হিংসার বলি ১৯, জিতছেন হাসিনাই

৫ জানুয়ারি
লাগামছাড়া হিংসার মধ্যেই রবিবার ভোট দিল বাংলাদেশ। ১৪৭টি আসনের ১৮ হাজারের কিছু বেশি ভোটকেন্দ্র নিয়ম মেনে সাতসকালেই খোলা হয়েছিল। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাতে গোনা কিছু ভোটার ভোট দিতে আসেন। সেই ভোটে প্রত্যাশা মতোই অনায়াসে জিতলেন আওয়ামি লিগের নেতৃত্বাধীন শাসক জোটের প্রার্থীরা। রংপুর ও গোপালগঞ্জের দুটি আসনেই বিপুল ব্যবধানে জিতেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে রংপুরের একটি আসনে জিতলেও লালমণির হাটে আওয়ামি লিগ প্রার্থী, প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেনের কাছে পরাজিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী হুসেইন মহম্মদ এরশাদ। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন তাঁর ভাই ও প্রাক্তন মন্ত্রী গোলাম মহম্মদ কাদের। বিএনপি-জামাত ভোটে না-আসায় জাতীয় পার্টিই বিরোধী আসনে বসবে নতুন সংসদে।
স্কুল পোড়ানোর পরে রবিবার সকাল থেকে শুরু হয় বুথে বুথে সশস্ত্র হামলা। রাজধানী ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বজ্রআঁটুনিতে হিংসা মারাত্মক আকার নিতে পারেনি। তবে ঢাকার বাইরে দেশের সর্বত্র ভোট বানচালের লক্ষ্যে মরণকামড় দেয় জামাতে ইসলামি ও তার সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবিরের কর্মীরা। পরিস্থিতি সামলাতে লাঠি, গুলি, কাঁদানে গ্যাস চালিয়েছে পুলিশ ও সেনা। সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৯ জন। ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার পুড়িয়ে দেওয়ায় সকাল দশটার মধ্যেই ১৪৭টি বুথের ভোট স্থগিত করে দেয় নির্বাচন কমিশন। বিকেল চারটেয় ভোট শেষ হওয়ার পরে বুথে বুথে শুরু হয় গণনা।
ভোটকেন্দ্রে হামলাকারীদের মোকাবিলায় পুলিশ। রবিবার বগুড়ায়। ছবি: রয়টার্স।
নির্বাচনী সরকার নিয়ে মতভেদের কারণে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামাত জোট ভোট বর্জন করায় ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে এক জন করে প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যান। তার মধ্যে ১৩২টিই পায় আওয়ামি লিগ ও তার শরিকরা। বাকি আসনগুলিতে একাধিক প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামগন্ধ ছিল না। এ দিকে নির্বাচন বাতিলের দাবিতে বিরোধী জোট আগের দিন থেকেই হরতাল ডাকে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ বড় একটা ভোটের লাইনে দাঁড়াতে উৎসাহ পাননি। নির্বাচন কমিশনের হিসেবে কোনও কোনও আসনে ভোটের গড় ৬০ শতাংশ ছুঁলেও অধিকাংশ আসনে দিনের শেষে ৩০-৩৫ শতাংশ ভোট পড়ে। বিরোধীদের আধিপত্য থাকা কয়েকটি আসনে ভোট পড়েছে ১৭-২০ শতাংশ। ৩৪টি বুথে কোনও ভোটার আসেননি সারা দিনে। বিএনপি নেতা ফারুকের দাবি, নির্বাচন কমিশন যাই বলুক, ৩-৫ শতাংশের বেশি মানুষ এ দিন ভোট দিতে আসেননি।
এই ‘প্রহসনের ভোট’ বাতিলের দাবিতে কাল থেকে ফের ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে বিএনপি-জামাত। খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ওসমান ফারুক এই হরতালের ডাক দিয়ে বলেন, “ফাঁকা ভোটকেন্দ্রগুলিই প্রমাণ করে মানুষ এই সরকার ও তাদের এই সাজানো নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে।” আওয়ামি লিগের নেতা প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর আবার ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট। তাঁর কথায়, অনেক সাধ্যসাধনা করেও বিরোধীদের নির্বাচনে আনা যায়নি। কিন্তু সংবিধানের শাসন সমুন্নত রাখতে এই নির্বাচন করাটা সরকারের বাধ্যবাধকতা ছিল। বিরোধীদের লাগাতার হিংসা ও হুমকিতে ভোটের হার যে কম হবে, তা ভাবা গিয়েছিল। কিন্তু তার পরেও বহু মানুষ ভোট দিতে এসেছেন। নির্বাচনটা যে করা গেল, সেটাই সব চেয়ে বড়।
প্রধান বিরোধী জোট না-থাকলেও কোথাও কোথাও বুথ দখল ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ মিলেছে। এ বিষয়ে আওয়ামি লিগের থেকে এগিয়ে ছিলেন এরশাদের জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা। কোনও কোনও বুথে সকাল এগারোটার মধ্যেই ৯০ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছে। কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাড়ানোর পরে ভোটাররা বুথে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের ভোট পড়ে গিয়েছে।
সবই ছিল, শুধু ভোটারেরই উৎসাহ ছিল না বাংলাদেশে রবিবারের এই ভোটে।

পুরনো খবর:



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.