আকারে বড় এবং স্বাদে উত্কৃষ্ট আগেকার দার্জিলিঙের কমলালেবু এখন আর সে ভাবে মেলে না। উন্নত গুণমানের দার্জিলিঙের ওই কমলা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর-ই ইচ্ছে এমনটা। শনিবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব ফ্লোরি কালচার অ্যান্ড এগ্রি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (কোফাম) পরিদর্শন করে এ কথা জানান উদ্যান পালন এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের মন্ত্রী সুব্রত সাহা। পুরনো দিনের উন্নত গুণমানের ওই কমলালেবুর চারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কেন্দ্রে তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও এ দিন মন্ত্রী জানান। পরবর্তীতে সরকারের তরফে চাষিদের মধ্যে চারা বিলি ও চাষের জন্য আর্থিক সাহায্যও করা হবে।
সুব্রতবাবু বলেন, “চায়ের পাশাপাশি দার্জিলিঙের কমলালেবুর কদর ছিল। এখন আর সেই কমলালেবু খুব একটা মেলে না। সেই কমলা ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগী। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টির উপর জোর দিতে বলেছেন। এটা তাঁর স্বপ্নের পরিকল্পনা।” ওই কমলালেবু উত্পাদন এবং রফতানির পরিকল্পনা রয়েছে বলে এ দিন সুব্রতবাবু জানিয়েছেন। চাষের জন্য উদ্যোগীদের তাঁরা সমস্ত রকম সাহায্য করবেন। প্রশিক্ষণ দেওয়া, চাষের পদ্ধতি শেখান, আর্থিক সহায়তারও আশ্বাস দেন তিনি।
কী ভাবে উত্পন্ন হবে আগেকার গুণমানের কমলালেবু? কোফামের প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প আধিকারিক জানিয়ে দেন দার্জিলিঙে এখনও কিছু বাগানে যে সব গাছে উন্নত প্রজাতির কমলা হয় তার খোঁজ চলছে। গত ৫০ বছর ধরে ওই সমস্ত বাগানের যথাযথ পরিচর্চা হয় না। তা ছাড়া গাছগুলি পুরনো হয়ে যাওয়ায় আগের মতো কমলালেবুও ধরছে না। তার মধ্যেই খুঁজে খেয়ে দেখে যেগুলি ভাল মনে হচ্ছে সেই সব কমলালেবু নিয়ে আসা হচ্ছে। তার বীজ থেকে টিসু কালচার তথা ক্লোন পদ্ধতিতে ল্যাবরেটরিতে ওই কমলার চারা তৈরি করা হচ্ছে। যাতে চারাটি কমলালেবুর মূল উত্স গাছের সম গুণমানের হয়। ইতিমধ্যেই সেই কাজ শুরু হয়েছে। তবে এই কাজে আরও সময় লাগবে। চারা থেকে যে গাছ হচ্ছে তাতে কমলা হলে তা পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত হতে চাইছে দফতর। এর পরেই পর্যাপ্ত চারা তৈরি করে তা বিলি করা হবে। কমলালেবু ছাড়াও স্ট্রবেরি চাষ, স্টিভিয়া চাষের মতো বিষয়গুলিতেও পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। |