সমসাময়িক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক সমস্যার আধারে তৈরি ‘অলীক সুখ’ ছবিটি মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলেছে। ডাক্তারদের দায়িত্বহীনতা, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, অর্থলোভের নানা কাহিনি নানা সূত্রে শুনেছি। এই প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি।
আমার মা, বয়স তিপ্পান্ন, সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ। হঠাৎই তাঁর জ্বর আসতে শুরু করল। পারিবারিক চিকিৎসককে খবর দিতে তিনি তাঁর সময়সুযোগ মতো এসে ‘ভাইরাল ফিভার’ ডায়াগনসিস করে ওষুধপত্তর দিলেন। জ্বর কমল না। ক’দিন পরে ডাক্তারবাবু বললেন, ‘টাইফয়েড’। ইতিমধ্যে অবশ্য তাঁর পছন্দসই ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে হাজারো পরীক্ষা হচ্ছিল। টাইফয়েডের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে তিনি কোথায় যেন চলে গেলেন। ইতিমধ্যে মায়ের জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে, খাবার ইচ্ছেটা পুরোপুরি চলে গেছে। কয়েক দিন পর ডাক্তারবাবু গলব্লাডারে স্টোনের কথা বললেন। কোনও ওষুধে কাজ না-হওয়ায় তিনি অবশেষে জানালেন, ‘সিরোসিস অব লিভার’। বললেন, লিভার বদল ছাড়া রাস্তা নেই। তাঁর পছন্দসই জায়গায় অগুনতি পরীক্ষার নির্দেশ অবশ্য চলতেই থাকল।
মায়ের শারীরিক অবস্থা চরমে পৌঁছলে তাঁরই ব্যবস্থাপনায় ও অধীনে উত্তর কলকাতার এক হাসপাতালে মাঝরাতে মাকে ভর্তি করতে হল। লক্ষ করার বিষয়, এর আগে তিনি কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে মাকে রেফার করেননি। আমরা হাসপাতাল ইত্যাদির কথা বললে, তা কানেও তোলেননি। মায়ের অবস্থার কথা জেনে আমাদের শুভানুধ্যায়ী কয়েক জন আমাকে এস এস কে এম-এর গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজি বিভাগে মাকে এক বার দেখাতে বলেন। আমি সেখানে ব্যবস্থা পাকাপাকি করে প্রায় জোর করেই মাকে এই হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে এস এস কে এম-এ নিয়ে আসি।
সেখানকার চিকিৎসকেরা মায়ের অবস্থা দেখে আমাদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন। পরোক্ষ ভাবে ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসকের দীর্ঘসূত্রী চিকিৎসাজনিত অমনোযোগকেই তাঁরা দায়ী করেন। কিছু পরীক্ষানিরীক্ষার পর তাঁরা আমাদের জানান, মায়ের লিভারে যেটুকু গণ্ডগোল তা সামান্য ট্রিটমেন্টেই সেরে যেতে পারে। কিন্তু ইনফেকশনটা অন্য জায়গায়। যা তখনও ধরা যায়নি। ইতিমধ্যে মায়ের সেপ্টিসিমিয়া ধরা পড়েছে। তবু পি জি-র ডাক্তাররা অসম্ভব যত্নে মায়ের চিকিৎসা করতে থাকেন। এক দিন বিকেলে একমুখ বিষণ্ণতা নিয়ে তাঁরা বলেন, মূল উপসর্গ চেস্টে। এত দিন এত পরীক্ষানিরীক্ষার সময় আমাদের পারিবারিক চিকিৎসকের চেস্ট পরীক্ষার কথা মনেও হয়নি।
পি জি-র ডাক্তারবাবুদের অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টাতেও কোনও ফল হল না শেষ অবধি। তিপ্পান্ন বছরে একটি জীবন শেষ হয়ে গেল চিকিৎসকের অবহেলায়। আমাদের এই চিকিৎসক নাকি মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে মন্তব্য করেছেন, পি জি টি জি-তে নিয়ে গেলে এর চেয়ে ভাল আর কী হবে?
‘অলীক সুখ’-এ নানা ভাবে এই সব প্রশ্নই উঠে এসেছে। ডাক্তারবাবুরা এক দিনে ক’টা চেম্বারে বসেন, ক’জন রোগী দেখেন, রোগী পিছু কতটা সময় দেন, যে বিপুল টাকা ফি নেন তার কোনও রসিদ দেন কি? আয়করের রিটার্নে এই রোজগারের কতটা উল্লেখ থাকে? প্যাথলজিক্যাল টেস্ট ও এম আর আই, স্ক্যান ইত্যাদি থেকে কত কমিশন পান, ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে কোন কোন সুবিধা নিয়ে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন তার একটা অডিট থাকা জরুরি।
দেশের দরিদ্রতম মানুষের উপার্জনের ভাগ থাকে চিকিৎসককে ‘চিকিৎসক’ করে তুলতে। ইনটার্নের সময়সীমা পেরোলে এই সরল সত্যটুকু ভুলে যেতে তাঁদের সময় লাগে না। ব্যতিক্রমী অবশ্যই আছেন, তবে তাঁরা হাতে গোনা।
সুমন ভৌমিক। কলকাতা-৩
|
কবীর সুমনের ‘সুমনামি’ (৮-৯) প্রসঙ্গে এই চিঠি। এর আগের একটি রচনায় উনি লিখেছেন, গান্ধারকে সুর ধরে পর পর শুদ্ধ সুরগুলি লাগালে ভৈরবী রাগ হবে। এই রচনায় উনি তারই জের টেনেছেন। ভৈরবী রাগের আরোহ: সা, রে, গা-কোমল, মা, পা, ধা-কোমল, নি-কোমল, র্সা। অবরোহ: কোমল রে লাগবে।
রবীন্দ্রনাথের সংগীত-চিন্তা গ্রন্থে (বিশ্বভারতী, ১৯৬৬) তাঁকে লেখা ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের চিঠি ছাপা আছে। সেখানে ধূর্জটিবাবু লিখেছেন, ‘কানাড়ার সা রে গা-কোমল কি মা পা ধা-কোমলের হুবহু নকল? অথচ মধ্যমকে মধ্যে সুর ধরলে তাই হয়।’ ২৫ মার্চ ১৯৩৫-এ এই চিঠি লেখা। এর উত্তরে ৯ এপ্রিল রবীন্দ্রনাথ লেখেন, ‘মেনে নিলুম।’ অর্থাৎ গায়কের কণ্ঠের স্বাভাবিক স্বর সা ধরে কানাড়া গাইলে, সেটিই কানাড়া হবে। মধ্যমকে সা ধরলে সেটি কানাড়া হবে না। এটি ভৈরবীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সমস্ত রাগের ক্ষেত্রেও।
শ্রীশঙ্কর ভট্টাচার্য। কলকাতা-৩৯
|
যে কোনও দু’জন সেলেব্রিটির জন্ম বা মৃত্যু যদি একই দিনে হয়, সে ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি বেশি বিখ্যাত, তাঁর জন্মদিন বা মৃত্যুদিন অধিক গুরুত্বসহ পালিত হয়। আর অন্য জনের ক্ষেত্রে ওই দিনটি কোনও ক্রমে পালিত হয়। শুধু এ বছরই নয়, প্রতি বছরই এমনটাই চলতে থাকে। আমাদের জাতির জনক মহাত্মা গাঁধী এবং প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী উভয়েরই জন্ম ২ অক্টোবর। মহাত্মা গাঁধীর জন্মদিন জাঁকজমক সহকারে সারা দেশে পালিত হয়। শাস্ত্রীজির জন্মদিন পালিত হয় নমো নমো করে। |
মহানায়ক উত্তমকুমার ও চরিত্রাভিনেতা শমিত ভঞ্জ একই তারিখে প্রয়াত হন। উত্তমকুমারের মৃত্যুদিন মহা সমারোহে পালিত হলেও, শমিত ভঞ্জ থেকে যান অন্ধকারে। ২৮ সেপ্টেম্বর সংগীত শিল্পী লতা মঙ্গেশকরের জন্মদিন। ওই দিনেই জন্ম ভগৎ সিংহের। চ্যানেলে চ্যানেলে শিল্পী লতার গান প্রচারিত হলেও, ব্রাত্যই থেকে যান ভগৎ সিংহ। ঋষি অরবিন্দের জন্মদিন ১৫ অগস্ট। এ দিনটি ভারতের স্বাধীনতা দিবসও। |
নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভারতের স্বাধীনতা দিবস পালিত হলেও ঋষি অরবিন্দের কথা অনেকেরই মনে পড়ে না। ৩১ অক্টোবর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীর মৃত্যুদিন দেশজুড়ে পালিত হলেও আমরা ভুলে থাকি লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই পটেলকে। এই দিনেই তো তাঁর জন্ম!
পাঁচুগোপাল হাজরা। অশোকনগর, উত্তর চব্বিশ পরগনা |