দিন আসে, দিন যায়, তার ফাঁকেই ইতিহাসে ঢুকে পড়ে তার চলাচলের খবর। পুরনো দিনের শহুরে খবর দিয়ে চেনা যায় এখনকার
অতি পরিচিত শহরের অতীতটাকে, তার নাগরিক জীবনযাপন থেকে খেলাধুলো, সংস্কৃতি বা কূটকচালি থেকে রাজনীতির হাল।
পঞ্চাশ বছর আগের কলকাতা শহরের গতিবিধি চিনতে ২১ মে ১৯৬৩ থেকে ২০ জুন ১৯৬৩ এক মাসের কিছু বিশেষ খবর।

মঙ্গলবার ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০, TUESDAY, MAY 21, 1963
• সার্কুলার রেলপথে নির্মাণের কাজে অগ্রগতি: সার্কুলার রেলপথ রূপায়ণের কাজ আরও এক ধাপ অগ্রসর হইয়াছে। রাজ্য সরকার সিএমপিও-কে এ সম্পর্কে একটি বিশদ ও সুসংহত পরিকল্পনা রচনা করিতে বলিয়াছেন। পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী শ্রীপ্রফুল্লচন্দ্র সেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী শ্রীস্বর্ণ সিংয়ের নিকট এক পত্রে কলিকাতায় যানবাহনের কঠিন সমস্যার খানিকটা সুরাহা করার জন্য সার্কুলার রেলের প্রস্তাবটি বিবেচনা করিতে অনুরোধ করিয়াছেন। কিন্তু এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের মনোভাব সম্পর্কে কোন কোন মহলে কিছু সংশয় দেখা দিয়াছে। বেসরকারী সূত্রে জানা যায় যে, রেল কর্তৃপক্ষ নাকি সার্কুলার রেলের প্রস্তাবটি ১৯৬৬ সালের আগে বিচার করা সম্ভব নয় বলিয়া মনে করিতেছেন। অথচ সি এম পি ও কর্তৃপক্ষের ধারণা রেলের অনুমোদন লাভ করিলে এই পরিকল্পনার প্রথম পযার্য়ে দমদম হইতে হেস্টিংস পর্যন্ত বর্তমান বত্সরের শেষদিকেই ট্রেন চলাচল সম্ভব। শুধু এই পথটুকু বৈদ্যুতীকরণ করিলেই হয়। দ্বিতীয় পযার্য়ে কালীঘাট পর্যন্ত যাইতেও দুই বত্সরের বেশী লাগার কথা নয়। যাহা হউক সি এম পি ও’র বিশেষ কমিটি সার্কুলার রেল সম্পর্কে আগের সমস্ত পরিকল্পনা পরীক্ষা করিয়া মঙ্গলবারের বৈঠকে পূর্বের পরিকল্পনাই মোটামুটি অনুমোদন করিয়াছেন।পূর্বপ্রকল্প অনুযায়ী কলিকাতা বন্দরের বর্তমান রেলপথে ট্রেন চালাইবার প্রস্তাব তাঁহারাও দিয়াছেন। তবে এই দিনের সভায় কলিকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ তাঁহাদের লাইনে প্রস্তাবিত ট্রেন চালাইবার ক্ষেত্রে কয়েকটি অসুবিধার উল্লেখ করেন। এখন বিশেষ টেকনিক্যাল কমিটি সেই অসুবিধাগুলি দূর করার জন্য চেষ্টা সুরু করিবেন।

শুক্রবার ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০, (৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৮৮৫) FRIDAY, MAY 24, 1963
• সোমবার হইতে বাঁধা দরে চিনি যোগানের ব্যবস্থা: পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিভিন্ন ধরনের চিনির বিক্রয় মূল্য বাঁধিয়া দিতেছেন। আগামী সোমবার হইতেই এই মূল্য নির্ধারক আদেশ বলবত্ হইবে। ঐদিন (২৭শে মে) হইতে খাস কলিকাতা ও সন্নিহিত শিল্পাঞ্চলে ন্যায্যমূল্যের দোকানে নির্দিষ্ট দরে চিনি বিক্রয় সুরু হইবে। যেসব পরিবারের ন্যায্যমূল্যের দোকানের জন্য পরিচয়সূচক কার্ড আছে তাঁহারা ঐ কার্ডের ভিত্তিতে প্রতি সপ্তাহে ব্যাথা-পিছু (শিশু ও বয়স্ক নির্বিশেষে) ২৫০ গ্রাম চিনি লইতে পারিবেন। বৃহস্পতিবার এক সরকারী প্রেস নোটে ইহা ছাড়া আরও জানানো হয় যে, বিভিন্ন বাজারে মুদির দোকানগুলিতেও নির্দিষ্ট দরেই চিনি পাওয়া যাইবে এবং কোন কার্ড না করিয়াই খরিদ্দারগণ খোলা বাজার হইতেও চিনি কিনিতে পারিবেন।
চিনির নির্দিষ্ট দর
বৃহস্পতিবার এক সরকারী প্রেস নোটে ইহা ছাড়া আরও জানানো হয় যে, বিভিন্ন ধরনের চিনির কিলো প্রতি দর ঘোষণা করা হয়। মাঝারি দানাঃ- (ডি ২৯) ১ টাকা ২২ নয়া পয়সা। (সি ২৯) ১ টাকা ২৩ নয়া পয়সা। বড় দানাঃ- (বি ২৯) ১ টাকা ২৫ নয়া পয়সা; (এ ২৯) ১ টাকা ২৬ নয়া পয়সা।

রবিবার ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০,(৫ জ্যৈষ্ঠ ১৮৮৫ শক) SUNDAY, MAY 26, 1963
• বিপ্লবী মহানায়ক রাসবিহারী বসুর ৭৮তম জন্মোত্সব পালন: শনিবার রাত্রি আটটা বাজিবার সঙ্গে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর প্রতিকৃতির সামনে একটি দীপ জ্বালাইয়া দিলেন তাঁহার সহকর্মী ডাঃ পি এস খানখোজে। মহাজাতি সদনে সমবেত মহানগরীর নাগরিকবৃন্দ দণ্ডায়মান হইয়া এই তেজস্বী নায়কের শুভ জন্মমুহূর্তে তাঁহাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করিলেন। এই দিন কলিকাতায় বিভিন্ন সভা-সমিতির মধ্য দিয়া বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ৭৮তম জন্মোত্সব উদ্যাপিত হয়। তাঁহার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাইয়া বক্তাগণ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিময় দিনগুলির কথা স্মরণ করেন।
শনিবার মহাজাতি সদনে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ৭৮তম জন্মোত্সবে
তাঁহার সহকর্মী ডঃ পি এস খানখোজে বক্তৃতা করিতেছেন।
মহাজাতি সদনের সভা ডাকেন বিপ্লবী মহানায়ক রাসবিহারী বসু স্মারক সমিতি। সভাপতি ছিলেন প্রবীন বিপ্লবী নেতা ডাঃ পি এস খানখোজে। তিনি বলেন রাসবিহারী বলেছিলেন ভিক্ষায় স্বাধীনতা আসিবে না, তাহার জন্য সংগ্রাম করিতে হইবে। সারাজীবন এই মহান নায়ক সেইজন্য সংগ্রাম করিয়া গিয়াছেন। দেশের বাহিরে গিয়া ভারত স্বাধীনতা লীগ সংগঠন করিয়া রাসবিহারী ভারতের বিপ্লব আন্দোলনকে জোরদার সাহায্য করিয়াছেন।

রবিবার ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০,(৫ জ্যৈষ্ঠ ১৮৮৫ শক) SUNDAY, MAY 26, 1963
• কর্পোরেশনে গাফিলতির নমুনা: দীর্ঘ দশ বছরকাল কলিকাতা কর্পোরেশনের হিসাবপত্র না-মেলানো অবস্থায় থাকার দরুণ পৌরসভার কয়েক লক্ষ টাকার কর কালেকশন বিভাগের এক শ্রেণীর কর্মচারীর নিকট পড়িয়া থাকার যথেষ্ট অবকাশ আছে বলিয়া ওয়াকিবহল মহল মনে করিতেছেন। অভিযোগ প্রকাশ গত ১৯৫২-৫৩ সাল হইতে কর্পোরেশনের হিসাব-পত্র মিলান হইতাছে না। এবং এই কারণে যে সকল কর্মচারী কর আদায় করিয়া থাকেন তাঁহাদের নিকট হইতে যথোপযুক্ত হিসাব লওয়া হইতেছে না। আরও জানা যায় যে, ঐ হিসাব মিলানোর (রিকনসাইলড অ্যাকাউন্ট) কাজ শেষ হইলে বুঝা যাইবে আসল রহস্যটা কি এবং তাহা কতদূর গড়াইয়াছে! অথচ বকেয়া হিসাব মেলানোর কাজে হাত দিবার জন্য গত ১৯৫৮ সালে কর্পোরেশনে ৩৬হাজার টাকা ব্যয়ে একটি পরিকল্পনা রচনা করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত উক্ত পরিকল্পনা কার্যকরী করা হয় নাই। কি কারণে বছরের পর বছর কর্পোরেশনের এই গুরুত্বপূর্ণ হিসাবপত্র মেলানো হইতেছে না সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মহলে যুগপত্ বিস্ময় ও কৌতুহলের সৃষ্টি হইয়াছে।

রবিবার ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০,(৫ জ্যৈষ্ঠ ১৮৮৫ শক) SUNDAY, MAY 26, 1963
• বিক্রয়-মূল্য বাঁধিয়া দেওয়ার জের, খোলা বাজার হইতে চিনি উধাও: কলিকাতাবাসীকে লজ্জা তাই খোলা বাজারের চিনি বোধহয় গোপন অভিসারের পথ চায়। নানা ধরনের চিনির বিক্রয়মূল্য বাঁধিয়া দেওয়া সম্পর্কে সরকারী সিদ্ধান্ত প্রকাশ পাওয়ার পর এই অবস্থার সৃষ্টি হইয়াছে। শুক্রবারের সংবাদপত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রেস নোটের বিষয়বস্তু পরিবেষিত হওয়ার পর হঠাত্ কলিকাতার কোন কোন বাজার হইতে চিনি উধাও হইতে শুরু করে বলিয়া জানা যায়। প্রেস নোটটিতে বলা হয়-কলিকাতা ও শিল্পাঞ্চলে ন্যায্যমূল্যের দোকান হইতে নির্দিষ্ট দরে চিনি বিক্রয় করা হইবে। তবে যে-কোন মুদির দোকানেও সেই দরে চিনি বিক্রয় করা চলিবে। দর (প্রতি কিলোগ্রাম): মাঝারি দানা-১টাকা ২২ নয়া পয়সা, ও ১টাকা ২৩ নয়া পয়সা। বড় দানা—১টাকা ২৫ নয়া পয়সা ও ১টাকা ২৬ নয়া পয়সা।

— একটু টক হবে বৈকি বাবু,
চিনির দাম তো জানেন।

—নরহত্যা
না চিনি উধাও?
এই ঘোষণার পূর্বে কলিকাতার বাজারে প্রতি কিলোগ্রাম চিনি ১টাকা ৩১ নয়া পয়সা হইতে ১টাকা ৩৭ নয়া পয়সা দরে বিক্রি হইতেছিল। সরকার যেভাবে দর বাঁধিয়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত করিয়াছেন তাহা অপেক্ষা ইহা বেশী। খবরে কাগজে সরকারী ব্যবস্থার কথা জানিয়া এক শ্রেণীর পাইকার প্রথমে চিনি লোপাট করার পন্থাই নাকি বাছিয়া লন। শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে চিনি বাজারে লুকোচুরি খেলা শুরু করিয়া দেয়। শনিবারও এই অবস্থা অব্যাহত থাকে। নগরীর কোন কোন অঞ্চলে মুদির দোকানে চিনি পাওয়া যায় আর কোন কোন এলাকায় পাওয়া যায় না। তবে অনেক দোকানির মুখে এই ভরসার বাণী শোনা যায় যে, সোমবার নাগাদ অবস্থা স্বাভাবিক হইতে পারে। ঐদিন হইতে চিনির মূল্য-নির্ধারক আদেশটি বলবত্ হইবে।

সোমবার ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০,(৬ জ্যৈষ্ঠ ১৮৮৫ শক) MONDAY, MAY 27, 1963

পুত্রবধুর সঙ্গে ৬১তম
জন্মদিনে কবি।—ফাইল চিত্র।
• মহানগরীতে কাজী নজরুলের জন্মদিবস উদ্যাপন: রবিবার কলিকাতার বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৬৪তম জন্মদিবস পালিত হয়। কিন্তু ইন্টালীর ক্রিস্টোফার রোডে কবির বাসভবনে। সিআইটি বিল্ডিংয়ের এই ক্ষুদ্র ফ্লাটটি রবিবার প্রকৃতপক্ষে এক মহান তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই উপলক্ষে সকালে নজরুল জন্মজয়ন্তী কমিটি কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিদ্রোহী কবির প্রতিভাদীপ্ত জীবনের উদ্দেশে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। সকাল বেলায়ই ক্রিস্টোফার রোডস্থ কবিগৃহে দূর ও নিকট হইতে আবাল-বৃদ্ধ অনুরাগীর দল ফুল ও মালা লইয়া শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কবির বাসৃগৃহে হাজির হয়। কবি যথারীতি তাঁহার ক্ষূদ্র প্রকোষ্ঠটিতে দেয়ালে হেলান দিয়া শয্যার উপর বসিয়া আছেন। পরনে একটি নতুন ধুতি ও শার্ট।
আচরণে সেই স্তব্ধ চাঞ্চল্য আর স্থানু-অস্থিরতা। শয্যার পার্শ্বে একটি ছোট টেবিলের উপর পুষ্পমাল্যে সুসজ্জিত কবির পরলোকগতা সহধর্মিণী প্রমীলা দেবীর একখানা প্রতিকৃতি। সকাল সাতটা নাগাদ আমরা যখন সেই কবিতীর্থে পৌঁছিলাম কবি কিন্তু তখন অভ্যাসমত কাগজ ছিঁড়িতেছিলেন না। নাতনি “মিষ্টি” অথবা “খিলখিল” হাতে কাগজ তুলিয়া দিলেও তাহা এপিঠ ওপিঠ উল্টাইয়া দেখিয়া সযত্নে পাশের একটি বালিশের তলায় গুছাইয়া রাখিতেছেন। ভক্তদের শ্রদ্ধায় নিবেদন মালাগুলিও গলা হইতে খুলিয়া সযত্নে রাখিয়া দিতেছেন। কিন্তু মাঝে মাঝে যখনই ঘরের ভিতর ভক্তদের ভিড় জমিয়া উঠিতেছিল তখনই তিনি থাকিয়া অবোধ্য ও অনুচ্চ কন্ঠে যেন বিরক্তি প্রকাশ করিতে থাকেন।

মঙ্গলবার, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ ১৩৭০ TUESDAY 28, 1963
• নাটকীয়: সোমবার রেলস্টেশনে এক ‘দাম্পত্য কলহে’ শেষ পর্যন্ত রেলপুলিশকে নাক গলাইতে হয়। ঐদিন দুপুরে বালিগঞ্জ স্টেশনে ট্রেন হইতে নামিয়াই একজোড়া স্ত্রী ও পুরুষ কলহে মাতিয়া উঠে। পুরুষটির দাবি যুবতি সঙ্গিনী(১৭) তাহার স্ত্রী। মেয়েটি কিন্তু কিছুতেই উহা মানিতে রাজী হয় না, সে পুরুষটিকে ধাক্কা মারিয়া সরাইয়া দিবার চেষ্টা করে—বার বার বলে, “ এ আমার স্বামী নয়।” দুপুরের চড়া-রোদ মাথায় করিয়া চারিপাশে ভীড় জমিয়া যায়। অবশেষে রেলপুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয় এবং উভয়কে গ্রেপ্তার করে। তাহারা পুলিশ হাজতে স্থান পায়।

বুধবার, ১৪ জৈষ্ঠ্য, ১৩৭০ (৮ জৈষ্ঠ্য, ১৮৮৫ শকাব্দ) WEDNESDAY, MAY 29, 1963
— চুপ! পিঁপড়েদের ফলো করছি।
চিনির গুদাম খুঁজে বের করতে হবে।
• চিনির অচিন্তনীয় দুষ্প্রাপ্যতা: মঙ্গলবারও কলিকাতা ও শহরতলীর অনেক জায়গায় চিনি দুষ্প্রাপ্য হয় এবং যেখানে পাওয়ায় যায়, সেখানে দুর্মূল্যও হয়। প্রতি সের চিনির দাম ছিল ১.৪০ নয়া পয়সা হইতে ১.৬০ নয়া পয়সা। জামাই ষষ্ঠীর দিন এইভাবে চিনি দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় অনেককেই নিদারুণ অসুবিধা ভোগ করিতে হয়। ভারতীয় চিনি ব্যবসায়ী সমিতির একজন মুখপাত্র অবশ্য মঙ্গলবার আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিনিধিকে এই আশ্বাস দেন যে, সপ্তাহকাল কি বড়জোড় পক্ষ কালের মধ্যে সব ঠিক হইয়া যাইবে। অর্থাত্ নগরীতে দোকানে দোকানে ন্যায্যমূল্যে(কিলোপ্রতি ১.২৩ নয়া পয়সা) চিনি পাওয়া যাইবে। উক্ত মুখপাত্র বলেন যে, এপ্রিল মাসের বরাদ্দ চিনি নান হাত ঘুরিয়া এবং নান পর্যায়ের সম্মুখীন হইয়া সবেমাত্র গত সপ্তাহে বাজারে আসিতে সুরু হইয়াছে। চিনির সরকারি নিয়ন্ত্রণের ফলে খোলাবাজারে স্বাভাবিক ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবস্থা বানচাল হওয়ায় এই বিলম্ব ঘটিয়াছে বলিয়া তিনি মন্তব্য করেন। উক্ত মুখপাত্র এবং চিনি ব্যবসায়ের সহিত সংশ্লিষ্ট মহলের মতে চিনির মদুত পরিমাণ পর্যাপ্ত রাখিয়া নিয়ন্ত্রণাদেশ জারী করিলে চিনির বাজারে ই অব্যবস্থা সৃষ্টি হইত না। নিয়ন্ত্রণাদেশ জারীর ফলে চিনি ব্যবসায়ীকে কতকগুলি বিধি ব্যবস্থার কাগজপত্র তৈরী প্রভৃতি কার্য সম্পন্ন করিতে হইতেছে। ঐসব কাজ সম্পন্ন না করিয়া চিনি আমদানী সম্ভব নহে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এইসব কিছুরই প্রয়োজন হইত না। সরাসরি চিনি ব্যবসায়ীরা ওয়াগনে চিনি আনাইয়া পাইকারের মারফত্ উহা খুচরা দোকানে চলিয়া যাইত। কিন্তু চিনির উত্পাদন হ্রাসের দরুণ এই বত্সর এই অব্যবস্থা দেখা দিয়াছে।

বুধবার, ১৪ জৈষ্ঠ্য, ১৩৭০ (৮ জৈষ্ঠ্য, ১৮৮৫ শকাব্দ) WEDNESDAY, MAY 29, 1963
• কলিকাতায় এক সপ্তাহে কলেরায় ১১২ জনের মৃত্যু: মহানগরীতে এখনও কলেরা মহামারীরূপে রহিয়াছে। গত ২৮শে মে যে সপ্তাহ শেষ হইয়াছে সেই সপ্তাহে ৩৬৫ জন কলেরা রোগাক্রান্ত হয় এবং ঐ সময়ের মধ্যে এই রোগে ১১২ দন মারা যায়। ইহার আগের সপ্তাহে ৪১৮ জন কলোরা রোগাক্রান্ত হয় এবং ঐ সময়ের মধ্যে ১৪৬ জন মারা যায়। উল্লিখিত সপ্তাহে ১৪ জন বসন্ত রোগাক্রান্ত হয় এবং ১৮ জন মারা যায়।

বৃহস্পতিবার, ১৫ জৈষ্ঠ্য, ১৩৭০ (৯ জৈষ্ঠ্য, ১৮৮৫ শকাব্দ) THURSDAY, MAY 30, 1963
• কলিকাতায় দুর্নীতির আড্ডা: কলিকাতার ছোট বড় রেস্তোরাঁ এবং ঐ ধরনের অন্যান্য দোকানগুলি নানান প্রকার দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক হইয়া দাঁড়াইয়াছে বলিয়া পুলিস সূত্রে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে। কলিকাতায় এই ধরনের প্রায় সাড়ে তিন হাজার দোকান আছে। ইহার মধ্যে অনেকগুলিই নাকি সমাজ-বিরোধী ব্যক্তিদের ঘাটি। ১৯৬২ সালে এই ধরনের দুইশতটি দোকানের বিরুদ্ধে পুলিসী আইন লঙঘনের অভিযোগ আনা যায়। ঐগুলি সম্পর্কে বিশেষ তদন্ত চলিতেছে। এই সব রেস্তোরাঁ, হোটেল, মিষ্টান্নের দোকান, ঠান্ডা পানীয়ের দোকান প্রভৃতির লাইসেন্স রিনিউ করিবার জন্য কলিকাতা পুলিস বর্তমান বত্সর হইতে এক নতুন ব্যবস্থা অবলম্বন করিতেছেন। আগেকার মতো এখন আর এ সম্পর্কে স্থানীয় পুলিসের মতামত জিজ্ঞাসা আবশ্যিক বলিয়া গণ্য হইবে না। এ ব্যবপারে সমস্ত দায়িত্ব এখন হইতে লালবাজারের। ইহাতে দুর্নীতির প্রকোপ অনেকটা সীমাবদ্ধ হইবে বলিয়া মনে করা হইতেছে। এই নতুন ব্যবস্থার নতুন বিবরণ সংবাদপত্র মারফত্ বিজ্ঞাপিত হয়। ঘোষণা অনুযায়ী ৩১শে মে ‘লাইসেন্স’ রিনিউ করিবার শেষ তারিখ। আর মাত্র দুই দিন বাকী আছে। কিন্তু দোকানদারের অনেকেই এখনও লাইসেন্স রিনিউ করিবার ব্যাপারে তত্পর না হওয়ায় পুলসী মহলে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়।

শনিবার, ১৭ জৈষ্ঠ্য, ১৩৭০ (১১ জৈষ্ঠ্য, ১৮৮৫ শকাব্দ) SATURDAY, JUNE 1, 1963
• পচা গরম: পচা গরমে নাগরিকদের প্রাণ অতিষ্ট হইয়া উঠিয়াছে। শুক্রবার সারাদিন গু মট থাকায় গরমে ও ঘামে কলিকাতাবাসীরা ত্রাহি ত্রাহি ডাক ছাড়েন। কিন্তু উপসমের কোন লক্ষণ দেখা যাইতেছে না। শনিবারের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস হইতে জানানো হইয়াছে যে, দিনে গরমের তেজ বাড়িবে। বিকেলের দিকে ঝড়বৃষ্টি হইতে পারে। শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপ ৩৫.৬ ডিগ্রী সেঃ —স্বাভাবিক অপেক্ষা ২ ডিগ্রী বেশি, সর্বনিম্ন তাপ ২১.২ ডিগ্রী সেঃ— স্বাভাবিক অপেক্ষা ৪ ডিগ্রী কম। বায়ুর সর্বোচ্চ ও সর্নিম্ন আর্দ্রতা যথাক্রমে ৯৭% ও ৫০%। বৃষ্টিপাত ২৯.২ মিলিমিটার।

সোমবার, ১৯ জৈষ্ঠ্য, ১৩৭০ (১৩ জৈষ্ঠ্য, ১৮৮৫ শকাব্দ) MONDAY, JUNE 3, 1963
• আর শুধু হাজার ট্যাক্সির পারমিট দেওয়া হইবে: আর মাত্র এক হাজার নতুন ট্যাক্সির পারমিট দেওয়া হইবে। কিন্তু মঙ্গলবার ঐ সংক্রান্ত ফর্ম বিলি শুরু হইবামাত্র বেলতলায় আঞ্চলিক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (আর টি এ) দপ্তরে কয়েক হাজার ব্যক্তির ভীড় জমিয়া যায়। প্রথম দিনেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৫০০১টি ফর্ম বিলি হইয়া যায়। আগামী ২৫শে জুন পর্যন্ত ঐ ফর্ম বিলি হইবে, দরখাস্ত পেশের শেষ দিন ২৬শে জুন। দরখাস্তের ফি ৫ টাকা।
বেকার স্বর্ণশিল্পীদের অগ্রাধিকার- ঐ সংক্রান্ত নিয়মাবলীতে জানান হইয়াছে যে, ট্যাক্সির নতুন পারমিট দিবার ক্ষেত্রে বেকার স্বর্ণশিল্পীদের কথা বিশেষভাবে বিবেচিত হইবে এবং যাহাদের বাড়াগাড়ী খাটাইবার পারমিট রহিয়াছে তাহাদের নতুন ট্যাক্সির পারমিট কোনমতেই দেওয়া হইবে না। কিন্তু পুলিসমহলের সঙ্গে কথাবার্তা বলিয়া এই ধারণা হয় যে, তাঁহারাও ‘বেনামে’ পারমিট বিলির আশঙ্কা করিতেছেন। ঐদিন কলিকাতা ট্রাফিক পুলিসের মুখপাত্র বলেন যে, কলিকাতায় অন্তত ছয় হাজার ট্যাক্সির দরকার। “ট্যাক্সির জন্য জনসাধারণ না সেধে ড্রাইভাররা সওয়ারীকে সাধবে — এমন দিন এলে তবেই সমস্যার সমাধান হবে।” এখন শহরে ট্যাক্সির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।
মঙ্গলবার, ২০ জৈষ্ঠ্য, ১৩৭০ (১৪ জৈষ্ঠ্য, ১৮৮৫ শকাব্দ) TUESDAY, JUNE 4, 1963
• বাজারে চিনির আকাল, কিন্তু সরকারী গুদাম হইতে বিস্তর মাল পাচার: বাজারে চিনির আকাল, এদিকে পোর্ট কমিশনার্সের গুদাম হইতে হাজার হাজার চাকার মাল চোরাই পথে বেমালুম পাচার হইয়া যাইতেছে। এই চুরি বরাবর চলে, ইদামীং বাড়িয়াছে। কাঁটাপুকুর পোর্ট কমিশনার্সের গুদামগুলিতে সোমবার গিয়া দেখি প্রচুর চিনি জমা। এথচ বাজারে চিনি নাই। অভিযোগ পাইয়াছি কিছু পুলিশ, কিছু পোর্ট কর্মচারী ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর যোগসাজসে বেশ কিছু মাল বাজারে না গিয়া এইভাবে সুড়ঙ্গপথে রোজ নিখোঁজ হয়। এবং এই বাবজ পূর্ব রেলপথকে দিতে হয় গাদাগাদা টাকা ক্ষতিপূরণ। এই ক্ষতিপূরণের টাকা বছর বছর বাড়তির দিকে। গত বছর দিতে হইয়াছে ১১ লক্ষ টাকা, তার আগের বছর কিছু কম ৬ লক্ষ টাকা। চিনি কলিকাতায় আসে প্রধানত উত্তরপ্রদেশ হইতে রেলে। রেল রিপোর্ট পাইয়াছেন, গত কয়েকদিন যাবত্ কাঁটাপুকুরে চিনি চুরি অসম্ভব বাড়িয়া গিয়াছে। চোরাবাজারে এত যাইতেছে যে, সুযোগ বুঝিয়া একটা কৃত্রিম অভাব বানাইয়া রাখা হইয়াছে।

বুধবার, ২১ জৈষ্ঠ্য, ১৩৭০ (১৫ জৈষ্ঠ্য, ১৮৮৫ শকাব্দ) WEDNESDAY, JUNE 5, 1963
• কলিকাতা বিশববিদ্যালয়ে দলাদলি নেপথ্য হইতে এবার প্রকাশ্যে: কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দলাদলি এখন নেপথ্য ছাড়িয়া প্রকাশ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বের বিষ ছড়াইতে শুরু করিয়াছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দলাদলি প্রসঙ্গে উপাচার্য়ের একটি খোলাখুলি মন্তব্যের পরিণতি ইহাই দাঁড়াইয়াছে। উপাচার্য বলিয়াছিলেন দলাদলি আছে এবং উহা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির অন্তরায়। তাঁহার এই মন্ত্ব্যে সেনেট ও সিন্ডিকেট মহল তো বটেই, এমনকি বিশেষ কর্মচারীদের মধ্যে বিক্ষোভ সৃষ্টি করিয়াছে। তাঁহাদের অভিযোগ, বর্তমান উপাচাজ্ঞয এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাগত। তিনি কোন দিন ইহার ছাত্রও ছিলেন না। তাঁহার এই মন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অবমাননাকর। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত পঁচিশে মে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্বারভাঙ্গা হলে এক অনুষ্ঠানে উপাচার্য শ্রীবিধুভূষণ মল্লিক এইরূপ মন্তব্য করেন। তিনি মনে করেন, —বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যগণ একযোগে কাদ করিলে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে তাঁহারা পূর্ব গৌরবে অধিষ্ঠিত করিতে পারিবেন। এসম্পর্কে উপাচাজ্ঞযকে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিতের কথা চিন্তা করিয়া তিনি এইরূপ বলিয়াছেন। কাহাকেও আঘাত দিবার কিংবা বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে তিনি উহা বলেন নাই। উপাচার্যের সদিচ্ছা থাকিতে পারে, কিন্তু সেই সদিচ্ছা দ্বারভাঙ্গা ভবনের আনাচে কানাচে সর্বত্র মেঘের ঘনঘটার রঙ ধরাইতেছে। একথা সেকথার পরই ফিসফিসানি পিরসঙ্গে উপাচার্য়ের ঐ মন্তব্য।

বৃহস্পতিবার, ২২ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০ (১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৮৮৫ শক) THURSDAY, JUNE 6, 1963
• লবণহ্রদ পরিকল্পনা স্বয়ংশাষিত সংস্থার হস্তে সমর্পণের প্রস্তাব: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিচালনাধীনে কলিকাতার উত্তর-পূর্ব উপকন্ঠে যে লবণ হ্রদ উদ্ধার পরিকল্পনার কাজ চলিতেছে, তাহার ভার শেষ পর্যন্ত এক স্বয়ংশাষিত কোম্বানী বা কর্পোরেশনের হাতে তুলিয়া দিবার বিষয়ে আলোচনা শুরু হইয়াছে। বুধাবার রাইটার্স বিল্ডিংয়ে একাধিক বৈঠকে ঐ প্রসঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা হয় বলিয়া জানা যায়। লবণ হ্রদ ও সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাগুলি আপাতত রাজ্য সরকারের সেচদপ্তরের অধীন। ঐদিন জনৈক সরকারী মুখপাত্র বলেন যে, সমগ্র লবণ হ্রদ পরিকল্পনার সুষ্ঠু রূপায়ণ ও পরিচালনের উদ্দেশ্যে ‘দুর্গাপুর ইন্ডাস্ট্রিজ’ ইত্যাদির ন্যায় একটি স্বয়ংশাষিত সংস্থা গঠনের প্রস্তাব হইয়াছে। সরকারী এই নূতন প্রস্তাবের সংবাদে কিন্তু তথ্যাভিজ্ঞ মহলে কিছু আশঙ্কার সৃষ্টি হইয়াছে। তাঁহাদের কেহ কেহ বলেন যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের আমলে যখন এই পরিকল্পনার সূত্রপাত হয় তখন ডাঃ রায় জানাইয়াছিলেন যে, প্রধানতঃ দুইটি উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করিতেছেন। এক, লবণ হ্রদ ভরাট করিলে কলিকাতায় মশার উপদ্রব কমিবে এবং কলিকাতাবাসীর ভরাট করা জমিতে অপেক্ষাকৃত অল্প মূল্যে মধ্যবিত্তদের বসবাসের ব্যবস্থা করিতে পারিবেন।

শুক্রবার, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০ FRIDAY, JUNE 7, 1963
• বৃক্ষ-সংহার, বৃক্ষরোপণ: কলিকাতা ময়দানে সুবৃহত্ গাছগুলি একের পর এক কুঠারাঘাতে ভূমিসাত্ হইতেছে। ময়দানের শ্যামল প্রান্তরের উপর যে বৃক্ষরাজি সুশীতল ছায়া বিস্তার করিতেছিল, বৃক্ষনিধনের পর এই পালা চলিতে থাকিলে সেই মনোরম শোভা অচিরে লুপ্ত হইবে। রাজ্যের পূর্ত দপ্তর অবশ্য ময়দানকে শ্রীমণ্ডিত করার জন্য রাস্তার দুই ধারে নূতন নূতন গাছ লাগাইতেছেন। যত্নে-আদরে সেগুলি বাড়িয়াও উঠিতেছে। কিন্তু পল্লবঘন হইয়া ছায়া ছড়াইতে উহাদের অনেক দেরী।  ময়দান এলাকায় ২৮টি বড় বড় গাছ কাটিয়া ফেলার জন্য রাজ্য সরকারের পূর্ত বিভাগ সিদ্ধান্ত করিয়াছেন। তদন্তের ফলে ঐ গাছগুলির জীবন-আয়ু প্রায় নিঃশেষিত বলিয়া প্রমাণিত হয়। রাস্তার পাশ্ববর্তী ঐ সব গাছ নাকি পথচারী ও যানবাহনের পক্ষে বিপজ্জনকও। বত্সর দুয়েক পূর্বে একটি বড় গাছ অকস্মাত্ ভাঙ্গিয়া পড়ে এবং একজন পথচারী নিহত হয়। এই ঘটনার পর সরকার ময়দানের গাছগুলি পরীক্ষা করিয়া দেখার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি নিযুক্ত করেন। শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের তদানীন্তন সুপারিন্টেন্ডেন্ট, বনবিভাগের বিশেষজ্ঞ এবং আরও কয়েকজন উদ্ভিদবিজ্ঞানী ঐ কমিটিতে ছিলেন। তাঁহারা পরীক্ষা করিয়া দেখেন যে, ময়দানের ২৮।২৯টি গাছের আয়ু প্রায় নিঃশেষিত। বাহিরের রূপ দেখিয়া ঐগুলি বুঝা না গেলেও ভিতরটা প্রায় ফাঁপা হইয়া গিয়াছে। ঐগুলি খুব বিপজ্জনক বলিয়া ক্রমে ক্রমে ঐগুলিকে কাটিয়া ফেলার সুপারিশ করা হয়।

শুক্রবার, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০ FRIDAY, JUNE 7, 1963
• পড়ুয়া চাকুরে মহিলা: ‘পড়ার সঙ্গে রোজগারের’ পরিকল্পনা সবচেয়ে বেশী সার্থক হরিণঘাটার দুধ বিলির কেন্দ্রগুলিতে। পরিকল্পনাটি পরলোকগত মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের। ১৯৫০ সালে কলিকাতায় যখন এই কেন্দ্রে বসানোর কথা ঠিক হয়, তিনি বলেন, দুধ বিলির কাজে লাগানো হইবে পড়ুয়া মেয়েদের, তাঁহারা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল কলেজের খরচ নিজেরাই উপার্জন করিবে। এইসব ছাত্রীদের অর্ধেক হওয়া চাই উদ্বাস্তু। আজ প্রায় এক হাজার এইরকম পড়ুয়া-চাকুরে কাজ করেন কলিকাতার প্রায় চারশত দুধ বিলির কেন্দ্রে। ডিপো এসিস্টেন্টরা পান মাসে ৪০ টাকা, সেলস এসিস্টেন্টরা ২০ টাকা। কাজের সময় কম— সকালে দুইঘণ্টা কিংবা বিকালে দুই ঘণ্টা। ক্লাশের পড়ার কোন ক্ষতি হবার রাস্তা নেই। চাকরি পাইতে হইলে প্রমাণ করা দরকার প্রার্থী নিজে ছাত্রী। হপ্তা-ছুটি অবশ্য নাই, তবে বার্ষিক বা অন্য পরীক্ষার সময় সবেতন ছুটি পাওয়া যায়। গত বার বছরে অনেক মেয়ে এইভাবে স্বয়ম্ভর হইয়া জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হইয়াছেন। পড়া শেষ হওয়ামাত্র এই চাকুরিতে ইস্তফা দিয়া কেউ সংসার পাতিয়াছেন, কেউ ভাল মাহিনায় অন্য চাকুরিতেও ঢুকিয়াছেন। হিসাব লইয়া জানা গিয়াছে, শতকরা ২৫ ভাগ দুই বছর চাকুরীর পর ইস্তফা দেন এবং বাকি ৭৫ ভাগ দেন এক বছর পর।

শুক্রবার, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০ FRIDAY, JUNE 7, 1963
—ঘুষ চাইনে কেবল একটা গামছা চাই।
দশ বছরের ধুলো ঝেড়ে আপনার
ফাইল দেখতে হবে যে.....
• তত্পরতা: আঠার বছরের অক্লান্ত চেষ্টার পর কর্পোরেশনের পরলোকগত কর্মী গোপাল জানার স্ত্রী হয়ত এইবার তাঁহার মৃত স্বামীর প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের প্রাপ্য টাকা পাইবেন। কর্পোরেশনের এক নম্বর ডিস্ট্রিক্টের কর্মী গোপাল জানা ১৯৪৫ সনে মারা যান। তাঁহার স্ত্রী বহুবার মৃত স্বামীর প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের টাকার জন্য আবেদন করিয়াছেন। হেলথ অফিসারের স্বকীয় সহায়ক (পি-এ) প্রতিবারই জানাইয়াছেন যে, গোপাল জানার কোন ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ তাঁহার নিকট নাই। অথচ প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের টাকা পাওয়ার ব্যাপারে ঐ সার্টিফিকেট একান্ত প্রয়োজন। আঠার বছর কাটিয়া গিয়াছে, কিন্তু গোপাল জানার ডেথ সার্টিফিকেটটি পাওয়া যায় নাই। তাঁহার স্ত্রীও বৃথাই পৌরভবনের দুয়ারে দুয়ারে ধর্না গিয়েছেন। ঘটনাটি সম্প্রতি কমিশনার শ্রীসুনীলবরণ রায়ের গোচরে আসে। ১৯৪৫ সনে গোপাল জানা যে সভ্য সত্যই মারা গিয়াছিলেন নথিরক্ষকের নিকট অনুসন্ধান করিয়া কমিশনার শ্রীরায় তাহা জানিতে পারিয়াছেন। হেলথ অফিসারের স্বকীয় সহায়কের এই ‘তত্পরতার’ জন্য তাঁহার একটি কৈফিয়ত্ তলব করা হইয়াছে। তাঁহার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হইবে না, তাহাও জিজ্ঞাসা করা হইয়াছে।

শনিবার, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০ SATURDAY, JUNE 8, 1963
• এত দিনে কালীঘাট-চেতলা পাকা সেতুর প্রস্তাব: কালীঘাট ও চেতলার মধ্যে সংযোগ সাধনের জন্য কেওড়াতলা শ্মশানের পাশে আদিগঙ্গার উপর একটি পাকা সেতু নির্মাণের সেই এক যুগের পরিকল্পনাটি কার্যকর করিতে এবার কলিকাতা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট সত্যসত্যই উদ্যোগী হইয়াছেন। ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ আশা করেন বর্তমান বত্সরের শেষদিকে এই সেতু নির্মাণের কাজে তাঁহারা হাত দিতে পারিবেন। চেতলা, নিউ আলিপুর প্রভৃতি এলাকা ক্রমশ জনসমৃদ্ধ হইয়া ওঠার বহুদিন হইতেই এই স্থানে পাকা সেতুর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হইতেছে। সি-আই-টি কর্তৃপক্ষ দশ-বার বত্সর আগে এক পরিকল্পনারও গ্রহণ করে। কিন্তু এতদিন কলিকাতা কর্পোরেশনের টালাবাহানা, রাজ্য সরকার ও ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং কালীঘাটের দিকে সি-আই-টি’রই ভাড়াটিয়া বাস্তুহারা হকার্স কর্নারের শতাধিক উদ্বাস্তু দোকানদারের পুনর্বাসন সমস্যা এই পরিকল্পনার রূপায়ণে অন্তরায় সৃষ্টি করিয়াছিল।
চেতলা-কালীঘাট অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের নিত্য যাতায়াতের পথ এই কাঠের পুল।
জানা গেল, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঐ দোকানদারদের জন্য খুব কাছেই চেতলা সেন্ট্রাল রোডের উপর পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দখল করিয়াছেন। এখানে বর্তমানে যে কাঠের সাঁকোটি আছে তাহাতে কোন যানবাহন চলাচল করিতে পারে না, কেবলমাত্র পারে হাটিয়াই পারাপার করা যায়। পাকা সেতু নির্মাণ হইলে রাসবিহারী অ্যাভিনিউ ও চেতলা সেন্ট্রাল রোডের সহিত সকলপ্রকার যানবাহনের ক্ষেত্রে এক সরাসরি সংযোগ সাধিত হইবে। এই সেতু নির্মাণের কথা শুনিয়া ঐ অঞ্চলের জনৈক বিশিষ্ট বৃদ্ধ ভদ্রলোক আমাকে বলিলেন—‘‘না আঁচালে বিশ্বাস নাই। আজ নয়, গত তিরিশ বত্সর ধরিয়াই শুনিয়া আসিতেছি কেওড়াতলা শ্মশানের পাশে দেশবন্ধু স্মৃতিসৌধের কোল ঘেঁষিয়া একটি পাকা পুল হইবে। কিন্তু ঐ— ঐ পর্যন্তই।’’

শনিবার, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০ SATURDAY, JUNE 8, 1963
• আরও একটি বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র: কলিকাতা ও শিল্পাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুত্শক্তির চাহিদা মিটাইবার উদ্দেশ্য কেন্দ্রীয় সরকার কলিকাতা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশনকে আরও একটি নূতন ৫০-মেগাওয়াট উত্পাদন কেন্দ্র স্থাপন করিতে দিতে রাজি হইয়াছেন। আপাতত কাশীপুরে একটি ৫০-মেগাওয়াট কেন্দ্র নির্মিত হইতেছে। শুক্রবার কলিকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শ্রীপ্রফুল্লচন্দ্র সেন সাংবাদিকদের নিকট এই খবরটি জানান। তিনি বলেন, ইহা ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার দুর্গাপুরে আরও ১৫০ মেগাওয়াট শক্তি উত্পাদন কেন্দ্রের ব্যাপারে চূড়ান্ত সম্মতি দিয়াছেন। এই ২০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুত্শক্তি পাওয়া গেলে চাহিদার অনেকটা মিটিবে। গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শ্রীসেন কেন্দ্রীয় সেচ ও বিদ্যুত্ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী ও ভি আলগোসান ও সচিব শ্রী এম আর সচদেবের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুত্শক্তি সমস্যা লইয়া দীর্ঘ আলোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের নিকট এই আশা প্রকাশ করেন যে, তৃতীয় যোজনা কালেই উপরোক্ত দুইটি নূতন পরিকল্পনা রূপায়ণে হাত দেওয়া যাইবে। ব্যান্ডেলে অতিরিক্ত ৭৫-মেগাওয়াট উত্পাদনে এক পরিকল্পনা আছে।

শনিবার, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০ SATURDAY, JUNE 8, 1963
• শ্রীহীন তিলজলা: তিলজলা ও বন্ডেল গেটের রেলওয়ে ক্রসিং হইতে তপসিয়া ও কসবার মাঝামাঝি অংশ জুড়িয়া পূর্ব ও দক্ষিণে এ এক বিরাট এলাকা। দশ বত্সর পূর্বে এ অঞ্চল কলিকাতা কর্পোরেশনের আওতায় আসে। কিন্তু যে-কে-সেই। কর্পোরশনে আসিয়াও তিলজলা ন্যূনতম পৌর সুযোগ-সুবিধা হইতে আজও বঞ্চিত। তাই তিলজলার বা আছে ছন্দ, না শ্রী। পাঁকে ভরা খোলা খানা-ডোবা-নর্দমা, পচা জলে মশা-মাছির ভন-ভনানি, ইতস্তত নোংরা খাটাল, ধোপার ভাটিখানা ইত্যাদি লইয়া তিলজলার অন্তত কুড়ি হাজার মানুষের জীবনযাত্রা পদে পদে বিড়ম্বিত। জলা জায়গা, তিলজলার জলের সমস্যাই বড় সমস্যা। পরিশ্রুত পানীয় জলের অভাবে এখানে কচুরিপানা-ভরা পুকুরের জল ব্যবহার করিয়াই নিরুপায় অনেক মানুষকে যমদুয়ারে এক পা বাড়াইয়া রাখিতে হয়। টিউবওয়েল যে কয়টি আছে প্রয়োজনের তুলনায় তা কিছুই নয়। সম্প্রতি পৌরসভা এখানে একটি ডিপ্ টিউবওয়েল বসাইয়াছে সত্য কিন্তু উহাকে পুরাপুরি কাজে লাগান হয় নাই। জলের হাহাকার তীব্র থাকিয়াই যাইতেছে। এ চত্বরে স্যানিটারি পায়খানা কদাচিত্ চোখে পড়ে। অধিকাংশ বাড়িতেই খাটা পায়খানা। কর্পোরেশনের ধাঙড় আসে ন’মাসে ছ’মাসে।

শনিবার, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০ (১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৮৮৫ শক) SATURDAY, JUNE 8, 1963

বর্ষাকালে এই ফুটপাথেই তো খেয়াঘাট
হবে। আগে থেকে জোগাড় রাখছি।

লাইফবেল্ট সঙ্গে নিয়েই বের হয়েছি বাড়ি
ফেরার সময় পথে কতটা জল জমবে বলা যায় না।

—কিগো রান্না হল?
• তাপদগ্ধ নগরীতে বর্ষার আমেজ: নকল কিংবা আসল— তাহা লইয়া ভাবনা ছিল না। শুক্রবার ভোর হইতে আকাশের মুখের রঙ দেখিয়া কলিকাতার মনে অন্য রঙ ধরিয়াছিল— অনেকটা আষাঢ়স্য প্রথম দিবসের মতন। হেতুও ছিল। এক ধাক্কায় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড নামিয়া গিয়াছে। আলিপুরের আবহাওয়া অফিস জানান, এইদিন তাপ উঠে সর্বাধিক ২৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। অর্থাত্ ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণও কম নয়— প্রায় ১৪ মিলিমিটার। আলিপুরের উপরন্তু ভবিষ্যতবাণী, আজও শনিবারও একই হাল চলিতে পারে। শুরু অবশ্য হইয়াছে আগের দিন হইতেই। শেষ রাত্রির ঝড়ো হাওয়া মাঝে মাঝে ত্রিপুরা-চট্টগ্রামের কথা মনে করাইয়া দিতেছিল। তবে কলিকাতার আসল মন ছিল কালো মেঘের পিছু পিছু আকাশে। শুধু কালো মেঘ নয়, দমকা হাওয়া আর টিপটিপ বৃষ্টি মিলিয়া সারদিনই ছিল বাদলা দিনের ছোঁয়া। ফলে তাপিত নগরের মনে যুগপত্ ঠাণ্ডা গরম নানারকম ভাবনা। একদিকে ছাতা ও অফিস যাওয়া, আগের দিন বিকালে জমা করিয়া রাখা ভিজা কাপড় শুকাইবার দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে খিচুড়ি-ইলিশ মাছ ভাজা এবং ছাদে গা মেলিয়া ঘামাচি নিধনের খেলা।

রবিবার, ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০ SUNDAY, JUNE 9, 1963
• নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জনসভা ও বিক্ষোভ: নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ‘‘দাম কমাও দিবস’’ উপলক্ষে শনিবার কলিকাতা ময়দানে জনসভা এবং পরে রাজপথে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। চারিটি অ-কমিউনিস্ট বামপন্থী রাজনৈতিক দল এই বিক্ষোভের আয়োজন করে, —ফরওয়ার্ড ব্লক, আর এস পি, আর সি পি আই এবং বলশেভিক পার্টি। ময়দানে জনসভার পর চারিটি দলের পতাকা ও ফেস্টুন সহ একটি দীর্ঘ মিছিল বাহির হয়। মিছিলকারীরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে নানা ধ্বনি দিতে দিতে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি রোড, ওয়েলেসলী স্ট্রীট ও ধর্মতলা স্ট্রীট হইয়া এসপ্ল্যানেড্ ইস্টে পৌঁছিলে পুলিশ তাহাদের গতিরোধ করে। মিছিলটি রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাইতেছিল।
চারটি বামপন্থী দলের উদ্যোগে ‘‘দাম কমাও দিবস’’ উপলক্ষে শনিবার কলিকাতার দীর্ঘ মিছিল বাহির হয়।
এসপ্ল্যানেড্ ইস্টে পুলিশ গতিরোধ করার পর উহার একাংশ দেখা যাইতেছে। —আনন্দ-চিত্র
ময়দানের জনসভায় ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা শ্রীহেমন্তকুমার বসু এম-এল-এ সভাপতির আসন গ্রহণ করেন। চাউলের মূল্যবৃদ্ধি, ট্যাক্সের বোঝা এবং চিনির কালোবাজারী ইত্যাদির প্রতিবাদে সর্বশ্রী নিখিল দাস এম-এল-এ (আর এস পি), নেপাল ভট্টাচার্য (বলশেভিক পার্টি) এবং বিমলানন্দ মুখার্জি (আর সি পি আই) বক্তৃতা করেন। তাঁহারা দেশের সর্বক্ষেত্রে মুনাফাশিকারীদের প্রসারিত হাত স্তব্ধ করিয়া দিবার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানান।

রবিবার, ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০ MONDAY, JUNE 9, 1963
• টালিগঞ্জ, যাদবপুর এবং ঢাকুরিয়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা: টালিগঞ্জ-যাদবপুর-ঢাকুরিয়ার উন্নয়নের জন্য কলিকাতার ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট এক ব্যাপক পরিকলপনা অনুযায়ী কাজ শুরু করিয়াছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা চওড়া করার সঙ্গে সঙ্গে ফ্ল্যাটবাড়ি তৈরী ও পার্ক নির্মাণ প্রভৃতিও এই উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্গত। যাদবপুর-হালতু যোগাযোগের জন্য যাদবপুর রেল লেভেল ক্রসিংয়ে যাহাতে ভবিয্যতে ওভারব্রিজ করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখিয়া এই স্টেশনে রোডকে ৬০ ফুট চওড়া করা হইবে। অন্যান্য পরিকল্পনার মধ্যে আছে টালিগঞ্জ রেলব্রিজ হইতে টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো পর্যন্ত দেশপ্রাণ শাসমল রোডকে ১২০ ফুট, টালিগঞ্জ, ঢাকুরিয়া ও যাদবপুরের সংযোগকারী একমাত্র রাস্তা প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডকে ৮৪ ফুট, সুবোধ মল্লিক রোডের ঢাকুরিয়ায় নির্মীয়মাণ রেলব্রিজের সম্মুখ হইতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ৮০ ফুট, ঢাকুরিয়া স্টেশন রোডকে ৪০ ফুট, এবং যাদবপুর সেন্ট্রাল রোডের রাজা সুবোধ মল্লিক রোডের মুখ হইতে গলফ ক্লাব পর্যন্ত ৬০ ফুট চওড়া করা হইবে। ইহা ছাড়া সি-আই-টি টালিগঞ্জের বেগম আরা রোডে একটি পার্ক নির্মাণ এবং আনোয়ার শাহ রোডের পাশে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কয়েকটি ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাণের কাজেও হাত দিয়াছেন। ঐ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কলিকাতা কর্পোরেশনের ১০ লক্ষ টাকার প্রকল্প পরিকল্পিত পথেই অগ্রসর হইতেছে। ভূগর্ভস্থ পয়ঃপ্রণালী নির্মাণের জন্য সি-এম-পি ও এর পক্ষ হইতে ব্যাপক সমীক্ষা চালান হইতেছে।
জামাই-আদর

পঞ্চাশ বছরের আসা-যাওয়া

পোষাক বদলের সময় নেই

আদূরে শ্যালকদের আদর আপ্যায়ন

মঙ্গলবার, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০ (২১ জ্যৈষ্ঠ, ১৮৮৫ শক) TUESDAY, JUNE 11, 1963
• ভূগর্ভস্থ জলস্তর নামিয়া যাওয়ায় কলিকাতাসহ বাংলার ভবিষ্যত্ কী,—মরুরূপ? কলিকাতা ও শহরতলীর বিস্তীর্ণ এলাকা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ঘনবসতি-শহর এবং গ্রামাঞ্চলে বেপরোয়াভাবে নলকূপ খননের ফলে অদূর ভবিষ্যতে জমির উর্বরতা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তো আছেই, লক্ষ লক্ষ অধিবাসীর পানীয় জলের চরম সঙ্কটের সম্ভাবনা রহিয়াছে। এখন হইতে নলকূপ হইতে খনন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ এবং নদীনালা হইতে পানীয় জল সরবরাহের উন্নততর ব্যবস্থা না হইলে এককালের শস্যসমৃদ্ধ ও ছায়ানিবিড় পল্লীগ্রাম ও শহরাঞ্চল মরুভূমির রূপ ধারণ করিবে। কোন কোন স্থানে গত কয়েক বত্সরের মদ্যে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ৪০ হইতে ৫০ ফুট নীচে নামিয়া গিয়াছে। ভারতবর্ষ, বিশেষ করিয়া পশ্চিমবঙ্গের নলকূপ ও পানীয় জল সরবরাহ সম্পর্কে জনৈক বিশেষজ্ঞ এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। জনসংখ্যার অস্বাভাবিক চাপের সঙ্গে সঙ্গে নলকূপের চাহিদাও অতিমাত্রায় বাড়িয়াছে এবং পশ্চিমবঙ্গের যেখানেই কোন নূতন বসতি গড়িয়া উঠিয়াছে, সেসব অঞ্চলেই গৃহস্থ ভবনে এবং অন্যত্র নলকূপ বসান হইতেছে। একসঙ্গে নলকূপগুলিতে জলের চাপ বাড়িবার ফলে ইতিমধ্যেই বহু স্থান হইতে জলাভাবের সংবাদ সরকারী দপ্তরে আসিয়া পৌঁছিতেছে। শুধু গৃহস্থ ভবনে নহে, খেত-খামার এবং শিল্প-কারখানার জন্যও নিত্য নূতন নলকূপ খনন করা হইতেছে। শিল্প-কারখানাগুলিতে যেসব নলকূপ বসান হয়, সেগুলি সাধারণত বিদ্যুত্চালিত। এইজন্য ঐসব নলকূপ বেশী পরিমাণ জল টানে।

বৃহস্পতিবার, ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭০ (২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৮৮৫ শক) THURSDAY, JUNE 13, 1963
• সওদাগরি দপ্তরে তল্লাশী শেষ: কাস্টমসের শ্যেনদৃষ্টিতে পতিত কলিকাতার সেই সুপরিচিত সওদাগরি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করিতেছি— বার্ড অ্যান্ড কোম্পানী। কোম্পানীটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিদেশী মুদ্রা ফাঁকি। ফাঁকির পন্থা নাকি সনাতন-আন্ডার ইনভয়েসিং। অর্থাত্ রপ্তানি দ্রব্যের দর কম করা। ফাঁকির অভিযোগ কত টাকার? খাতাপত্র পুরা পরীক্ষা না করা পর্যন্ত পরিমাণ জানা সম্ভব নয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, টাকা বোধ হয় সাত অঙ্কের কম হইবে না। পূর্বদিনের জের টানিয়া বুধবারও সারাদিন কোম্পানীটির সদর দপ্তরে তল্লাশি চলে। ইতিমধ্যে কাস্টমসের করিতকর্মা অফিসাররা গলদঘর্ম, গাদা গাদা আটক দলিলপত্রে স্ট্র্যান্ড রোডে কাস্টমসের একটি ঘর পর্বতপ্রমাণ, সংশ্লিষ্ট কোম্পানীটির ঊর্দ্ধতন মহলে আলোড়ন এবং কলিকাতা, নয়াদিল্লি, বোম্বাই, মাদ্রাজ, সারা ভারতে প্রবল ঔত্সুক্য। বুধবারের প্রভাতী ‘আনন্দবাজারে’ এই তল্লাশীর খবর প্রকাশ হওয়ামাত্র শিল্প ও ব্যবসায়ী মহলে সাড়া পড়িয়া যায়। সাধারণ লোকের মধ্যেও আগ্রহ দেখা দেয়। আমাদের অফিসে ঘন ঘন টোলিফোন আসিতে থাকে, ‘ইংরেজ আমল হইতে ব্যবসা জগতে সুপরিচিত এবং প্রধানত ইংরেজ পরিচালিত’ এই কোম্পানীটির নাম কী?

রবিবার, ১ আষাঢ়, ১৩৭০ (২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৮৮৫ শক) SUNDAY, JUNE 16, 1963
• শ্রী অশোক কুমার সরকার আই ই এন এস-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত: কলিকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক শ্রী অশোক কুমার সরকার ইন্ডিয়ান এন্ড ইর্ষ্টান নিউজ পেপার সোসাইটীর ১৯৬৩-৬৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হইয়াছেন।
নিন্মলিখিত ব্যক্তিবর্গ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং কার্যনির্বাহক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হইয়াছেন :-
ডেপুটি প্রেসিডেন্ট- শ্রী জি এন শাহী (হিন্দুস্থান টাইমস), অবৈতনিক কোষাধ্যক্ষ- শ্রী জে এম ডিসুজা (ইলাস্ট্রেটেড উইকলী অব ইন্ডিয়া)।
কার্যনির্বাহক কমিটি – শ্রীতু্ষারকান্তি ঘোষ (অমৃতবাজার পত্রিকা), শ্রী এম এন কামা (বোম্বাই সমাচার), শ্রী অমরনাথ গোয়েঙ্কা (ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস), শ্রী জি নরসিংহন (হিন্দু), শ্রী উপেন্দ্র আচার্য (ইন্ডিয়ান নেশন), শ্রী ডি.এম. হ্যারিস (স্টেটসম্যান), ডঃ এন. বি. পারুলেকার (সকল), শ্রী এ.বি. নায়ার (ফ্রি প্রেস জার্নাল), শ্রী আর. আর. দিবাকর (সংযুক্ত কর্ণাটক), শ্রী ইউসুফ ডেলাভী (শমা), শ্রী বি. ডাব্লিউ জে ক্রমল্যান্ড (সানডে স্টেটসম্যান), শ্রী এম এন গাঙ্গুলী (যুগান্তর), শ্রী ভগবানদাস গোয়েঙ্কা (দিনমনি), শ্রী পি সি গুপ্ত (দৈনিক জাগরণ), শ্রী এস কে গুপ্ত (আজ), শ্রী কালীকান্ত ঝা (আর্যাবর্ত), শ্রী এম এন কিরলোস্কার (কিরলোস্কার), শ্রী কে এম ম্যাথিউ (মালয়াল মনোরমা সাপ্তাহিক), শ্রী সি এম নরসিংহম (স্ব-দেশ-মিত্রন), শ্রী সি এ নারায়ণ (সানডে স্ট্যান্ডার্ড), শ্রী কে নরেন্দ্র (দৈনিক-প্রতাপ), শ্রী কে এ নেত্তকালাপ্পা (ডেকান হেরান্ড), শ্রী কে আর পট্টভিরাম (ডেকান ক্রনিক্যাল), শ্রী এম ডি রাঘবন (মেল), শ্রী সি জে কে রেড্ডি (স্পোর্ট এন্ড প্যাস্টাইম), শ্রী পি কে রায় (টাইমস অব ইন্ডিয়া), শ্রী কে সি সর্দা (সার্চলাইট), শ্রী কানাইলাল সরকার (হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড), শ্রী আর আর শর্মা (ট্রিবিউন), শ্রী বি পি ঠাকুর (লীভার) সেক্রেট্রারী – শ্রী আর ডি শেঠ।

মঙ্গলবার, ৩ আষাঢ়, ১৩৭০ TUESDAY, JUNE 18, 1963
• একশত মণ খয়রাতি গুড়া দুধ সওয়া চার বত্সর গুদামে পচিবার পর অন্ত্যেষ্টি: চার বত্সরের অধিককাল কলিকাতা শুল্ক বিভাগের গুদামজাত হইয়া থাকিবার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হইতে প্ররিত একশত মণ খয়রাতি গুড়া দুধের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অবশেষে গত শুক্রবার সম্পন্ন হইয়াছে। অভিযোগ প্রকাশ, কোন একটি নামকরা জাহাজ কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট মাল পরিবাহক সংস্থার মধ্যে মতদ্বৈধতার ফলে এই কেলেঙ্কারি ঘটিয়াছে। প্রকাশ কলিকাতার অনাথ বালক-বালিকাদের পুষ্টিসাধনের জন্য এই গুড়া দুধ আমেরিকার জনগণের (পিপল অব ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা) নিকট হইতে উপহার হিসেবে পাওয়া গিয়াছিল। গত ১৯৫৯ সনের ২৬শে ফেব্রুয়ারী আমেরিকা হইতে ঐ গুড়া দুধ কলিকাতায় আসিয়া পৌঁছায়। যে প্রতিষ্ঠান ঐ মাল খালাস করিবে তাহার সাহিত কেন একটি জাহাজ কোম্পানীর মতদ্বৈধতা সৃষ্টি হয়। ফলে চার বত্সরের মধ্যেও ঐ মাল খালাস হয় নাই। ইতিমধ্যে শুল্কবিভাগীয় কতৃপক্ষ পরীক্ষা করিয়া দেখেন নির্দিষ্ট গুড়া দুধের সমস্তটাই সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হইয়া গিয়াছে এবং উহা মনুষ্য ব্যবহারের অনুপোযোগী। যাহাতে এই দুধ আবার বাজারে আত্মপ্রকাশ না করে সেই কারনেই উহা পুরাইয়া ফেলা হয়।

মঙ্গলবার, ৩ আষাঢ়, ১৩৭০ TUESDAY, JUNE 18, 1963
• ছাত্রদের উচ্ছৃঙ্খলতায় পরীক্ষা ভন্ডুল আশুতোষ ভবনে দক্ষযক্ষ: এক শ্রেনীর পরীক্ষার্থীর উচ্ছৃঙ্খলতার ফলে সেমবার অপরাহ্নে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ ভবনে ছয় শতাধিক ছাত্রের পরীক্ষা ভন্ডুল হইয়া যায়। তিন বত্সরের ডিগ্রি কোর্সের বি-এস-সি পার্ট ওয়ানের পদার্থ বিজ্ঞানের দ্বিতীয়পত্রে পরীক্ষা গৃহীত হইতেছিল। বেলা দুইটা নাগাদ প্রশ্নপত্র বিতরণের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে উক্ত ভবনের আশুতোষ হলে গন্ডগোলের সুত্রপাত হয়। প্রশ্ন কঠিন হইয়াছে এই অভিযোগে কিছু ছাত্র চেয়ার-টেবিল ভাঙিতে শুরু করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই গোলমাল তিন তলার অন্যান্য ঘরেও ছড়াইয়া পড়ে। হুল্লোড় করিয়াছে সামান্য কয়েকজন, আর অধিকাংশ ছাত্র পরীক্ষা দিতে চাহিয়াছে। পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতৃপক্ষ করিতে পারেন নাই। এই ঘটনার সম্পর্কে আলোচনার জন্য আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরী বৈঠকে আহ্বান করা হইয়াছে।

বৃহস্পতিবার, ৫ আষাঢ়, ১৩৭০ THURSDAY, JUNE 20, 1963
• ‘ভারতবর্ষে’র সুবর্ণজয়ন্তী মহাজাতি সদনে অনুষ্ঠান: বুধবার মহাজাতি সদনে এক উত্সব মুখর পরিবেশে ‘ভারতবর্ষ’ মাসিক পত্রিকার সুবর্ণ জয়ন্তী পূর্তি উত্সব অনুষ্ঠিত হয়। সঙ্গীত, আবৃত্তি, হাস্যকৌতুক, নৃত্যানুষ্ঠান, বিশিষ্ট নেতা ও সাহিত্যিক গণের সমাবেশে অনুষ্ঠানটি স্মরনীয় হইয়া উঠিয়াছিল। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ‘আনন্দবাজার’ ও ‘দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক শ্রীঅশোক কুমার সরকার। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীপ্রফুল্লচন্দ্র সেন সভাপতির আসন গ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি শ্রীঅতুল্য ঘোষ প্রধান অতিথি ছিলেন।
মহাজাতি সদনে ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকার সুবর্ণ জয়ন্তী উত্সব অনুষ্ঠানে
মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল কুমার সেন ও অশোক কুমার সরকার।— আনন্দ চিত্র
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করিয়া শ্রীঅশোক কুমার সরকার বলেন, ‘বঙ্গদর্শণ, সাধনা, মানসী ও মর্মবাণী, বিচিত্রা’ কত পত্রিকার জন্ম হইয়াছে, কিন্তু কোনটাই টেকে নাই। গত পঞ্চাশ বত্সরের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত যে কটি মুষ্টিমেয় পত্রিকা আজও টিকিয়া আছে, তাহার মধ্যে ‘ভারতবর্ষ’ অন্যতম। শ্রীসেন বলেন, কৃষ্টির প্রধান অঙ্গ জ্ঞানের বিষয় আলোচনা। সংবাদপত্র পাঠ এজন্য আবশাকীয়। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ ব্যক্তির মধ্যে সংবাদপত্র পাঠের অভ্যাস নাই। তাই স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ হইতে উপেন্দ্রনাথ অনেকেই উচ্চ ধরনের পত্রিকা বাহির করিয়াছেন। কিন্তু তাহা টিঁকিয়া থাকে নাই।

আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এই সকল সংবাদের বানান ও ভাষা অপরিবর্তিত।
 
 


 

Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

 
অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.