উত্তর কলকাতা
দমদম লাইব্রেরি
শতবর্ষে পা
তবর্ষে পা দিল ‘দমদম লাইব্রেরি ও লিটারারি ক্লাব’। সেই উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যপুস্তক পাঠাগার গড়ে তোলায় উদ্যোগী হয়েছেন গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ। ৩১ অগস্ট সকালে গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণ থেকে স্থানীয় মানুষ ও বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শোভাযাত্রা দিয়ে সূচনা হল শতবর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠান। আগামী এক বছর ধরে হবে নানা অনুষ্ঠান। পাশাপাশিই চলবে পাঠ্যপুস্তক পাঠাগার গড়ে তোলার কাজ, জানালেন সম্পাদক তড়িৎ মুখোপাধ্যায়।
প্রায় পাঁচশো সদস্যের ওই গ্রন্থাগারে বর্তমানে রয়েছে ২০,০০০ বাংলা ও ইংরেজি বই-পত্রপত্রিকা। রয়েছে আলাদা একটি কিশোর বিভাগও। সম্পাদক বললেন, ‘‘সদস্যদের অনুদানেই চলে এই পাঠাগার। শতবর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠান করে ও স্মারক-পুস্তিকা প্রকাশের মাধ্যমে আমরা যে অনুদান সংগ্রহ করতে পারব, তার থেকেই কম্পিউটার বিজ্ঞানের বই-সহ একটি পাঠ্যপুস্তকের লাইব্রেরি করতে পারব বলে আশা করছি।’’

স্থানীয় মানুষের বই পড়ার চাহিদা মেটাতে ১৯১২-র ৩১ অগস্ট উপেন্দ্রনাথ সেন, জ্ঞানেন্দ্রনাথ দত্ত, কেশবচন্দ্র হাজরা ও কৃষ্ণ দত্ত দমদম ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের ৫৪ মনুজেন্দ্র দত্ত রোডে উপেন্দ্রনাথের বাড়িতেই গড়ে তোলেন ছোট একটি গ্রন্থাগার। টালির চালার ছোট্ট এক টুকরো ঘর, লন্ঠনের আলো আর অল্প কিছু বই এই নিয়েই যাত্রা আরম্ভ হয়েছিল গ্রন্থাগারটির। সেই সময়ে দমদম ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলে ছিল একটি ব্রিটিশ সেনাছাউনি। সেখানকার ইংরেজ আবাসিকদের মধ্যে জনপ্রিয় হল লাইব্রেরিটি। তাঁরা অনেক ইংরেজি বই দিয়ে সাহায্য করেন।
প্রথমে ছিল শুধু বই আদান-প্রদান ব্যবস্থা। ১৯৩৯ থেকে পত্র-পত্রিকা পড়ার পাঠকক্ষও শুরু হয়। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আরম্ভ হয়েছে। খবরের কাগজের পাশাপাশি একটি রেডিও বসানোর ব্যবস্থা হল। সে যুগে সাধারণ মানুষের ঘরে রেডিও থাকত না, তাই যুদ্ধের খবর পড়া ও শোনার জন্য বহু মানুষ ভিড় জমাতেন লাইব্রেরিতে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে প্রতিষ্ঠাতা উপেন্দ্রনাথের পরিবার ওই বাড়িটি লাইব্রেরির নামে দান করে দেন। পরে সেটি দ্বিতল ভবনে রূপান্তরিত হয়। ২০০০ সালে পুরনো বাড়িটি ভেঙে চার তলা বাড়ি তৈরি হয়েছে, তার উপরের তিনটি তলা জুড়েই রয়েছে গ্রন্থাগারটি।




অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.