পর্যটন মরসুমে প্রচারে উদ্যোগ
শীতের মিঠে রোদ পিঠে মেখে ঘর থেকে দু’পা ফেলে বেড়িয়ে পড়ার দিন এসে গেল। বছর শেষের পর্যটনের মরশুম হতে অপেক্ষা শুধু কয়েকটা সপ্তাহের। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হতে যা দেরি। তারপর দু-তিন দিনের ছোট ছোট ট্যুরে বেড়িয়ে পড়া। তাই বছর শেষের অতিথিদের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে নদিয়ার নবদ্বীপ-মায়াপুরের মঠ-মন্দির, বেথুয়াডহরি বা বাহাদুরপুরের অভয়ারণ্য অথবা কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ি বা চার্চ। বিদেশি পর্যটকদের বিশেষ পছন্দের নবদ্বীপ-মায়াপুর-সহ নদিয়ার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন যেমন সরকারি ভাবে কাজ করছে, তেমনই বেসরকারি ভাবে বিভিন্ন মঠ-মন্দির বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও উদ্যোগী হয়েছেন পর্যটন মানচিত্রে নদিয়াকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে।
শীতের পর্যটনকে কাজে লাগাতে উদ্যোগী ব্যবসায়ীরাও। ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সম্পাদক গোকুলবিহারী সাহা বলেন, “আমাদের জেলায় শিল্প নেই, অর্থনীতি বাণিজ্য নির্ভর। তাই জেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলি নদিয়ার অর্থনীতির বিকল্প আশ্রয় হতেই পারে। সেই সময় এখন এসেছে।” সেই সঙ্গেই গোকুলবাবু বলেন, “কিন্তু সময়ের এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পে জোয়ার আনতে উপযুক্ত ব্যবস্থাও নিতে হবে। প্রতিটি জায়গায় থাকার ভাল ব্যবস্থা, সহজে যাতায়াতের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তার সঙ্গে জোর দিতে হবে সেই জায়গাটি সম্পর্কে প্রচারের দিকে, যাতে মানুষ আকৃষ্ট হন।”
যদিও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অধিকাংশের কাছে নদিয়া মানেই গঙ্গার পূর্ব পাড়ে মায়াপুরের ইস্কন মন্দির আর পশ্চিম পাড়ে নবদ্বীপে চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মভুমি। কিন্তু বাকি জেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা পলাশীর ঐতিহাসিক প্রান্তর, বেথুয়াডহরির সংরক্ষিত বনাঞ্চল বা কৃষ্ণনগরে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের রাজপ্রাসাদ, শিবনিবাসের এশিয়ার বৃহত্তম শিবলিঙ্গ, ঘূর্ণির পুতুলপট্টি সবই উপেক্ষিত থাকে পর্যটকদের কাছে। এ নিয়ে স্থানীয় মানুষ থেকে ব্যবসায়ী--ক্ষুব্ধ সবাই। তাঁদের অভিযোগ, পরিকাঠামো বা প্রচার কোনও বিষয়েই উপযুক্ত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
প্রায় একই সুরে হোটেল ব্যবসায়ীদের রাজ্য সংগঠনের এবং একই সঙ্গে নদিয়া জেলা সম্পাদক প্রসেনজিৎ সরকার বলেন, “পর্যটকদের কাছে জেলার বিভিন্ন স্থানকে আকর্ষণীয় করে তুলতে আমরাও বিনিয়োগ করব। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে আমরা রাজ্য সরকারের কাছে কিছু প্রস্তাবও দিয়েছি। যেমন নবদ্বীপ মায়াপুরের পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে ওড়িশা বা গোয়ার ‘বিচ ফেস্টিভ্যালের’ ধরনে গঙ্গা উৎসব বা নদী উৎসব হতে পারে। সেখানে বাণিজ্যের পাশাপাশি নদীকে দূষণ ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্যও কাজ করা যেতে পারে।” তাঁর ইচ্ছা জেলার বিভিন্ন নদীকে পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হোক। প্রসেনজিৎবাবু বলেন, “নদী পথে কয়লা পরিবহণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আমরাও সাজানো লঞ্চে করে পর্যটকদের নবদ্বীপ-মায়াপুর-কৃষ্ণনগর-পলাশি হয়ে মুর্শিদাবাদ-হাজারদুয়ারি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে রাজি আছি।” জেলাশাসক পি বি সালিম অবশ্য বলেছেন, “নদিয়ার পর্যটন সম্ভাবনার কথা মনে রেখে জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানকে ঢেলে সাজা হচ্ছে। যেমন এর মধ্যে পলাশিতে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়া হচ্ছে পলাশি যুদ্ধের ‘ওয়ার মেমোরিয়াল’ এবং ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’। ঘূর্ণিতে তৈরী হচ্ছে শিল্পগ্রাম। নবদ্বীপ-হুলোরঘাট-স্বরূপগঞ্জ ঘাটের চেহারার আমূল রদবদল ঘটানোর পরিকল্পনা এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। এগুলির প্রতিটি প্রায় কোটি টাকার কাজ।” জেলাশাসক আরও জানান, জেলার মধ্যে দিয়ে যাওয়া জাতীয় সড়ক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ধারে সংশ্লিষ্ট এলাকার পর্যটন কেন্দ্র বিষয়ে ছবি ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সম্বলিত বোর্ড লাগানো হচ্ছে। হাউসবোটে করে ঘূর্ণি থেকে মায়াপুর হয়ে নবদ্বীপে যাওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। তিনি জানান, সব কিছু ঠিকঠাক চললে নতুন বছরেই পর্যটকেরা এই সুযোগ পেতে চলেছেন।



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.