ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানে যে সমস্ত ওষুধ পাওয়া যায় চিকিৎসকেরা তা লিখছেন না। চিকিৎসকদের জন্য অনেক সময় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এমনই অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আচমকা রামপুরহাট হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়ক নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে সিএমওএইচ এবং সুপারের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিধায়ককে বলতে শোনা যায়, এ রকম চলতে থাকলে বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনবেন। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রামপুরহাট মহকুমা হাসপাতালকে জেলা হাসপাতাল ঘোষণা করেছিলেন। ক্ষুব্ধ আশিসবাবু হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএমওএইচ রমানাথ মাড্ডি এবং হাসপাতাল সুপার হিমাদ্রি হালদারকে বলেন, “রেফার করা নিয়েও অনেক অভিযোগ উঠছে। আপনারা চিকিৎসকদের সতর্ক করে দিয়ে অবিলম্বে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক ডাকুন। সেখানে আমিও থাকব।” রমানাথ মাড্ডি বলেন, “সাধারণত ১০০ জন রোগীর মধ্যে ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠানো হয়। তবে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। কতজন, কী কারণে রেফার হচ্ছে তাও দেখা হবে। ওষুধের বিষয়টিও প্রত্যেক চিকিৎসককে বলা হবে। তার পরেও যদি দেখা যায়, কোনও চিকিৎসক তা মানছেন না, তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” |
এ দিন দুপুর ১টা নাগাদ বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে এসে সিএমওএইচকে ডেকে নেন। প্রথমেই তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগ সংলগ্ন ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানে যান। সেখানেই হাসপাতাল সুপারকেও তিনি ডেকে নেন। প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাসে রামপুরহাট হাসপাতালে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান চালু হয়। ওষুধ বিক্রি নিয়ে জুন মাসে মারামারি হয়।
এ দিন বিধায়ককে কাছে পেয়ে বেশ কয়েক জন রোগীর আত্মীয়েরা পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আশিসবাবু এ দিন এসএনসিইউ ইউনিট ঘুরে দেখে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রমিত দে এবং কাজলকান্তি দাসদের পরামর্শ দেন, ছোট কাগজে বা চিরকুটে যদি কোনও ওষুধের নাম লেখা হয় তাতে চিকিৎসকদের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করতে হবে। হাসপাতাল ছাড়ার আগে বিধায়ক ‘দালালরাজ’ ঠেকাতে পুলিশ প্রশাসনকে আরও হাসপাতালে নজরদারি বাড়ানোর জন্য বলেন। হাসপাতালে চিকিৎসকদের দু’টি সংগঠন হয়েছে। তার একটি (প্রোগ্রেসিভ ডকটর্স অ্যাসোসিয়েশন) সংগঠনের জেলা সভাপতি তথা রামপুরহাট হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক দেবব্রত দাস বলেন, “সংগঠনের সদস্যদের সতর্ক করব। পাশাপাশি সিএমওএইচের সঙ্গে আমরা কথা বলব।” |