বিষাক্ত চোলাইয়ে মৃত্যু নিয়ে যে-ভাবে তদন্ত চলছে, তাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সম্ভাবনা কম বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হল আদালতেই। এই অবস্থায় সংগ্রামপুরের বিষমদ কাণ্ডে দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তি দিতে সিবিআই তদন্তের ব্যবস্থা করার জন্য আর্জি জানানো হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। বিষমদ নিয়ে দু’টি জনস্বার্থের মামলায় শুক্রবার এই আর্জি জানানো হয়।
সংগ্রামপুরে বিষমদ কাণ্ডে ১৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের পরিবারকে দু’লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার। শুধু ১৭২ জনের মৃত্যুই নয়, ওই মদ খেয়ে অসংখ্য মানুষ দৃষ্টিহীন হয়ে গিয়েছেন বলে এ দিন আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে জানানো হয়। ওই সব ক্ষতিগ্রস্তের কী হবে, আদালতে সেই প্রশ্ন তোলেন আবেদনকারীরা।
একটি মামলার আবেদনকারী আইনজীবী চিত্ত পাণ্ডা বলেন, রাজ্য সরকার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকের কাছে ইতিমধ্যেই ক্ষতিপূরণের টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে। ক্ষতিপূরণের টাকা যাতে নগদে দেওয়া না-হয়, সেই নির্দেশ দেওয়ার জন্য বিচারপতির কাছে আবেদন জানান চিত্তবাবু। জনস্বার্থের অন্য মামলাটির আবেদনকারীর আইনজীবী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ঘটনার অনেক দিন পরে তদন্ত শুরু হয়েছে। যে-ভাবে তদন্ত হচ্ছে, তাতে দোষীদের শাস্তি তো দূরের কথা, তাদের শনাক্ত করার সম্ভাবনাও কম। তা ছাড়া আবগারি আইনের ধারায় বিচার হলে দু’বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া যায় না। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি তোলেন ওই আইনজীবী। সুব্রতবাবুর দাবি, যে ভাবে তদন্ত চলছে তাতে দোষীদের শনাক্ত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই কোর্টেরই তত্ত্বাবধানে সিবিআই-কে দায়িত্ব দেওয়া হোক। আগামী সোমবার পুনরায় মামলাটির শুনানি হবে। |