বামেদের হাতছাড়া হতে পারে দু’টি পুরসভা
নির্বাচনে একটি পুরসভায় একটি আসনও পায়নি তৃণমূল। অন্যটিতে তারা ছিল সংখ্যালঘু। কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর এক বছরও কাটেনি, দু’টি পুরসভা তারাই দখল করতে চলেছে। বামেদের হাতছাড়া হতে চলেছে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও মেখলিগঞ্জের ওই দু’টি পুরসভা।
আলিপুরদুয়ার পুরসভা সিপিএম নেতৃত্বাধীন এবং মেখলিগঞ্জ ফরওয়ার্ড ব্লকের। সোমবার দু’টি পুরসভার সিপিএম, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং কংগ্রেসের কয়েকজন কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগ দিতেই ক্ষমতা বদলের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের তরফ থেকে দু’টি পুরসভাতেই অনাস্থা এনে বোর্ড দখলের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।
বাম কাউন্সিলরদের দলে টেনে মেখলিগঞ্জ পুরসভায় এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল। বর্তমান চেয়ারপার্সন ফরওয়ার্ড ব্লকের মিঠু সিংহ সরকার (অধিকারী) অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। স্বাভাবিক ভাবে অনাস্থা ভোটের দিকে এগোচ্ছে মেখলিগঞ্জ পুরসভা। বর্তমান চেয়ারপার্সন বলেন, “অন্যায় ভাবে বোর্ড দখল করার ছক কষা হয়েছে। পদত্যাগের কোনও প্রশ্নই নেই। অনাস্থা ভোটে অংশ নেব। লড়াই করেই আসন ছাড়ব।” মেখলিগঞ্জের বিধায়ক তথা ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা পরেশ অধিকারী এবং দলের জেলা সম্পাদক উদয়ন গুহ বলেন, “যাঁরা বিক্রি হয়েছেন, মানুষ তাঁদের ক্ষমা করবে না।”
তৃণমূল বাম বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলে ভোটাভুটি হবে। তাতে যা হওয়ার হবে। মানুষ সব দেখছে।
পদত্যাগের কোনও প্রশ্নই নেই। অনাস্থা ভোটে অংশ নেব। আমরা লড়াই করেই আসন ছাড়ব।
মেখলিগঞ্জ পুরসভায় গত পুরসভা নির্বাচনে ৯টি আসনের মধ্যে ফরওয়ার্ড ব্লক দখল করে ৬টি আসন, সিপিএম ২টি এবং কংগ্রেস ১টি। তৃণমূল ৯টি আসনে লড়াই করেও একটি আসন দখল করতে পারেনি। গত সোমবার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অমিতাভ রায়-সহ সিপিএমের ২ জন, ফরওয়ার্ড ব্লকের ২ জন এবং কংগ্রেসের ১ জন কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগ দিয়েছে। তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “ওই পুরসভার আরও কাউন্সিলরেরা যোগাযোগ করছেন। আইন মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।”
একই অবস্থা আলিপুরদুয়ারেও। তিন কংগ্রেস কাউন্সিলর দলবদল করায় আলিপুরদুয়ার পুরসভায় তৃণমূলের কাউন্সিলর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯। গত সেপ্টেম্বরে আলিপুরদুয়ার পুরসভা নির্বাচনে ২০টি আসনের মধ্য বামেরা ৮টি এবং তৃণমূল ও কংগ্রেস ৬টি করে আসন পায়। বোর্ড গঠনের দিন কংগ্রেস কাউন্সিলররা উপস্থিত না থাকায় বামেরা বোর্ড দখল করে। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্যের কার্যকরী সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, “বর্তমানে আলিপুরদুয়ার পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের সংখ্যা বেশি। আমরা শীঘ্রই বাম পুর বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনব।” শহরের ৯, ১৭ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলরেরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।
আলিপুরদুয়ার পুরসভার সিপিএমের চেয়ারম্যান অনিন্দ্য ভৌমিক বলেন, “তৃণমূল বাম বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলে ভোটাভুটি হবে। তাতে যা হওয়ার হবে। মানুষ সব দেখছে।” তবে পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা কংগ্রেস কাউন্সিলর দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “পুরসভায় বোর্ড গঠন করতে হলে কমপক্ষে ১১ জন কাউন্সিলর প্রয়োজন। কংগ্রেসের কাউন্সিলরদের ভাঙিয়ে তৃণমূল বর্তমানে ৯ জন হয়েছে। বামেরা ৮ এবং কংগ্রেসের ৩ জন কাউন্সিলর রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কীসের ভিত্তিতে তৃণমূল বোর্ড গঠনের দাবি করছে বুঝতে পারছি না।”
মেখলিগঞ্জ ও আলিপুরদুয়ার ফরওয়ার্ড ব্লকের দুর্গ বলেই পরিচিত। তৃণমূল জোর লড়াই করেও পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ে উত্তরবঙ্গে ফরওয়ার্ড ব্লকের ওই দুই দুর্গ ভাঙতে পারেনি। উদয়ন গুহ ও পরেশ অধিকারীও নিজেদের ক্ষমতাকেন্দ্র ধরে রাখতে পেরেছিলেন। কিন্তু তার মাত্র বছরখানেক কাটার আগেই এই দুর্গই তৃণমূল দখল করে নেবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যাওয়ার কারণ কী, তার খোঁজ করছেন বাম নেতারা।





First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.