স্মৃতির সরণি বেয়ে স্বচ্ছন্দ বিচরণ
অর্থনীতিবিদ প্রণবের, সঙ্গী অমর্ত্য
ছেলেবেলায় অনেক দিন পর্যন্ত স্কুলে যাননি তিনি। বাউন্ডুলে ছেলেদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতেন মাঠেঘাটে। এক কালের সেই আদাড়ে বাদাড়ে ঘুরে বেড়ানো ছেলেটা এখন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে-র শিক্ষক অর্থনীতিবিদ প্রণব বর্ধন। স্মৃতিকথনে ছোটবেলার সে সব কথা লিখেছেন তিনি। যে বইয়ের নাম ‘স্মৃতিকণ্ডূয়ন’। সোমবার বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।
বই প্রকাশ করে আশি বছরের নোবেলজয়ীর কণ্ঠে রসিকতার সুর “অনুষ্ঠানে আসার আগে চলন্তিকা দেখে কণ্ডূয়ন মানেটা দেখে এলাম। চুলকোনো। প্রণবের কথা শুনে মনে হচ্ছে উনি ছেলেমেয়েদের স্কুলে যেতে নিরুৎসাহ করছেন আর অভিধান কিনতে উৎসাহ দিচ্ছেন!” প্রেক্ষাগৃহ জুড়ে হাসি আর হাততালির রোল।
প্রণব বর্ধনের ‘স্মৃতিকণ্ডূয়ন’-এর প্রকাশ অনুষ্ঠানে লেখকের সঙ্গে অমর্ত্য সেন।
সোমবার রোটারি সদনে সুমন বল্লভের তোলা ছবি।
প্রায় এক বছর ধরে ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রণববাবুর ওই স্মৃতিকথন প্রকাশিত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকই বই আকারে প্রকাশ করেছে আনন্দ পাবলিশার্স। রোটারি সদনে সেই অনুষ্ঠানে কৌশিক বসু, অনিন্দ্য সেন-সহ প্রথম সারির অনেক অর্থনীতিবিদই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অর্থনীতির ধারপাশে না গি য়ে মঞ্চে উপস্থিত দুই দিক্পাল অর্থনীতিবিদের স্মৃতিচারণ আর রসিকতার সুরই এ দিনের অনুষ্ঠানকে বেঁধে রাখে।
শুরুতেই প্রণববাবু বলেন, “আগে বই বেরোত। তারপরে কিনতাম বা গ্রন্থাগারে গিয়ে পড়তাম। এখন দেখি বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হয়। শেষের কবিতায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন ‘এ তো আগমন নয়, এ যে আবির্ভাব’। আজকাল বইয়ের আবির্ভাব ঘটে। আমার সৌভাগ্য যে অমর্ত্যদা আমার বই প্রকাশ করছেন।” পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে অবশ্য লেখক নিজেই জানান, এ ধরনের আনুষ্ঠানিকতাকে তিনি কিছুটা ভয় পান, এড়িয়ে চলেন।
ছেলেবেলার কথা থেকে অন্যান্য অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে আলাপচারিতা, নানান মজার ঘটনা স্মৃতির অলিন্দে স্বচ্ছন্দ বিচরণে এ দিন উঠে এল অমর্ত্য সেন আর প্রণব বর্ধনের জীবনের অনেক ঘটনা। জানা গেল, ছেলেবেলায় দু’জনেই থাকতেন শান্তিনিকেতনে। কিন্তু তাঁদের মেলামেশা ছিল কম। অমর্ত্য সেনের কথায়, “প্রণবের বাবা-মা ভাবতেন আমার সঙ্গে মিশলে চরিত্র খারাপ হয়ে যাবে। স্কুলে পড়তে পড়তে তখন যে কারও চরিত্র খারাপ করতে পারি, এটা ভেবে আমি নিজের প্রতি ভক্তিবান হয়ে পড়েছিলাম।” পাশে বসে প্রণববাবুর মুখে তখন লাজুক হাসি।
এ দিনের অনুষ্ঠানে নিজের লেখা বই থেকে তিনটি অংশ পড়ে শোনান প্রণববাবু। প্রথমে ছেলেবেলায় শান্তিনিকেতনে কাটানো সময়ের কথা, তারপরে কলেজ জীবনে কলকাতা ঘুরে বেড়ানোর কথা এবং একদম শেষে প্রবাসে থাকার কথা। যার বর্ণনা করতে গিয়ে অমর্ত্য সেন বলেন, “দীর্ঘদিন প্রণবের সাহচর্য পেয়েছি। তিনি স্মৃতি কথা লিখলে তা যে আনন্দময় অভিজ্ঞতা দেবে, সেটাই স্বাভাবিক। প্রণব তীব্র বুদ্ধির, চিন্তাশীল ব্যক্তি। ওঁর স্মৃতি পরিষ্কার, তিনি যেমন বহু জিনিস একসঙ্গে তুলে ধরতে পেরেছেন, সেটা সহজ নয়!” প্রণববাবুর এই বইকে ‘সুস্থ’ বলে অভিহিত করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ।
কাজের সূত্রে ৯৫ ভাগ কথাবার্তা, লেখালেখিই করতে হয় ইংরেজিতে। কিন্তু বাংলা লিখে যে আরাম পান, অন্য কোনও ভাষায় তা মেলে না বলে প্রণববাবু এ দিন জানান। বলেন, “একটা সময়ে বাংলা চিঠি লেখার সময় আমাদের বন্ধুদের মধ্যে শর্ত ছিল, একটিও ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। তাই, শুরুটা করতে একটু সময় লাগলেও বাংলা লেখার সুখকর অভিজ্ঞতার পাশাপাশি একটা সুপ্ত অভ্যাসও চলে আসে!”



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.