দমকল ‘নিধিরাম’ই দেখাল অগ্নিকাণ্ড
সিঁড়ি দিয়ে ওঠার মুখটা ভরে গিয়েছে কালো ধোঁয়ায়। প্রাণ বাঁচাতে ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন জনা দশেক লোক। বৃহস্পতিবার সকালে ধর্মতলা এলাকার এক বহুতলে এমন দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠেছিলেন স্থানীয়েরা। তবে সময় মতো দমকল পৌঁছনোয় বড় বিপদ ঘটেনি। কিন্তু এ দিনের ঘটনা ফের প্রমাণ করল স্টিফেন কোর্ট বা আমরির মতো ঘটনার পরেও শহরের বহুতলগুলির অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে। এ দিনই দুপুরে আগুন লেগে ভস্মীভূত হয়ে যায় ট্যাংরার একটি ছাপাখানা।

অগ্নিকাণ্ডের পরে ট্যাংরার সেই ছাপাখানা।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল দশটায় লেনিন সরণির ওই বহুতলের মিটার বক্সে আগুন লাগে। বিদ্যুতের তার বেয়ে আগুন পৌঁছয় উপরে। তার পোড়া ধোঁয়ায় বাড়িটির সিঁড়ি ও সংলগ্ন এলাকা ঢেকে যায়। ফলে ভিতরের লোকজন সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারেননি। স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পৌঁছয় দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন। যায় কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা দলও। মই দিয়ে ছাদে থাকা এক শিশু-সহ দশ জনকে নামিয়ে এনে পিজিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ধোঁয়া কিছুটা কমলে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসেন আটকে পড়া বাকিরাও। বাড়িটিতে মোট ৩৫ জন আটকে ছিলেন বলে দমকল জানিয়েছে। এ দিন ঘটনাস্থলে যান দমকলের ডিজি দুর্গাপ্রসাদ তারানিয়া, এডিজি গোপাল ভট্টাচার্য এবং কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের কর্তারা।
এগারোটা নাগাদ আগুন নিভলে ওই বহুতলের ভিতরে ঢুকে দেখা যায়, এক চিলতে সিঁড়ি। নীচ থেকে দলা পাকিয়ে উপরে উঠে গিয়েছে বিদ্যুতের তার। সেই তার ও মিটার বক্স পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বাড়িটিতে একটি অফিস ছাড়াও ব্যাঙ্ক এবং বেসরকারি হোটেল রয়েছে।
প্রসঙ্গত, স্টিফেন কোর্ট এবং আমরি কাণ্ডের পরে শহরের অগ্নি-সুরক্ষা নিয়ে তৎপর হয়েছিল দমকল ও প্রশাসন। কিন্তু এ দিনের ঘটনার পরে দমকল-কর্তাদের একাংশ স্বীকার করেন, সময় মতো না পৌঁছলে ফের একটা স্টিফেন কোর্টের মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।

লেনিন সরণির পুড়ে যাওয়া বহুতলে দমকলের পরিদর্শন। বৃহস্পতিবার।
লেনিন সরণির বাড়িটির কি দমকলের ছাড়পত্র ছিল?
উত্তরে দমকলের এডিজি গোপাল ভট্টাচার্য বলেন, “সব সময় নেতিবাচক কথা বলবেন না। ইতিবাচক দিকটাও দেখবেন।” পুরসভার বক্তব্যও প্রায় একই রকম। বিল্ডিং বিভাগের ডিজি (এক) অনিন্দ্য কারফর্মা বলেন, “পুলিশের কাজ শেষ হলে তাঁদের অনুমতি নিয়ে ওই বাড়িটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ দিনই দুপুর ১টা নাগাদ ট্যাংরার দেবেন্দ্রচন্দ্র দে রোডে একটি ছাপাখানা ভস্মীভূত হয়ে যায়। তবে হতাহতের খবর নেই। অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাহীন ওই ছাপাখানায় প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল বলে দমকল জানায়। ঘটনার সময়ে ছাপাখানায় ৬ জন কর্মী কাজ করছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান দমকলমন্ত্রী জাভেদ খান, তৃণমূল বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা ও মেয়র পারিষদ (বস্তি) স্বপন সমদ্দার। জাভেদ খান বলেন, “মনে হল অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। সব খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।”

—নিজস্ব চিত্র।
 
 
 


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.