মাও সন্ত্রাসে অচল বিট অফিস শালবনিতে
মাওবাদী ‘নেই’, কিন্তু আছে মাও-সন্ত্রাসের ক্ষত।
জঙ্গলমহলের অশান্তি পর্বে মাও সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বন দফতরের শালবনির করমশোল বিট অফিস। আজও সেই ক্ষতের চিহ্ন নিয়ে পড়ে রয়েছে অফিসের ঘরগুলি। সংস্কারের অভাবে ঘরের দেওয়ালের গা থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। আগাছায় ঘেরা ঘরগুলিতে সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ থেকে জল চুঁইয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিট অফিসগুলি সংস্কারের দাবি জানালেও কোনও কাজ হয়নি। সমস্যার কথা স্বীকার করে শালবনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেপাল সিংহ বলেন, “বিট অফিসটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। না-হলে ঘরগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তখন সমস্যা বাড়বে।”
শালবনির এই অফিসটি পুরোপুরি চালু না-থাকায় মাঝেমধ্যে নানা সমস্যাও দেখা দেয়। বন দফতর অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে, নতুন করে পরিকল্পনা করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব অফিস ঘরটি সংস্কার করা হবে। দফতরের মেদিনীপুর বিভাগের ডিএফও বিজয় সালিমঠ বলেন, “সমস্যার কথা জানি। আরও কয়েকটি বিট অফিস সংস্কার করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।”
তমলুকে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতর।—নিজস্ব চিত্র।
২০০৮ সালের শেষের দিক থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের প্রভাব বাড়তে থাকে। ওই সময় থেকে শুরু করে ২০১১ সালের গোড়া পর্যন্ত মাওবাদী এবং জনসাধারণের কমিটি জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় নাশকতামূলক কাজকর্ম চালায়। ফলে প্রচুর সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়। শালবনির এই বিট অফিসও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০১০ সালে করমশোল বিট অফিসে হামলা চালানো হয়। অফিসের কিছু চেয়ার-টেবিল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তখন জঙ্গলমহলের এই এলাকা ছিল মাওবাদীদের ‘মুক্তাঞ্চল’। গভীর জঙ্গল পেরিয়ে এলাকায় পৌঁছতে হয়। তাই নাশকতার খবর পেলেও আচমকা এলাকায় পৌঁছতে পারত না পুলিশ। আসার পথে যদি ফের হামলা হয়, এই ভাবনাও ছিল। ২০১০ সালে হামলার পর থেকে ওই বিট অফিসটি কার্যত অচল। এখন বিট অফিসারের পদটিই শূন্য। পাশের এলাকার বিট অফিসার এই বিটের কাজকর্ম দেখভাল করেন। অফিসে মাত্র দু’জন কর্মী রয়েছেন। তবে, জীর্ণ অফিস ঘরে রাতের বেলায় তাঁরা থাকেন না। তাঁরা অন্যত্র থাকেন। বন দফতরের এক আধিকারিক বলছিলেন, “করমশোল বিট অফিসটি সংস্কার করাই যায়। যে ভাবে ঘরগুলো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, তাতে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। হয়তো পুরনো ঘরগুলো ভেঙে নতুন ঘর করতে হবে। কিন্তু, অফিস ঘরটি মেরামত করেই বা কী হবে? কে থাকবেন ওই বিট অফিসে? মেদিনীপুর বিভাগে ৫০ শতাংশ কর্মী কম আছেন। দু’জনের কাজ একজনকে করতে হয়।” কর্মী কম থাকার কথা মেনে নিয়ে মেদিনীপুরের ডিএফও বলেন, “বিভাগে যতজন কর্মী থাকার কথা তা নেই, এটা ঠিক। বেশ কিছু শূন্যপদ আছে। এই পরিস্থিতির কথা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”
বন দফতরের রূপনারায়ণ বিভাগের ডিএফও রবীন্দ্রনাথ সাহা বলেন, “এক সময়ে প্রচুর সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বেশ কিছু বিট অফিস ভাঙচুর করা হয়। পরে অবশ্য তা মেরামত করা হয়েছে।” দফতরের এক আধিকারিক অবশ্য বলেন, “এখন গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ এলেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। নজরদারিও আগের থেকে বাড়ানো হয়েছে। বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যরাও নজরদারি বাড়িয়েছেন।”
আশ্বাস মিলেছে। তবে ওই বিট অফিস ঘর কবে সংস্কার হয়, সেটাই দেখার।


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.