প্রবন্ধ ১...
সমাজের গোপন ইচ্ছেতেই এই পাপাচার
কটি মেয়েকে দুর্বৃত্তেরা ধর্ষণ করল। সে নালিশ জানাতে গেল রাজার কাছে। রাজবাড়ি থেকে বেরোনোমাত্রই আবার সে ধর্ষিত হল। যেহেতু মেয়েটি ভিন রাজ্যের, যেহেতু সে শুচিতা হারিয়ে দেবতাদের বিরাগভাজন হয়েছে, যেহেতু নগরবাসীরা দুর্বৃত্তদের ভয় পায়, যেহেতু সেই প্রাক্-সভ্য সমাজে ন্যায় বা মানবিকতার বিস্তার নেই, মেয়েটি নগর থেকে বিতাড়িত হল। তাদের নতুন বাসস্থানেও জুটল এক দিকে বিদ্বেষ, অন্য দিকে হত্যার হুমকি। ইতিমধ্যে মেয়েটি আবিষ্কার করল বলাৎকারের ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা। চরম অবসাদে সে যখন ভেঙে পড়েছে, শত্রুরা তাকে পুড়িয়ে খুন করল। পুরো সময়টা রাজার পেয়াদারা তাকে উত্ত্যক্ত করেছে। সৎকারের পথেও তারা বাধা সৃষ্টি করল, পরিজনহীন দেহটা পড়ে রইল রাজপথে। অন্য দিকে এক দল নাগরিক মেয়েটির পক্ষ নিয়ে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হল। শেষে রাজা বললেন: বেশ, সৎকার করতে দিচ্ছি, কিন্তু ওই পরিবারের নির্বাসনও জারি করলাম সেই সঙ্গে।
পাঠককে দোহাই, খুব সাম্প্রতিক ঘটনার এই রূপান্তর সাহিত্যসৃষ্টি করতে নয়, অন্য তাড়নায়। পেশার তাগিদে কয়েক শতক বা সহস্রাব্দ আগেকার এমন আখ্যান ডজনে-ডজনে পড়েছি। তাতে স্থূল ভয়াবহ হিংসা ও যৌনলিপ্সার ছড়াছড়ি, পণ্ডিতদের টেনেটুনে তার পণ্ডিতি ব্যাখ্যা করতে হয়। কিন্তু দু-একটি বাদে এমন কাহিনি নেই, যাতে কোনও নারী ও তার পরিবারের এতগুলি বীভৎস অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমাদের শাসক ও অমাত্যবর্গকে অভিনন্দন, সোফোক্লেস বা এউরিপিদেস যা পারেননি, যৌনহিংসা ও লাঞ্ছনার তেমন ঠাসবুনোন উপাখ্যান তাঁরা রচনা করলেন। সংস্কৃতিমান বাঙালিরাও শ্লাঘা বোধ করবেন। নেহাত কাহিনির মাধ্যম সাহিত্য নয়, বাস্তব, তাই নোবেল জুটবে না।
কাহিনির সমকালীন রূপটির পুনরাবৃত্তি করব না। রাজ্যের প্রধান অমাত্যই তার চুম্বক উপহার দিয়েছেন। সেই বিবরণ অনুসারে:
১) রাজশক্তি আগাগোড়া মেয়েটি ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে (টীকা: পরিণামে মেয়েটি দ্বিতীয়বার ধর্ষিত, পরিবার গৃহচ্যুত);
২) পরিবারবর্গ যখন যা চেয়েছেন, সরকার তা-ই জুগিয়েছেন (যথা সুরক্ষা);
৩) সৎকারের ব্যাপারেও তাঁরা পরিবারের বাসনা শিরোধার্য করেছেন (যার সাক্ষী বর্ষশেষের রাতভর ঘটনা);
৪) মেয়েটির চিকিৎসার জন্য যথাসাধ্য করা হয়েছে।
বন্ধনীর মধ্যে সামান্য টীকাভাষ্য জুড়লাম, অন্য মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। শুধু প্রশ্ন, এমন বিবৃতির চেয়ে কিছু না বললেই ভাল ছিল না? অনুরূপ প্রশ্ন বর্ষশেষের রাতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। নিছক দমন বা অভিসন্ধির ভিত্তিতে এর ব্যাখ্যা চলে না; পুলিশের যেটুকু বিশ্বাসযোগ্যতা জনমানসে থাকলেও থাকতে পারত, এ যেন সেটুকু খোয়াতে তাঁদের আত্মঘাতী প্রয়াস। নারী ও শিশুদের কল্যাণের জন্য দু’টি পর্ষদ আছে, তারা ছিল সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। প্রথমটির কর্ত্রী নিষ্ফল দুঃখ প্রকাশ করেছেন। দ্বিতীয়টির দায়সারা ব্যাখ্যার সারমর্ম, আধিকারিকদের মধ্যে গোলযোগের জন্য তাদের কাজকর্ম শিকেয় উঠেছিল। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ বিনা তথ্যে করা উচিত নয়, করবও না। তবে ঊর্ধ্বতর কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন: ভগবান না করুন, কোনও নেতা-মন্ত্রীর আপনজন প্রচণ্ড অগ্নিদগ্ধ হলে ওই হাসপাতালে, ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসা হত কি? আর কোনও সরকারি এমনকী বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হত না? নির্ভয়াকে কিন্তু দিল্লির সরকার সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছিলেন।
আসল প্রশ্নটা আরও অনেক ব্যাপক। নেতা-আমলারা বার বার সওয়াল করছেন যে, দোষীদের প্রত্যেকে গ্রেফতার হয়েছে, তাদের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা চলছে। দুঃখের বিষয়, অবস্থা এতই সঙ্গিন যে এই আশ্বাসটুকু গৌণ হয়ে পড়েছে।
পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোয় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ফের বলাৎকার করল, অভিশপ্ত পরিবারটির প্রতি হুমকি ও লাঞ্ছনা অব্যাহত থাকল। আপাতবিশ্বাস্য অভিযোগ, পুলিশ তাতে সক্রিয়ভাবে যোগ দিল। এ তো শান্ত সমাজপ্রবাহে খুচরো আলোড়ন নয়, আইনের শাসনের সার্বিক সংকট। গ্রামে-নগরে বার্তা রটে গেছে, অবাধে অপরাধ সংঘটিত করা যাবে; প্রশাসন যদি সক্রিয় সমর্থন না-ও করে, অনাচারের বিরুদ্ধে যে-কোনও অভিযোগ বা প্রতিবাদকে দেখবে নিছক রাজনৈতিক বেয়াদপি হিসেবে। অর্থাৎ, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে হয় অবহেলা নয় আক্রমণ করা হবে, উৎসাহ পাবে দুষ্কৃতীর দল। অতএব মধ্যমগ্রাম নিয়ে তোলপাড় চলতে-চলতেই খোদ কলকাতায় কড়েয়া অঞ্চলে এক মহিলা ও তাঁর পরিবার অনুরূপ বিপদের সম্মুখীন। অন্যায় ভাড়ার প্রতিবাদ করায় এক ট্যাক্সিচালক তরুণী যাত্রীকে কার্যত অপহরণ করার সাহস পায়। প্রতিকারে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হয়তো নেওয়া হচ্ছে, অভিযুক্তেরা গ্রেফতার হয়েছে বা হবে; কিন্তু তাতে পরবর্তী অপরাধীর নিবৃত্তির লক্ষণ নেই। যে নৈতিক অবস্থান থেকে এই দূষণ দূর করা সম্ভব, যে যখনকার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তা থেকে ক্রমান্বয়ে সরে এসেছেন। স্বীকার করতেই হবে, এই অবস্থা তিন দিনে বা তিন বছরে সৃষ্ট হয়নি; বহুকাল সব পক্ষের সমর্থনে উত্তরোত্তর নিজস্ব গতিলাভ করে চলেছে, কোনও বিশেষ শাসকদল তাতে সাময়িক সিলমোহর লাগাচ্ছে মাত্র।
এই অবস্থার যাঁরা অসহায় শিকার, তাঁরা তাই একটা অবলম্বন খুঁজতে বাধ্য হন। পার্ক স্ট্রিটের নিগৃহীতা নিজের মধ্যেই অবলম্বন খুঁজে পেয়েছেন। জগাছা, কাটোয়া, মালদহ, আরও কত জায়গার কত নিগৃহীতা অবলম্বনের অভাবে জনবিস্মৃতির অন্ধকারে হারিয়ে গেছেন। কামদুনির নিগৃহীতার মরণোত্তর প্রাপ্তি, তাঁর স্মৃতি জাগিয়ে রেখেছে গ্রামবাসীদের সংগঠিত অরাজনৈতিক শক্তি। মধ্যমগ্রামের নিগৃহীতার পরিবার ভিন রাজ্যের, কলকাতায় নবাগত। তাঁর পিতার একমাত্র অবলম্বন ছিল পেশাগত ইউনিয়ন ও তার পরিচালক রাজনৈতিক দল। এতে একটা মৌলিক লাভ হয়েছে, ঘটনাটা সকলের মায় রাজ্যপালের গোচরে এসেছে, নইলে পরিবারটির চোখের জল মুছে নীরবে বিহার ফিরে যেতে হত। অবশ্যই এ জন্য তাঁদের একটা অপ্রত্যাশিত বাণিজ্য করতে হয়েছে। কন্যার মরদেহ গেছে দলীয় ইউনিয়নের দফতরে, তার মর্মপীড়া হয়েছে বিরোধী রাজনীতির উপজীব্য। জবাবে শাসকদল হৃদয়হীন অবান্তরতায় ভোটের অঙ্ক পর্যন্ত টেনে এনেছেন। অতীত ঘটনা নিয়ে অতীত শাসক, বর্তমান নিয়ে বর্তমানের দল স্বকৃত অনাচার সম্বন্ধে উভয় পক্ষ নীরব, প্রসঙ্গটা তুললে ফোঁস করে উঠছেন। তাই অপর পক্ষের মুণ্ডপাত করতে যে-দলই ধর্মকথা আওড়ান, তাঁদের আন্তরিকতায় আস্থা রাখা অসম্ভব, যেমন অসম্ভব আশা রাখা ভবিষ্যৎ সদিচ্ছা বা সংশোধন সম্বন্ধে। বরং এই ধারণাই দৃঢ়বদ্ধ হয়, দুই পক্ষ একই খেলা একই অভিনয় আপসে চালিয়ে যাবেন।
এর জের টেনে আমার শেষ প্রতিবেদন: রাজনীতির বাইরে, আবার বাইরেও নয়, কারণ বাইরে রাখা যাচ্ছে কোথায়? মধ্যমগ্রামের তরুণী অবশ্যই দুরাচারীর শিকার। কিন্তু সেই সঙ্গে সাধারণ গৃহী সমাজের নির্মম প্রতিক্রিয়াশীলতারও শিকার, যা ‘নষ্ট মেয়ে’-কে নির্বাসিত ও ধ্বংস করতে চায়। যে পাড়ায় গুন্ডারা মেয়েটিকে শাসিয়েছে ও সম্ভবত খুন করেছে, সেখানকার গৃহকর্ত্রীর আক্ষেপ, তিনি জানতেন না মেয়েটি এমন ‘কাণ্ড বাধিয়েছে’, জানলে তাকে তল্লাটে ঘেঁষতে দিতেন না। প্রথম ধর্ষণের দিন থেকে কী পুরনো কী নতুন ঠিকানায় মেয়েটি ও তার পরিবারকে শুধু হুমকি নয়, একটানা গঞ্জনা-অপমান সইতে হয়েছে, গৃহস্থালীর জলটুকু পর্যন্ত সংগ্রহ করতে হয়েছে অশেষ দুঃখে। এই অত্যাচার যারা চালিয়েছে, তারা আইনের চোখে অপরাধী নয়, পুলিশের খাতায় তাদের নাম নেই। কিন্তু শেষ বিচারে বলতে হয়, এই ছাপোষা ধর্মভীরু সমাজের গোপন ইচ্ছাতেই অপরাধীর দল প্রাণপ্রতিষ্ঠা করল।
তাই লজ্জা আমাদের সকলের। লজ্জা আমাদের মতো শিক্ষাজীবীর, কারণ আমাদের প্রদত্ত শিক্ষায় সমাজের অতল স্তরে এতটুকু আলো পৌঁছয়নি। লজ্জা শহুরে উদার উঁচকপালি শ্রেণির, কারণ আর্থিক-সামাজিক-রাজনৈতিক নানা কারণে আমরা সমাজের হীন শক্তিগুলির সঙ্গে অশেষ আপস করে চলেছি। লজ্জা আমাদের উচ্চশিক্ষিত, উচ্চ বেতনভুক, সুনিশ্চিত চাকুরিধন্য আমলাকুলের। কারণ, কী আশ্চর্য, নিজেরা কখনও কখনও সজ্জন হয়েও তাঁদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তাঁরা নিবেদন করছেন ভ্রষ্টাচার ও দুর্বৃত্তায়নের একনিষ্ঠ সেবায়। রাজনীতিকরা লজ্জাবোধ করেন কি না জানি না; করলেও তাঁদের হাঁড়ি-হেঁশেল-শয্যাগৃহের তাঁরা দখল নিয়েছেন, আন্তরিক চেষ্টায় দু-একটা উন্নতিও ঘটিয়েছেন (যেমন সাম্প্রদায়িক সম্পর্কে), তাদের মধ্যে উন্নত মানবতাবোধ স্থাপনের চেষ্টা করেনি, বরং দুটো ভোটের তাগিদে এক দিকে সংকীর্ণতা ও কুসংস্কার, অন্য দিকে হিংসা ও পাপাচারকে প্রশ্রয় দিয়েছেন ও ব্যবহার করে চলেছেন।
আর একটা লজ্জা আরও মর্মান্তিক, কারণ সে দিকেই নতুন দিশার সম্ভাবনা ছিল। সে লজ্জা আমাদের যুবসমাজের, তার শিক্ষিত বরপ্রাপ্ত অংশের। দিল্লির ধর্ষণকাণ্ডের পর সেখানকার যুবসমাজ সত্যিই শহর উদ্বেল করেছিল, সারা দেশে তথা কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে সতীর্থদের আন্দোলিত করেছিল। কামদুনির ঘটনার পর এখানে দেখা গেল তার ক্ষীণ প্রতিফলমাত্র। মধ্যমগ্রামের মেয়েটির মৃত্যুর পাঁচ দিন পর এই লেখা লিখছি। এখন পর্যন্ত যুবসমাজের তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ছে না।
রাতভর শবযাত্রা-কুনাট্যের একটি সাফাই হল, শববাহী গাড়ি শহরকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে পুলিশ বর্ষশেষের আমোদ-আহ্লাদে বিঘ্ন ঘটাতে চায়নি। তাদের বিচার অব্যর্থ। শীতের আমেজ এখনও আছে, জনগণের আড়মোড়া ভাঙেনি। সরকারপক্ষ আছে, বিরোধিপক্ষ আছে। সংবাদমাধ্যম আছে, আছেন গত কয়েক বছরের নতুন অবদান এক অনির্দিষ্ট বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়। প্রতিবাদের দায় তাঁরাই অপরিসর স্কন্ধে বহন করবেন।
রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন এক অন্য বর্ষশেষের কথা, যখন বিবর্ণ পাতার জঞ্জাল উড়িয়ে মুক্ত জীবনের সূচনা হবে। ওই নববর্ষ থেকে আমরা আর বছরের হিসাব করি না, রবীন্দ্ররচনার ক্লীবত্বপ্রাপ্তি ঘটাবার নিষ্ফল চেষ্টারও আমাদের অন্ত নেই। আমরা রুচিশীল শিক্ষাভিমানী জাতি, অতএব শিল্প-তত্ত্ব-কল্পনা নিয়ে নিবিষ্ট। বাস্তবে আমাদের উৎসাহ নেই, উদ্বেগ নেই তার অধঃপাতে। আমাদের ছেলেমেয়েরা বড় মেধাবী, স্বভূমে-পরভূমে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করে। মাঠ-ময়দানের ধুলো তারা গায়ে না মাখলেই আমাদের স্বস্তি, সমাজের পাঁক দূরের কথা। তবে একই সঙ্গে আমরা সমাজসচেতন জাতি, তাই সমাজ পরিচালনার দায় নিজেদের অদক্ষ হাতে না রেখে রাজনৈতিক দলগুলোকে আউটসোর্স করেছি। তারা চুটিয়ে সমাজ সামলায়, আমরা তাদের কীর্তিকলাপ নিয়ে নিরুপদ্রব চর্চা করি মাত্র।
এ গেল ‘আমাদের’ কথা। পাশাপাশি ‘ওদের’ জগতে ধর্ষণ হয়, খুন হয়, জীবন ও সম্মান খোয়া যায়। তাতে ‘আমাদের’ বড় যায় আসে না, কারণ দুই জগতের মাঝখানে একটা কাচের দেওয়াল আছে। চিন্তা একটাই: কাচ বড় ভঙ্গুর পদার্থ।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমেরিটাস অধ্যাপক


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.