কালজানি নদীর চরে মায়ের বোধন শুরু হয়েছে। ঢাকের বাদ্যিতে ঢাক বাজানোর মহড়ার সঙ্গে চলেছে নানা কসরতের অনুশীলন। পুজোর আর মাত্র দিন দশেক রয়েছে। সকাল সন্ধ্যা জোর কদমে চলেছে নিজেদের প্রস্তুত করার কাজ। শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আশুতোষপল্লির বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ পুজোর সময় ঢাক বাজান। তবে বেশিরভাগই ভিনরাজ্যে। সারা বছর রিকশা ও ভ্যান রিকশা চালালেও বছরের এই সময় বাড়তি উপার্জনের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন এই এলাকার ঢাকিরা। এলাকার প্রবীণ ঢাকি নারায়ণ রায় বলেন, “এলাকায় ১০০ জনের মত বাসিন্দা ঢাক বাজান। অধিকাংশ ঢাকি পুজোর সময় মেঘালয়, অসম, অরুণাচল প্রদেশে যান।” |
কসরত। আলিপুরদুয়ারে নারায়ণ দে’র তোলা ছবি। |
এলাকার বিশ্বজিৎ রায়, আশিস মোহন্ত, হেমলা বিশ্বাস, করণ রায়, গোপাল রায়রা কালজানি নদীর চরে নারায়ণ রায়ের তত্ত্বাবধানে ঢাক বাজানোর মহড়া শুরু করে দিয়েছেন। একটি ঢাকের উপর আরেকটি ঢাক রেখে তার উপরে দাঁড়িয়ে পিঠে নেওয়া ঢাক অনবরত ঘুরিয়ে তাঁরা নানা কসরৎ করছেন। ‘ওস্তাদে’র সঙ্গে পরামার্শ করে চলছে ঢাকা বাজানোর পালা। কখনও খেমটা, দাদরা, তেতাল, কাহারবা ঝাপতালের বিষয় নিয়ে চলছে পরাশমর্শ। নারায়ণবাবু বলেন, “আলিপুরদুয়ার ও আশেপাশের এলাকার পুজো কমিটির কর্তারা মণ্ডপ, প্রতিমা আলোক সজ্জার পিছনে অনেক খরচ করলেও ঢাকিদের নায্য পারিশ্রমিক দিতে চান না। তাই আমরা অসম-সহ অন্য রাজ্যের বড় বড় দুর্গা পুজোগুলিতে বাজাতে যাই।”
হেমলা বিশ্বাস, আশিস মোহন্তরা জানান, রিকশা চালিয়ে দিনে গড়ে ১৫০-২০০ টাকা উপার্জন হয়। পুজোর সময় পরিবারের হাসি মুখ দেখতে আমারা পুজোর ক’দিন বাড়ির বাইরে থাকি। ঢাক বাজিয়ে এক জন গড়ে ৮-৯ হাজার টাকা পাই। সেই জন্য আমাদের কঠিন পরিশ্রম করতে হয়ে। বোধনের তাল থেকে, আরতি, বিসর্জন সমস্ত তাল আলাদা করে শিখতে হয়। আরতির সময় প্রতিযোগী কোন তালে পা ফেলবেন তার দিকে নজর রেখে আমাদের বাজাতে হয়। বিসর্জনের সময় নানা ধরনের পোশাক পরে পথে কসরত দেখাতে হয়। রাজ্যের তুলনায় ভিন রাজ্যে আমাদের কদর বেশি। তাঁরা জানান, পুজোর ক’দিন আগে থেকে মহড়া শুরু হয় । সারা বছর ঘরে ঢাক পড়ে থাকে। নতুন করে চামড়া বসিয়ে তা বাজানো উপযুক্ত করা হয়। |