উত্তরে মমতা-ঢেউ চাপ বাড়াল কংগ্রেসের উপর
হরমপুরে অধীর চৌধুরীর কংগ্রেস দুর্গে জোড়া ঘাসফুল ফোটার খবর মিলেছিল সোমবারের পুরভোটের ফলে। আজ গনি পরিবারের খাসতালুক মালদহ এবং প্রিয়রঞ্জন-দীপা দাসমুন্সির রায়গঞ্জে এসে কংগ্রেসের জনসমর্থনে ভাঙন ধরানোর ক্ষেত্রে আরও কিছুটা এগোনোর ইঙ্গিত দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এই প্রথম মালদহ এবং রায়গঞ্জে পা রাখলেন তিনি। আর দু’জায়গাতেই তাঁকে ঘিরে যা হল, এক কথায় তা জনপ্লাবন। এই ভিড়, এই উল্লাস যদি জনসমর্থনের কিছুমাত্র ইঙ্গিত হয়ে থাকে, তবে বলতেই হবে, এই দুই জায়গায় আগামী লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস চাপে পড়ল। এই চাপ বোঝা গিয়েছে বিভিন্ন কংগ্রেস নেতার প্রতিক্রিয়াতেও। মালদহ বা রায়গঞ্জে মমতাকে ঘিরে বিপুল উন্মাদনা তাঁরা কেউই অস্বীকার করতে পারেননি। নিজেদের মতো করে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
মালদহের বৃন্দাবনী ময়দানের সরকারি অনুষ্ঠানে
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার। ছবি: মনোজ মুখোপাধ্যায়।
জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক এবং সরকারি সাহায্যদান প্রকল্প নিয়ে গোটা রাজ্যের সব জেলায় ঘুরছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই উপলক্ষে তাঁর আজকের কর্মসূচি ছিল মালদহ শহর এবং উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ঘেঁষা কর্ণজোড়ায়। কলকাতা থেকে হেলিকপ্টারে মালদহ কলেজ মাঠে নেমে প্রথমে প্রশাসনিক বৈঠক, তার পর সহায়তা দান উপলক্ষে জনসভা। ভিড়ের বহর শুরু হয়েছিল হেলিপ্যাড থেকেই। প্রশাসনিক বৈঠক সেরে যখন তিনি বৃন্দাবনী মাঠের জনসভায় রওনা দেন, পথের দু’পাশ তখন লোকারণ্য। মাঠেও তিলধারণের স্থান নেই। গাদাগাদি ভিড়ে যে কোনও সময় অঘটন ঘটার মতো পরিস্থিতি।
লোকসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় প্রয়াত বরকত গনি খানের জমিতে দাঁড়িয়ে মমতা সেই সমাবেশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে ভুল করেননি। তিনি বলেন, “মালদহ জেলা বরকতদার জেলা। বরকতদার বাড়িতে অনেক বার এসেছি। বরকতদাকে আমি খুব শ্রদ্ধা করতাম। বরকতদাও আমাকে খুব স্নেহ করতেন। বরকতদা মালদহে ছিলেন বলেই আমি এখানে কিছু করিনি। আমি অনেক ঘটনার সাক্ষী। এখন আমি মালদহের জন্য কাজ করতে চাই। আগামী দিনে আপনাদের ঘরের মেয়ে হয়ে থাকব।”
মালদহের পথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
হেলিকপ্টার। মঙ্গলবার। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক।
এর পরেই চিঁড়েচ্যাপ্টা ভিড়ের উদ্দেশে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন: “বলুন, আপনাদের কাছে আবার আসব তো?” সমর্থনের আওয়াজটা শোনা গেল প্রায় সমুদ্রগর্জনের মতো। তবে কংগ্রেস নেতা তথা সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী বলেন, “এখন ওঁরা ক্ষমতায় আছেন। আজ এটা করে দেব, ওটা করে দেব এই আশা দেখিয়ে মাঠে লোক টানা হয়েছিল। যাঁরা মমতাকে পছন্দ করেন না, তাঁরাও এ দিন মাঠে ভিড় জমিয়েছিলেন। এতে আমাদের খুব বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ, মালদহের জনসাধারণ জানেন তাঁরা কোথায় ভোট দেবেন।” আর এক কংগ্রেস সাংসদ মৌসম বেনজির নূরও বলেন, “তৃণমূল ব্যবস্থা করে মাঠে লোক এনেছে। তবে এতে ভয়ের কোনও কারণ নেই। সরকারি টাকায় প্রশাসনিক বৈঠক ও দলীয় জনসভা করে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন মুখ্যমন্ত্রী।” যদিও মালদহ থেকে রায়গঞ্জের পথে জনসমুদ্র সাঁতরে এল মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়। মালদহের গাজল, উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার পেরিয়ে রায়গঞ্জে পৌঁছতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা বেজে গেল। পথের দু’পাশে আগাগোড়াই আবালবৃদ্ধবণিতার ভিড় উপচে পড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় চোখে পড়ছে তাঁর ছবি লাগানো বড় বড় তোরণ। রায়গঞ্জের রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় শাঁখ-উলু-ঢাকের বাদ্যি তো ছিলই, সুসজ্জিত মেয়েরা বরণডালা সাজিয়ে, প্রদীপ জ্বেলে তাঁকে স্বাগত জানাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মমতা অবশ্য এ দিন এখানে কোনও জনসভা করেননি। শুধু প্রশাসনিক বৈঠক করেন।
সরকারি অনুদান বিলি উপলক্ষে তাঁর সভা হবে আগামিকাল। গত পঞ্চায়েত ভোটের নিরিখেও রায়গঞ্জ লোকসভা এলাকায় কংগ্রেস এবং বামের চেয়ে তৃণমূল পিছিয়ে। তবে মমতার রায়গঞ্জ সফরের হাওয়া দেখে তৃণমূল নেতাদের মনে হচ্ছে, পরিস্থিতি আর আগের মতো নেই। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় যেমন বললেন, “তৃণমূলের জমি শক্ত হচ্ছে, এটা প্রমাণিত। আর সেটা হলে অ-বাম ভোটের সিংহভাগই তৃণমূলের ঘরে আসবে।” দীপা-ঘনিষ্ঠ রায়গঞ্জের বিধায়ক তথা উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত অবশ্য বিষয়টিকে হাল্কা করে দেখাতে চান। মমতার জন্য যে ব্যাপক ভিড় হয়েছে সেটা মেনে নিয়েও তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় ভিড় নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। তবে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীদের দেখার জন্য অনেক মানুষ ভিড় করেন।”



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.