিরোধী আদানপ্রদানের পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব বলে তাঁরা মনে করছেন? সূর্যবাবুর ব্যাখ্যা, “চেষ্টা করব আদানপ্রদান চালিয়ে যাওয়ার। ছুতোনাতায় আদানপ্রদান থেকে সরে আসার চেষ্টা করব না। আর সরকারের মতো নিজেদের মূল্যায়ন করে নম্বরও দিতে যাব না! মূল্যায়ন যা করার, মানুষ করবেন।”
মমতা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ যখন কলকাতায় এসেছিলেন, তখন তাঁর কাছে দরবার করে বাম পরিষদীয় দল লিখিত ভাবে দাবি জানিয়েছিল, রাজ্যের ‘ন্যায্য পাওনা’ মিটিয়ে দেওয়া হোক। প্রয়োজনে সরকারের সঙ্গে তাঁরা যৌথ ভাবে দিল্লি গিয়ে দরবার করতে রাজি আছেন বলেও সূর্যবাবু মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক মন্ত্রীকে লিখেছিলেন। সেই নথি বামেদের সংকলনে রাখা হয়েছে। এখন আর্থিক সহায়তা আদায়ের জন্যই তৃণমূলের মন্ত্রী-সাংসদেরা দিল্লিতে সক্রিয়। এই সূত্রে সূর্যবাবুর বক্তব্য, “আমরা আগেই অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম। কেন্দ্রীয় সরকার আর্থিক সহায়তা দিলে খুশিই হব। রাজ্য সরকার নানা গোলমালে আছে। কিন্তু কেন্দ্রের সরকারও ডুবন্ত জাহাজ! কে কাকে বাঁচাবে, জানি না! তবু বলছি, রাজ্য সাহায্য পেলে খুশিই হব।”



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.