নিউ টাউন-সল্টলেকে বাস ডুমুরের ফুল
ন্ধ্যা ছ’টা। ইকোপার্কের বাসস্ট্যান্ডে উল্টোডাঙামুখী বাসের অপেক্ষায় ছিলেন কাঁকুড়গাছির অরিন্দম দাস। সঙ্গে স্ত্রী। বাসস্ট্যান্ডে পর্যাপ্ত আলো নেই। নেই যাত্রী প্রতীক্ষালয়ও। তার মধ্যেই দাঁড়িয়ে চল্লিশ মিনিট। বাস এল বটে, ভিড়ের ঠেলায় ওঠাই গেল না তাতে। শেষ পর্যন্ত শাটল ট্যাক্সিই ভরসা।
রাত সাড়ে ৮টা। এসডিএফ বিল্ডিং মোড়ে দাঁড়িয়ে দুই তরুণী। পেশায় সফট্ওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বাড়ি বাঁশদ্রোণীতে। আধঘণ্টা দাঁড়িয়েও কোনও বাস না পেয়ে ট্যাক্সি খুঁজতে শুরু করলেন। পাঁচটি ট্যাক্সিকে দাঁড় করালেও অন্তত তিরিশ টাকা বেশি ভাড়া দাবি করলেন চালকরা। শেষে একটি বোলেরো গাড়ি এসে থামল। আরোহীরা অচেনা। তবু তা-ই ভরসা।
সকাল সাড়ে ৯টা। লাবণি বাসস্ট্যান্ডে জনা পঞ্চাশেক অফিসযাত্রীর জটলা। একটি বেসরকারি বাস আসতেই জনা দশেক ধাক্কাধাক্কি করে উঠে পড়লেন। বাকিরা ফের অপেক্ষায়। তাঁদের এক জন, স্থানীয় বাসিন্দা রমেন রায় বললেন, ‘লাবণি-সহ ১ নম্বর সেক্টরের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে বিবাদী বাগ হয়ে ধর্মতলা যায় মাত্র ১টি বেসরকারি বাস। তা-ও অফিস টাইমে ভিড়ে ওঠা যায় না। পুরনো সরকারি রুট এস ১৬ চালু হলেও সারা দিনে কখন সে বাস পাব জানি না।’’
বাসের জন্য হাপিত্যেশ অপেক্ষা। নিউ টাউনের ইকো পার্ক স্টপে। —নিজস্ব চিত্র।
সকাল হোক বা রাত, বাসের এমন আকালই চেনা ছবি সল্টলেক থেকে নিউ টাউন সর্বত্রই। দু’বছরে বাসের সংখ্যা কমে যাওয়া, রাত বাড়তেই বাসের আকাল, রুট বাড়লেও রুটপিছু বাস কম থাকা, দীর্ঘক্ষণের বিরতিতে বাস মেলা নিত্যযাত্রীদের অভিযোগের তালিকাটা নেহাত কম নয়। সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি মিলেছে বারবারই। কার্যক্ষেত্রে হয়নি। ফলে বিপত্তির চেহারাও বাড়ছে।
অভিযোগ, এরই সুযোগ নিয়ে অটোর দৌরাত্ম্যের পাশাপাশি রাত নামতেই বাড়ছে শাটল গাড়ির রমরমা। বিশেষত বিধাননগর, পাঁচ নম্বর সেক্টর থেকে নিউটাউনের মতো পরিকল্পিত শহরে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভাড়াও। তার সঙ্গে চালকদের দুর্ব্যবহার, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগ তো আছেই।
বিধাননগরের মূল কয়েকটি রাস্তা ধরেই রুটগুলির বাস চলে। ফলে বিভিন্ন ব্লকের বাসিন্দারা বাড়ির কাছে বাস পাবেন, এমনটা আশা করা যায়নি। তবুও বাম আমল থেকে সরকারি রুট ৯, এস ১৪, ১৬, এল ১৪এ-বি-সি বেসরকারি রুট ২০১ এর মতো বাস পরিষেবা ছিল। পরে বেসরকারি রুট যাদবপুর মিনি, ২১৫এ, ৭১, টিকিয়াপাড়া, জাপানিগেট, বেলগাছিয়া, বকুলতলা মিনি, ৩২এ, ৪৭/১, ১৩বি, ৩৯এ সরকারি রুট এস ১৯, ২২, ২৩ ও ই২-র মতো একাধিক রুট চালু করা হয়। যাতে বহিরাগতদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যা মেটে। কিন্তু রুটগুলির বিন্যাসে সার্বিক পরিকল্পনা না থাকায় সমস্যা মেটেনি। উপরন্তু পাঁচ নম্বর সেক্টর চালু হওয়ার পরে যাত্রী সংখ্যা এক লাফে কয়েক গুণ বাড়ে। যাতে বহিরাগতদের সঙ্গে সমস্যা বাড়ে বিধাননগরবাসীদেরও।
তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসেই সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সে অনুসারে হাওড়া, গড়িয়া, টালিগঞ্জ, ডানলপ, বারাসত থেকে বিধাননগর ও নিউ টাউনে একাধিক সরকারি-বেসরকারি রুট চালু করে। কিন্তু বিধাননগর পুরসভা দাবি করে, পুরনো বন্ধ হওয়া রুটও চালু করতে হবে। সে দাবি মেনে পরিবহণ দফতর বেশ কিছু পুরনো রুটও চালু করে। কিন্তু অভিযোগ, সমস্যা সে তিমিরেই রয়ে গিয়েছে। বাসিন্দাদের একাধিক অভিযোগ, প্রথমত, অধিকাংশ বাসই যাত্রী টানতে পাঁচ নম্বর সেক্টরে যায়। অফিস টাইমে ভিড়ে ওঠা যায় না। বিধাননগরের চারটি সেক্টরে বাস পরিষেবার মধ্যে কোনও সমন্বয় নেই। কোনও সেক্টরে অনেক রুট, কোথাও বা হাতে গোনা। দ্বিতীয়ত, বাস রুট একাধিক হলেও রুটপিছু বাসের সংখ্যা কম। একটি বাস গেলে পরেরটি কখন আসবে তার নিশ্চয়তা নেই। ফলে এক নজরে অনেক বাস চোখে পড়লেও আদপে তা সমস্যা মেটায় না। তৃতীয়ত, রাত বাড়লেই বাস কমে যায়। যদিও এ ক্ষেত্রে বাস চালক থেকে মালিকদের একাংশের অভিযোগ, বিধাননগরে রাতে বাস রাখা, টাকা-পয়সার হিসেব-সহ একাধিক কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। উপরন্তু রাতে যাত্রী তত হয় না। বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ এমন অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিয়ে লিখিত অভিযোগ আজও কেউ করেননি। অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর পাশাপাশিই বিধাননগরবাসীদের অভিযোগ উপনগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় সমস্যায় পড়ছে হাসপাতাল কিংবা স্কুল, কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। পাশাপাশি অধিকাংশ রুটই পাঁচ নম্বর সেক্টরমুখী। ফলে উপনগরীর বেশিরভাগ ব্লকই সে সব রুটের আওতার বাইরে। যেমন, তিন নম্বর সেক্টরে ১৬ নম্বর ট্যাঙ্ক, দক্ষিণ বিধাননগর থানার অনেক ব্লক থেকে উল্টোডাঙা, ধর্মতলা যেতে একটি-দু’টি বেসরকারি বাস।
আবাসিকদের সংগঠন বিধাননগর (সল্টলেক) ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কুমারশঙ্কর সাধু বলেন, “সকলেই বাড়ির সামনে বাস পাবেন, এমনটা সম্ভব নয়। কিন্তু অধিকাংশকে পরিষেবা দেওয়ার মতো পরিকল্পনাই হয়নি। সে কারণে রুট চিহ্নিত করে চাহিদা অনুসারে বাস পরিষেবা দিতে হবে।”
সমস্যা সমাধানে অবশ্য ফের আশ্বাস মিলেছে পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্রের কাছে। তিনি বলেন, “মাসখানেকের মধ্যেই নিউটাউন নতুন কিছু রুট চালু করা হবে। কিছু রুট যা দমদম বা বিমানবন্দর থেকে নিউটাউন হয়ে বাইপাসে চলে যাবে। কিছু নিউটাউন পর্যন্ত যাবে। পুরনো রুটেও বাস বাড়ানো হবে। বিধাননগরে ইতিমধ্যেই কিছু পুরনো রুট চালু করা হয়েছে। নতুন একাধিক রুট চালু করা হয়েছে। ইন্টারসিটি বাস পরিষেবাও চালু করব।’’

তথ্য: সোমনাথ চক্রবর্তী, আর্যভট্ট খান ও কাজল গুপ্ত
 
 
 


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.