জলপাইগুড়ির বজরাপাড়ায় বিস্ফোরণের পরে উত্তরবঙ্গ জুড়েই কেএলও-র সক্রিয়তা বেড়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। আজ, শুক্রবার বন্ধও ডেকেছে তারা। সম্প্রতি কোচবিহার শহর-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় বোমাতঙ্কের ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে নজরে এসেছে কোচবিহারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতুর রাতের বেলায় অন্ধকারে থাকার বিষয়টি।
সারি দিয়ে পথবাতি থাকলেও তা জ্বলে না। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ডুবে যায় ঘুঘুমারির তোর্সা সেতু। অসম-সহ ঊত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী তুফানগঞ্জে রায়ডাক নদীর উপরে, মারুগঞ্জে ঘরঘরিয়া নদীর উপরে ও চিলাখানায় কালজানি নদীর সেতুতেও এখন কোনও আলোর ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীদের পক্ষ থেকে বহু বার নানা মহলে আবেদন করা হলেও নতুন বাতি লাগানোর ব্যাপারে কেউই উদ্যোগী হননি। এত দিন তা নিয়ে কারও খুব হেলদোল না থাকলেও সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ ও সংলগ্ন অসমে নাশকতার নানা হুমকির পরে পুলিশ-প্রশাসন নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ২৬ ডিসেম্বর জলপাইগুড়ির বজরাপাড়ায় একটি সেতুর উপরেই বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ছ’জন বাসিন্দার।
ঘুঘুমারির আলোবিহীন তোর্সা সেতুতে সন্ধ্যার পরে নজরদারি চালাতেও প্রতি পদে সমস্যায় পড়েছে পুলিশ। পুলিশের তরফে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পুলিশ সুপারের মাধ্যমে তা পৌঁছেছে জেলাশাসকের দফতরেও। কোচবিহারের জেলাশাসক মোহন গাঁধী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।” কিন্তু কবে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা অবশ্য পুলিশের কাছে স্পষ্ট নয়। তত দিন অন্ধকারে টর্চ জ্বালিয়েই চলবে পুলিশি নজরদারির কাজ। পুলিশ সুপার অনুপ জায়সবাল বলেন, “প্রতিটি সেতুতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।” |
কোচবিহার থেকে মাথাভাঙা হয়ে শিলিগুড়ির পথে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতেই একই অবস্থা। একটি ঘুঘুমারির কাছে তোর্সা সেতু। কোচবিহার শহরে ঢোকার মুখে ওই সেতুতে আলোর সমস্ত রকম ব্যবস্থা রয়েছে। দুই পাশে অন্তত ২০টি খুঁটিতে বাতি লাগানো রয়েছে। দু’বছরের বেশি সময় ধরে তা জ্বলে না। ঘুঘুমারির বাসিন্দা তপন ভদ্র বলেন, “সেতুটি সমস্ত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার পরেও কী কারণে ওই সেতুর আলো ঠিক করা হচ্ছে না তা বোঝা যাচ্ছে না।” একই অবস্থা মাথাভাঙা শহরে ঢোকার ঠিক আগে মানসাই সেতুরও। ওই সেতুতেও এক সময় আলোর ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে নেই। এ ছাড়াও অসম-সহ ঊত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী তুফানগঞ্জে রায়ডাক নদীর উপরে, মারুগঞ্জে ঘরঘরিয়া নদীর উপরে ও চিলাখানায় কালজানি নদীর সেতুতেও কোনও আলোর ব্যবস্থা নেই। পুন্ডিবাড়ি থেকে সোনাপুর হয়ে শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে তোর্সা নদীর উপরে বড় সেতু রয়েছে। কয়েকটি কাঠের সেতুও আছে। সেগুলিতেও আলোর ব্যবস্থা নেই। অন্ধকার সেতুর পাশে দাঁড়িয়েই পুলিশকে বাসে, বাইকে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়।
২০০৩ সালে কেএলও সক্রিয় থাকার সময়ে কোচবিহারে সেতুতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। জলপাইগুড়ির বিস্ফোরণের পরে আজ, শুক্রবার বন্ধও ডেকেছে তারা। এই মুহূর্তে কেএলও কোচবিহারে হামলা চালাতে পারে বলে গোয়েন্দারা সন্দেহ করছেন। এক মাসে জেলায় একাধিক বোমাতঙ্কের ঘটনা ঘটেছে। ডিওয়াইএফ নেতা কাজল রায় বলেন, “কেএলও-র হুমকি নিয়ে প্রশাসন যেখানে সতর্ক রয়েছে, সেই সময় সেতুগুলিতে আলোর ব্যবস্থা করা দরকার। সেটাই আমরা আশা করি। বাস্তব পরিস্থিতি অন্য কথা বলছে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।”
সেতুগুলিতে বাতি না-থাকার কথা শুনেছেন পূর্ত দফতরের পরিসদীয় সচিব তথা বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি বলেন, “কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেগুলি কেন জ্বলছে না, সে ব্যপারে খোঁজ নেওয়া হবে। আলোর ব্যবস্থা দ্রুত করার ব্যাপারে উদ্যোগী হব।” |