কৃষি-খাদ্য বণ্টনে বরাদ্দবৃদ্ধি, বিদর্ভে প্যাকেজের ভাবনা
কেন্দ্রীয় বাজেটে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছেন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়। এক দিকে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, অন্য দিকে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের পায়ের তলার জমি শক্ত করা।
আর সে দিকে লক্ষ্য রেখেই এ বার কেন্দ্রীয় বাজেটে কৃষি ক্ষেত্রে তিনটি বড়সড় ঘোষণা হতে পারে। প্রথমত, চলতি বছরের শেষ পর্যায়ে খাদ্য সুরক্ষা আইন কার্যকর হবে বলে মনে করছে মনমোহন-সরকার। অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, সে কথা মাথায় রেখে এই বাজেটেই খাদ্যশস্যের বণ্টন ব্যবস্থার উন্নতির কাজ শুরু করে দিতে চাইছেন প্রণব। দ্বিতীয়ত, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দু’বছর আগে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতে ‘দ্বিতীয় সবুজ বিপ্লব’ শুরু করার কথা বাজেটে ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সেই পথে আরও এগোতে ‘দ্বিতীয় সবুজ বিপ্লব’-এ গত বছরের দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ এ বার বরাদ্দ করতে চাইছেন তিনি। তৃতীয়ত, মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ অঞ্চলের জন্য বাজেটে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রকের একটি সূত্রের দাবি, এই তিনটি ঘোষণার মধ্যে প্রথমটি যদি সনিয়া গাঁধীর পরিকল্পনা কার্যকর করার পথে প্রথম পদক্ষেপ হয়, তা হলে শেষেরটি অবশ্যই রাহুল গাঁধীর ইচ্ছেপূরণ। ২০০৮-এ সংসদে দাঁড়িয়ে বিদর্ভের কলাবতীর কথা গোটা দেশের সামনে তুলে ধরেছিলেন রাহুল। কলাবতীর কৃষক স্বামী ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করার পরে গোটা পরিবার কী রকম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, তার বর্ণনা দিয়েছিলেন তিনি। তার পরে সরকারের তরফে অনেক ঘোষণা করা হলেও বিদর্ভের কৃষক আত্মহত্যার ছবিটা বিশেষ বদলায়নি। যা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন মহারাষ্ট্রের পৃথ্বীরাজ চহ্বাণের সরকার। বিদর্ভের ধাক্কা এসে লেগেছে দিল্লিতেও। সে কথা মাথায় রেখেই এ বার মহারাষ্ট্রের ওই রুক্ষ-নির্জলা এলাকার সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ‘আর্থিক প্যাকেজ’ তৈরির কাজ চলছে।
খাদ্য সুরক্ষা আইনের ‘বিরাট আর্থিক বোঝা’ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী শরদ পওয়ারের ‘সংশয়’ থাকলেও নিজের রাজ্যের কৃষকদের জন্য এই আর্থিক প্যাকেজে তাঁর যথেষ্টই সমর্থন রয়েছে। কৃষি মন্ত্রক সূত্রের খবর, সব ঠিকঠাক চললে বিদর্ভের জন্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা হতে পারে বাজেটে। বিদর্ভে কম বৃষ্টিপাতের কথা মাথায় রেখে মূলত গভীর সেচ প্রকল্প (ড্রিপ ইরিগেশন নেটওয়ার্ক) ও ‘চেক ড্যাম’ তৈরিতে এই অর্থ ব্যয় হবে।
দু’বছর আগে কেন্দ্রীয় বাজেটে গাঙ্গেয় উপত্যকার পলিমাটি সমৃদ্ধ পূর্ব ভারতে ‘সবুজ বিপ্লবে’র ডাক দিয়েছিলেন প্রণব। সে বার পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বিহার, ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও উত্তরপ্রদেশের পূর্ব ভাগে মাটির জলধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ৪০০ কোটি টাকা ধার্য করেছিলেন তিনি। গত বছরও তিনি এই প্রকল্পে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। তার সুফলও মিলেছে বলে অর্থ মন্ত্রকের দাবি। ওই অঞ্চলে ধান উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পূর্বাঞ্চলে এখন আরও উন্নতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই এ বারের বাজেটে ‘দ্বিতীয় সবুজ বিপ্লব’-এর জন্য অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চাষের কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে এই অর্থ ব্যয় হবে।
পূর্বাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বাড়লে খাদ্য সুরক্ষা আইন কার্যকর করার ব্যাপারেও তা সাহায্য করবে মনমোহন-সরকারকে। আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই খাদ্য সুরক্ষা বিল আনতে চাইছেন ইউপিএ-সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী। তার পরে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনার পর বিল পাশ হয়ে চলতি বছরের শেষে এই আইন কার্যকর হবে বলে কংগ্রেস সূত্রের খবর। শহর এবং গ্রাম মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে চাল-গম দেওয়ার যে খরচ, তা নিয়ে শরদ পওয়ার, মন্টেক সিংহ অহলুওয়ালিয়া বা সি রঙ্গরাজন ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু খাদ্য মন্ত্রক মনে করছে, কৃষি উৎপাদন বাড়লে সরকারি কোষাগারের উপর খুব বেশি বাড়তি বোঝা চাপবে না।
খাদ্য মন্ত্রকের আনুমানিক হিসেব, ২০১১-র জনগণনা অনুযায়ী গণবণ্টন ব্যবস্থায় খাদ্যে ভর্তুকির পরিমাণ ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। খাদ্য সুরক্ষা আইন কার্যকর করতে গেলে বাড়তি আর মাত্র ২ হাজার কোটি টাকা লাগবে বলে খাদ্য মন্ত্রকের হিসেব। একই ভাবে এখন গণবণ্টন ব্যবস্থার জন্য সরকারকে ৫ কোটি ৪০ লক্ষ টন খাদ্যশস্য বাজার থেকে সংগ্রহ করতে হয়। নতুন জনগণনার হিসেবে সেটা গিয়ে দাঁড়াবে ৬ কোটি ১০ লক্ষ টনে। খাদ্য সুরক্ষা আইন কার্যকর করতে গেলে এর তুলনায় আরও ২০ লক্ষ টন খাদ্যশস্য বাড়তি প্রয়োজন হবে। বিপুল পরিমাণ এই খাদ্যশস্য গোটা দেশে বিলি করতে যে পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা তৈরির কাজ এখন থেকেই শুরু করে দিতে চাইছে সরকার। যার জন্য বাজেটে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে পারেন অর্থমন্ত্রী।



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.